১৬তম নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

১৬তম নিবন্ধন
মানবন্ধনে উপস্থিত ১৬তম শিক্ষম নিবন্ধনের প্রার্থীরা  © টিডিসি ফটো

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষার দাবিতে মানবন্ধন করেছেন এই নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফল না পাওয়া প্রার্থীরা। প্রার্থীদের অভিযোগ কাগজপত্র ঠিক থাকা এবং মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করার পরও তাদের ফেল করানো হয়েছে। তাই ফল পুনর্নিরীক্ষার দাবি তাদের

রোববার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে মৌখিক পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষার দাবিতে গঠিত কমিটির আহবায়ক জাবেদ মোশাররফ বলেন, করোনা ও নানা সমস্যার কারণে আমাদের ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের পরীক্ষার ফল পেতে দীর্ঘ আড়াই বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় ১ লাখ ৫৪ হাজারের প্রার্থী অংশগ্রহণ করলেও মাত্র ২০ হাজার ১৩১ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। চূড়ান্ত রেজাল্টের আগের দিন পর্যন্ত আমরা এনটিআরসিএ'র অফিসে যোগাযোগ করেছি। পরীক্ষায় পাস ফেলের বিষয়ে জানতে চাইলে কর্মকর্তা তখন বলেছিলেন, আমরা নিখুঁতভাবে রেজাল্ট প্রকাশ করার জন্য সময় নিচ্ছি, কাউকে এই বছর হতাশ করব না। ফেলের সংখ্যা সম্পর্কে তখন তারা বলেন, মাত্র ৫০-৬০ জনের মত প্রার্থী ফেল করেছে। অথচ ফল প্রকাশের পর দেখা গেল প্রায় ২ হাজার প্রার্থী ফেল করেছে। এতে আমাদের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে গেছে। বয়স শেষ হওয়ার কারণে এটাই ছিল অনেকের শেষ ভাইবা ও শেষ ভরসা।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাগজপত্র সবকিছুই ঠিক ছিল। ভাইবাও ভালো হয়েছে।  তাহলে আমাদের কেন ফেল করানো হয়েছে? দীর্ঘ আড়াই বছরের অপেক্ষার ফল এটা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। এটা আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন বোর্ডের রেজাল্টে আকাশ-পাতাল ব্যবধান দেখেছি। কোনো বোর্ডে ৩২ জনের মধ্যে ফেল করেছে ১৫ জন, আবার কোনো বোর্ডে শতভাগ পাস করেছে এটা আসলে মেনে নেওয়া যায় না। নানা বোর্ডে এক্সটার্নাল এর দূর ব্যবহারের কারণে পরীক্ষার্থীদের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। সবকিছু বিবেচনায় অবিলম্বে আমাদের সকলের মৌখিক পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষার দাবি জানাচ্ছি।

উক্ত কমিটির সেক্রেটারি মো. টনি উজ্জামান  তার বক্তব্যে বলেন, আমার সার্টিফিকেট দুটিতে ফার্স্ট ক্লাস, একটিতে সেকেন্ড ক্লাস। এছাড়া আমার ভোটার আইডি কার্ডে কোনো ধরনের সমস্যা নেই, আমার ভাইবা পরীক্ষাও ভালো হয়েছে। তারপরও আমাকে কেন ফেল করানো হলো। এর সুষ্ঠু তদন্ত স্বরুপ রেজাল্ট পুনর্নিরীক্ষার দাবি জানাচ্ছি।

মানবন্ধনে কমিটির সদস্য মো. মাহবুবুল আলম রাসেল বলেন, আমার সমস্ত কাগজপত্র ঠিক, ভাইবাতে ৫ টি প্রশ্নের মধ্যে ৪টির উত্তর দিতে পেরেছি। তারপরও আমাকে কেন ফেল করানো হলো জানিনা। আমার বয়স শেষ পর্যায়ে। এটাই আমার শেষ ভাইবা। নিজেকে ও নিজের পরিবারকে সান্তনা দেওয়ার ভাষা নেই। আমি চেয়ারম্যান স্যারের কাছে রেজাল্ট পুনর্নিরীক্ষার দাবি জানাচ্ছি।

মানবন্ধনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। মানবন্ধন শেষে মৌখিক পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষার দাবিতে এনটিআরসিএ'র চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা।


মন্তব্য

x