ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে লঘুচাপ, বাংলাদেশে কি আঘাত হানবে?

ঘূণিঝড়
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে  © প্রতীকী ছবি

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সব বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে গেছে এটির মধ্যে। এর কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার (২৭ নটিক্যাল মাইল)। দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং এর সংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগরে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে কিছুটা অগ্রসর হয়েছে।

নিম্নচাপ কেন্দ্রটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এক হাজার ৪২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি পূর্ণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এটাই এবার বঙ্গোপসাগরে প্রথম ঘূর্ণিঝড়। এটি নিম্নচাপ হলেও তা ঘূর্ণিঝড়ের প্রাথমিক শর্ত পূরণ করেছে। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ই হতে পারে।

তবে আবহাওয়াবিদরা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না, শেষ পর্যন্ত স্থলভাগে উঠে আসার শক্তি পাবে কি না।

কানাডা প্রবাসী আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির লঘুচাপ, নিম্নচাপ ও গভীর নিম্নচাপ পর্যায় অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় হওয়ার সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে এবং ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে গেছে। তবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর নিম্নচাপই বলছে।

ঘূর্ণিঝড় হলে এর নাম দেওয়া হবে আশনি। শনিবার দুপুর ১২টায় এটি ৯.৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯১.৩ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে ছিল। এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হচ্ছ। সমুদ্রে পৃষ্ঠে বাতাসের বেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার; যা প্রায় ৯৩ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে।

মোস্তফা কামাল বলেন, সোমবারের আগে নিশ্চিত করে যাচ্ছে না যে, ঘূর্ণিঝড়টি কোন স্থানের ওপর দিয়ে স্থলভাগে আঘাত করবে। তবে এর প্রভাবে খুলনা ও বরিশালের উপকূলীয় জেলাগুলোয় বৃষ্টি শুরুর পূর্বাভাস দিচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হতে পারে সোমবার থেকে।

এ দিকে বাংলাদেশের চার সমুদ্র বন্দরের জন্য ১ নম্বর দূরবর্তী হুশিয়ার সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। সমুদ্রে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।


x