এনটিআরসিএ নীতিমালায় আরবি বিষয়ে ‘আজব শর্ত’ বাতিলের দাবি
মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডে নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রস্তাবিত নিয়োগ নীতিমালায় আরবি ও আরবি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দাখিল ও আলিমসহ এবং মাস্টার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করার শর্তকে ‘অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেহেতু শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দিয়েই যোগ্যতা যাচাই করা হয়, সেখানে আগে থেকে দাখিল-আলিমের মতো শর্ত আরোপ করা অপ্রাসঙ্গিক। একজন প্রার্থী যদি অনার্স সম্পন্ন করে নিজেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে প্রস্তুত করতে পারেন এবং নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তাহলে তাকে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার কোনো যুক্তি নেই।
তারা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন বহু সাবজেক্ট রয়েছে, যেখানে অনার্স বা মাস্টার্স সম্পন্ন করলেই শিক্ষক হওয়ার সুযোগ থাকে— এসএসসি বা এইচএসসি পর্যায়ে সেই বিষয় পড়া ছিল কি না, তা বিবেচনায় নেওয়া হয় না। কিন্তু আরবি বিষয়ের ক্ষেত্রে আলাদা করে দাখিল বা আলিমের শর্ত এবং তার ওপর আবার মাস্টার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা স্পষ্ট বৈষম্য।
এ বিষয়ে একাংশের মত, দাখিল বা আলিমের শর্ত যদি আরবি বিষয়ের শিক্ষকতার বদলে মাদ্রাসার জেনারেল সাবজেক্টের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে আরোপ করা হতো, তাহলে তা বেশি যৌক্তিক হতো। এতে একদিকে মাদ্রাসার পরিবেশের সঙ্গে শিক্ষকদের মানিয়ে নেওয়া সহজ হতো, অন্যদিকে মাদ্রাসার প্রশাসনিক কাঠামোও আরও শক্তিশালী হতো।
নীতিমালা সংশোধনের দাবির পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পরামর্শ দিয়ে বক্তারা বলেন, শুধু আরবি বিষয়েই শিক্ষক হওয়ার চিন্তায় সীমাবদ্ধ না থেকে মাদ্রাসার জেনারেল সাবজেক্টগুলোতেও অনার্স-মাস্টার্স করে শিক্ষকতায় আসা উচিত। এতে মাদ্রাসা শিক্ষার মান ও পরিসর আরও বিস্তৃত হবে।
সবশেষে দাবিতে বলা হয়, আরবি ও আরবি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে দাখিল-আলিম ও মাস্টার্স বাধ্যতামূলক করার শর্ত বাতিল করে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমেই যোগ্য শিক্ষক নির্বাচন করতে হবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আরবি বিভাগের কারিকুলাম এমনভাবে প্রণীত একজন শিক্ষার্থী অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর আর অতিরিক্ত কোনো যোগ্যতার প্রয়োজন পড়ে না। অথচ সেখানে মাদ্রাসার অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরের একটি ডিগ্রির শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন ছিল, যা করা হয়নি। ফলে আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামিক স্টাডিজ একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হওয়া সত্ত্বেও কেন আরবির সঙ্গে যুক্ত করে আমাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে— তা বোধগম্য নয়। আমাদের দাবি, পূর্বের নীতিমালা বহাল রাখা হোক।’