১২ এপ্রিল ২০২৩, ২২:২৭

‘বিদ্যানন্দ সবচেয়ে সফল প্রতিষ্ঠান, কিশোর কুমার আমার কাছে হিরো’

মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী  © ফাইল ছবি

হিন্দু নাম প্রসঙ্গে আজকে একটা ঘটনা বলি। আমার শুরুর দিকের কাজের সঙ্গী ছিলো সিনেমাটোগ্রাফার সুব্রত দাস রিপন। কিন্তু ও সব সময় ক্রেডিটে লিখতে বলতো ‘সুব্রত রিপন’! আমি কারণটা বুঝলেও চেপে থাকতাম। এটা নিয়ে আমার মধ্যে একটা অপরাধ-বোধ কাজ করতো। ওর প্রথম ফিচার ফিল্ম ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বারে’র সময় রিপন অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে শুট শেষ করে ভারতে যাওয়ার জন্য তৈরি হয় চিকিৎসার জন্য।

যেহেতু ওর ক্যান্সার প্রায় শেষ স্টেজে ধরা পড়ে, ফলে আমরা নিশ্চিত ছিলাম না ও বেঁচে আসতে পারবে কিনা। তো ভারতে যাওয়ার আগের দিন ও আমার সাথে দেখা করতে আসে আমার এডিটিং প্যানেলে। কিন্তু আমি কিছুতেই রিপনের সামনে যাইতে পারতেছিলাম না। ওর চোখের দিকে তাকানো আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিলো না। তারপরও আমি গেলাম। এক পর্যায়ে ওকে আলাদা করে বললাম, ‘রিপন, ক্রেডিটে তোর নাম কিন্তু এবার “সুব্রত দাস রিপন” দিবো, ওকে?’

রিপন অনুরোধ করলো, ‘বস, সুব্রত রিপন-ই দিয়েন প্লিজ!’ আমি ওর চোখের দিকে তাকাইয়া থাকলাম আর দেখলাম কেনো ও ওর নামের পদবী অংশটা লুকাইয়া রাখতে চায়। আমি ওরে জোর করলাম। কিন্তু ও রাজী হইলোই না। এই ঘটনাকে আপনাদের কাছে তুচ্ছ ঘটনা মনে হইলেও, এখানে লুকাইয়া আছে আমাদের কালেকটিভ ব্যর্থতার ইতিহাস। আমরা যে ওরে নিরাপদ বা কমফোর্টেবল ফিল করাইতে পারি নাই ওর নামের পদবী অংশ ব্যবহার করার জন্য, এটা আমার কাছে এখনো একটা চরম অস্বস্তির বিষয়। 

গতকাল থেকে অনেক গুলা লেখা দেখছি যেগুলোতে বিদ্যানন্দের কিশোর কুমার দাসকে কুরুচিপূর্ণ আক্রমণ করা হইছে। কোথাও কোথাও তার ধর্ম পরিচয়কে সরাসরি আক্রমণ করা হইছে! তখন আমার রিপনের কথা মনে পড়ে গেলো। 

বিদ্যানন্দের শুরু থেকেই এই প্রতিষ্ঠানের কাজের ভক্ত আমি এবং তিশা। তিশার পেজ আর আমার প্রোফাইল ঘাঁটলে এটা দেখতে পাবেন। আমার কাছে বিদ্যানন্দ স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে অপারেটর করা সবচেয়ে সফল প্রতিষ্ঠানগুলোর একটা। কিশোর কুমার দাস আমার কাছে হিরো। আমি তিশাকে বলছিও, যদি কখনো কারো জীবন নিয়ে ইন্সপায়ারিং ছবি বানাইতে হয়, তাহলে কিশোর কুমার দাস হচ্ছে আদর্শ সাবজেক্ট। 

বিদ্যানন্দ নিয়ে অনেক কন্সপিরেসি থিওরি ভেসে বেড়াচ্ছে। আমি এর সত্য-মিথ্যা কিছুই জানিনা। বাইরে থেকে যা দেখি, সেই জায়গা থেকে বলতে পারি, বিদ্যানন্দ এখনো আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটা। কিশোর আমার কাছে হিরো। এবং কিশোর আমার কাছে রিপনরে ফিরাইয়া আনলো এই চৈত্রের দুপুরে। 
কে জানে কিশোরই হয়তো রিপন। অথবা রিপনই আশুতোষ সুজন ওরফে আশুতোষ ভট্টাচার্য সুজন।

লেখক: চলচ্চিত্র নির্মাতা