শুধু নবদম্পতি বেঁচে রইলেন

নবদম্পতি
নবদম্পতি  © সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরায় বৌভাত খেয়ে প্রাইভেটকারে করে নবদম্পতিকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন স্বজনরা। পথিমধ্যে উত্তরার জসীম উদ্‌দীন মোড় সংলগ্ন সড়কে বিআরটি প্রকল্পের গার্ডার পড়ে নিহত হন ৫ জন। প্রাইভেটকারে ৭ আরোহীর মধ্যে শুধু বেঁচে যান বর হৃদয় (২৬) ও নববধূ রিয়া মনি (২১)। গত শনিবার (১৩ আগস্ট) বিয়ে হয় তাদের।

ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে গার্ডার সরিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাইভেটকারে আরোহীদের মধ্যে ছিলেন হৃদয়ের বাবা রুবেল (৬০), হৃদয়ের শাশুড়ি ফাহিমা (৪০), রিয়া মনির খালা ঝরনা (২৮), ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। শুধু বেঁচে যান হৃদয় ও রিয়া। তাদের গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা সাইফুজ্জামান বলেন, ‘এত বড় গার্ডার সরানোর সক্ষমতা ফায়ার সার্ভিসের নেই। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যারা এখানে কাজটি করছে, তাদের লোকজন আসার পর গার্ডারটি সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। তাদের আসতে সময় লাগায় দেরি হয়েছে।’

আরও পড়ুন: চোখের পলকে শেষ এক পরিবার, গাড়ির চালক বাবা-পেছনে নবদম্পতি

পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকায় একটি বউভাতের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন হতাহত ব্যক্তিরা। ঘটনার পরপরই দুজনকে আহত অবস্থায় প্রাইভেট কার থেকে বের করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তখন গার্ডারের নিচে চাপা পড়া গাড়িটির ভেতরে পাঁচজন ছিলেন। তখন তাদের কয়েকজনকে বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের ডিসি মোর্শেদ আলম বলেন, ‘উত্তরা এলাকায় বিআরটিএর উড়াল সড়ক হচ্ছে বর্তমান সড়কের মাঝ বরাবর। আর প্রাইভেট কারটি যাচ্ছিল রাস্তার একপাশ দিয়ে। ঘটনার আগে বিআরটিএর একটি গার্ডার তোলার সময় একপাশে কাত হয়ে ওই প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে। ’

এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই ওই এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে উত্তরাসহ রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক রাখতে এবং দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারে উদ্ধারকাজ চালাতে শুরু থেকেই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের তৎপরতা দেখা যায়।

এর আগে গত ১৫ জুলাই গাজীপুরে বিআরটি প্রকল্পের ‘লঞ্চিং গার্ডার’ চাপায় এক নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় এক শ্রমিক ও একজন পথচারী আহত হন। এরপরও জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়ায় এবার আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটলো।


x

সর্বশেষ সংবাদ