১৬ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৪৭

গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাশীদের অপেক্ষা বাড়ছে

এনটিআরসিএ  © ফাইল ফটো

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫৮ হাজার শূন্যপদ থাকলেও মামলা জটিলতায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারছে না বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কাজ আরও পেছাবে বলে এনটিআরসিএ’র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ওই সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা নিয়োগ প্রত্যাশীদের অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘ হচ্ছে। কেননা আদালতে দাখিল করা এনটিআরসিএর আর্জিটি রিভিউয়ের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে এখন এটি আবারও শুনানিতে উঠবে। রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি হতে বেশ সময় লাগবে। ফলে সহসাই যে তৃতীয় চক্রের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হচ্ছে না সেটি নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান মো. আকরাম হোসেন জানান, আদালত রায়ের উপর যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল সেখানে রিটকারীদের একক নিয়োগের কথা বলা হয়েছিল। এর আগে আদালত মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের কথা বলেছিলেন। দুইবার দুই ধরনের আদেশ দেয়ায় আমরা কোনটি ফলো করবো সেটি জানতেই আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালতে এই বিসয়ের নিষ্পত্তি হওয়ার পর গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কাজ শুরু হবে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এনটিআরসিএর পক্ষ থেকে আদালতে একটি আর্জি দেয়া হয়েছে। সেটি গ্রহণ করেছে আদালত। এর নম্বর ১৯৫/২০২০। তবে, শুনানির দিন তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা জানান, এর পূর্বে আদালতে আমরা যে রিট করেছিলাম সেটি নিষ্পত্তি হতে অনেক সময় লেগেছে। তাই বর্তমানে যে রিভিউ আবেদনটি গ্রহণ করেছে আদালত, সেটির নিষ্পত্তি হতেও যে অনেক সময় লেগে যাবে সেটি খুব সহজেই বোঝা যাচ্ছে। ফলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কাজও অনেক পিছিয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা একক নিয়োগের দাবিতে হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিটকারীদের পক্ষে রায় দেন। সেটি চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করে এনটিআরসিএ। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে সুপ্রিমকোর্ট রায়ের উপর কিছু পর্যবেক্ষণ দেয়। কিন্তু সেখানেও রিটকারীদের পক্ষেই রায় দেয়া হয়। এর আগে আদালতের দেয়া এক রায়ে মেধাক্রম অনুযায়ী নিয়োগের কথা বলা হয়। কোনটি ফলো করা হবে সেটি জানতে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয় এনিটআরসিএ।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের সাড়ে ১৯ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।