প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা এপ্রিলে
বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ উপাধ্যক্ষ, সুপার, সহকারী সুপার নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা আগামী এপ্রিল মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এপ্রিলের শুরুতেই এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ নিয়ে আয়োজিত সভায় প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিন দুপুর আড়াইটায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সম্মেলন কক্ষে শুরু হওয়া এ সভা বিকেল ৫টায় শেষ হয়।
জানতে চাইলে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সভায় প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এ রোডম্যাপ অনুযায়ী এনটিআরসিএ তাদের পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রশ্নপত্র তৈরি, প্রিন্ট থেকে শুরু করে পরীক্ষা কেন্দ্র ও অন্যান্য বিষয়ে প্রাথমিকভাবে রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।’
প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার সময়সূচি জানতে চাইলে মো. আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘সভায় কেউ কেউ ঈদের আগে মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছিল। তবে রমজানে প্রশ্নপত্র তৈরি, কেন্দ্র নির্ধারণ থেকে শুরু করে অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। এজন্য ঈদের পর এপ্রিল মাসে এ পরীক্ষা আয়োজনের মতামত এসেছে। আবেদনগ্রহণ শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত করে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
এদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এনটিআরসিএ। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫০ টাকা। পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদের শূন্যপদও নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার প্রকাশিত এনটিআরসিএর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ১৩ হাজার ৫৫৯টি শূন্যপদের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে শূন্যপদের সংখ্যা কমবেশি হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ রয়েছে ১০ হাজার ২৭৮টি। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে শূন্যপদের সংখ্যা ১৯০টি এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় রয়েছে ৩ হাজার ১৩১টি শূন্যপদ। তিন অধিদপ্তর মিলিয়ে মোট শূন্যপদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৫৫৯টি।
এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগ সুপারিশের জন্য তিনটি অধিদপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ে শূন্যপদের চাহিদা সংগ্রহ করা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় স্নাতক পাস কলেজে অধ্যক্ষ পদে ৫৮৪টি এবং উপাধ্যক্ষ পদে ৬২৭টি শূন্যপদ রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ ৫১১টি এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ পদে ২৫৭টি শূন্যপদ রয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে ৩ হাজার ৯২৩টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ৩ হাজার ৮৭২টি শূন্যপদ রয়েছে। নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যপদ রয়েছে ৫০৪টি। এ খাতে মোট শূন্যপদ ১০ হাজার ২৭৮টি।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যক্ষ পদে ১১০টি, ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানে সুপারিনটেনডেন্ট পদে ৪০টি এবং সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে ৪০টিসহ মোট ১৯০টি শূন্যপদ রয়েছে।
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় কামিল পর্যায়ে অধ্যক্ষ ৩৪টি ও উপাধ্যক্ষ ৫৩টি শূন্যপদ রয়েছে। ফাজিল পর্যায়ে অধ্যক্ষ ২০২টি ও উপাধ্যক্ষ ৩৪৩টি, আলিম পর্যায়ে অধ্যক্ষ ২১৯টি ও উপাধ্যক্ষ ৩৭৭টি শূন্যপদ রয়েছে। এছাড়া দাখিল পর্যায়ে সুপারিনটেনডেন্ট পদে ৮৯৯টি এবং সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে ১ হাজার ৪টি শূন্যপদ রয়েছে। সব মিলিয়ে মাদরাসা শিক্ষায় শূন্যপদের সংখ্যা ৩ হাজার ১৩১টি।
সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার আবেদন লিংকও উল্লেখ করা হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদের http://ngi.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি এনটিআরসিএর ওয়েবসাইট (https://ntrca.gov.bd) এবং টেলিটক পোর্টালে পাওয়া যাবে।
আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদন ফি ২৫০ টাকা, যা ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে জমা দেওয়া যাবে।
নিয়োগ পরীক্ষায় মোট নম্বর ১০০। এর মধ্যে এমসিকিউ পরীক্ষায় ৮০ নম্বরের জন্য সময় থাকবে এক ঘণ্টা। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের জন্য বরাদ্দ ১২ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৮ নম্বর। পাসের জন্য প্রতিটি ধাপে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে।
এমসিকিউ পরীক্ষায় মোট ৮০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাওয়া যাবে এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
পরীক্ষার বিষয় হিসেবে থাকবে বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি, মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তি, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক), প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা আইন, বিধি-বিধান, নীতিমালা ও পরিপত্র, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরভিত্তিক নির্ধারিত বিষয়সমূহ।