৪৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি

ক্যাডার, নন-ক্যাডার হওয়ার লড়াই সাড়ে তিন লাখ তরুণের

ক্যাডার, নন-ক্যাডার হওয়ার লড়াই সাড়ে তিন লাখ তরুণের
ক্যাডার, নন-ক্যাডার হওয়ার লড়াই সাড়ে তিন লাখ তরুণের

২ হাজার ৩০৯ জন ক্যাডার এবং‌ ১ হাজার ২২ নন-ক্যাডারে চাকরি পেতে আজ ৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বসছে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯২২জন পরীক্ষার্থী।

দেশের ৮টি বিভাগীয় শহর ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহে ২৩৫টি কেন্দ্র এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০ টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এ পরীক্ষায় অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

পিএসসি জানিয়েছে, দুই ঘণ্টাব্যাপী এ পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর ও প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য মোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর করে কাটা যাবে।

পরীক্ষায় শৃঙ্খলার জন্য এবার কঠোর অবস্থানে পিএসসি। সংস্থাটি বলছে, যদি কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হলে পাশের কারও সঙ্গে দেখাদেখি করার চেষ্টা করেন, তাহলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে। এমনকি ঘাড় ঘোরালেই খাতা কেড়ে নেওয়া যাবে— মর্মে নির্দেশনাও রয়েছে পরীক্ষকদের প্রতি।

এছাড়াও আসন্ন বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে দৈবচয়নের ভিত্তিতে আসন-বিন্যাস করেছে পিএসসি। হাজিরা তালিকায় প্রার্থীর নিবন্ধন নম্বর জোড়-বিজোড় সংখ্যায় ভাগ করে বসানো হয়েছে আসন। একইসঙ্গে বিসিএসের কেন্দ্র পরিচালনার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে এবং কন্ট্রোল রুমের জন্য ১১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আনন্দ কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, পরীক্ষার হলে দেখাদেখি করে চাকরি পাবেন, এমন চাকরিপ্রার্থী আমরা চাই না। আমরা সৎ ও যোগ্য চাকরিপ্রার্থী খুঁজছি। পরীক্ষার হলে কেউ দেখাদেখি করে পরীক্ষা দেবেন, এমন চিন্তা যারা করবেন, তাদের জন্য আমাদের সহজ নির্দেশনা, ঘাড় ঘোরালেই পরীক্ষার খাতা নিয়ে নেওয়া হবে, তাকে আর পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না।

পরীক্ষার আসন-বিন্যাস:

৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পরীক্ষার হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এই বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আসন-বিন্যাস দৈবচয়নের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সব প্রার্থীর নিবন্ধন নম্বর কক্ষ অনুসারে দৈবচয়নের ভিত্তিতে সাজিয়ে হাজিরা তালিকা তৈরি করা হয়েছে। হাজিরা তালিকায় প্রার্থীর নিবন্ধন নম্বর জোড়-বিজোড় সংখ্যায় ভাগ করে সিট বসানো হয়েছে। দৈবচয়নের ভিত্তিতে আসন-বিন্যাস প্রস্তুত করায় নিজের সিট ও কক্ষ খুঁজে পেতে প্রার্থীদের সময় লাগবে। তাই পরীক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে পরীক্ষার হলে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পিএসসি।

৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১৯ মে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। দেশের আট বিভাগ ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর এবং ভুল উত্তর দিলে প্রতিটি ভুলের জন্য মোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর করে কাটা যাবে।

এছাড়াও ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৩০৯ জন ক্যাডার নেওয়া হবে। নন-ক্যাডারে নেওয়া হবে ১ হাজার ২২ জনকে। ৪৫তম বিসিএসে ২ হাজার ৩০৯ ক্যাডারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে চিকিৎসায়। সহকারী ও ডেন্টাল সার্জন মিলিয়ে ৫৩৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। চিকিৎসার পর সবচেয়ে বেশি শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পাবেন ৪৩৭ জন। এরপর পুলিশে ৮০, কাস্টমসে ৫৪ ও প্রশাসনে ২৭৪ জনকে নিয়োগ দেবে সরকার।

দায়িত্বে ১১১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট:

৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে এবং কন্ট্রোল রুমের জন্য ১১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ১৯ মে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (এমসিকিউ টাইপ) পরীক্ষা ঢাকায় ১০১টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য একজন করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটসহ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের কন্ট্রোল রুমে অতিরিক্ত ১০ জন বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তাকে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ-পূর্বক মোবাইল কোর্ট আইনের বিধান মোতাবেক তাঁদের নামের পাশে বর্ণিত আইনে, পরীক্ষাকেন্দ্রে/অধিক্ষেত্রে এবং সময়কালে ক্ষমতা অর্পণ করে নিয়োগ করা হল।

কেন্দ্রগুলোর জন্য নিয়োগ করা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের মঙ্গলবার (১৬ মে) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ভবনে ব্রিফিং সেমিনারে উপস্থিত থাকতে হবে—জানিয়ে একই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার দিন (১৯ মে) সকালে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ে রিপোর্ট করতে হবে।