নেত্রকোনায় বাড়ছে ক্ষতিকর তামাক চাষ

নেত্রকোনায় বাড়ছে ক্ষতিকর তামাক চাষ
তামাক চাষ  © সংগৃহীত

জমিতে অধিক ফলন ও বাজারে দাম বেশি হওয়ায় নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে ক্ষতিকর তামাক চাষ। অনেক চাষী এই তামাকের চাষের কুফল সম্পর্কে জানেন না। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েই তামাক চাষে মনোযোগী হয়ে উঠছেন।

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং, দুল্লী, বৈরাটী, ছিলিমপুরসহ বেশ কয়টি এলাকার চাষীরা তামাক চাষ করেন। এই ক্ষতিকর তামাক চাষের সঙ্গে জড়িত বদরুল ইসলাম বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষ থেকেই আমরা তামাক চাষ করে আসছি। এতে আমাদের কোনো ক্ষতি হয় না।

আরও পড়ুন: ঢাবিতে খাবারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দাম, কমছে মান

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন জানান, আমরা বিভিন্ন সময় তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় চাষীদের বুঝাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছি।এব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের ডা: রঞ্জন কর্মকার তামাকের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে বলেন, এটি শিশু, বৃদ্ধসহ মানবদেহের জন্য মারাত্বক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। তামাক সেবনে ফুসফুসসগ মানব শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নষ্ট হয়ে যায় , নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকি ও হতে পারে।

নেত্রকোনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এফ এম মোবারক আলী বলেন, নেত্রকোনা জেলায় তামাক চাষ হচ্ছে এটা আমি প্রথম শুনলাম। অতি শিগগিরই এই ক্ষতিকর তামাক চাষ বন্ধ করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো এবং ওই এলাকার কৃষকরা যাতে তামাকের বিকল্প ফসল উৎপাদনে মনোযোগী হয় সে জন্য তাদের পরামর্শ দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, তামাক সারা বিশ্বব্যাপী একটি বিতর্কিত ফসল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘদিন তামাক সেবন করলে মানব দেহে ক্যানসার বা অনুরূপ দুরারোগ্য ব্যাধির সৃষ্টি হয়। তামাক সাধারণত ধূমপানের উদ্দেশ্যে সিগারেট, বিড়ি, পাইপ ও হুঁকা, চিবিয়ে খাওয়ার জন্য জর্দা, দোক্তা এবং নাকে নেওয়ার জন্য নস্যি,মুখে দাঁত মাজার জন্য গুল ইত্যাদি বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: উপাচার্য ফরিদের ক্যাম্পাস ত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলনের ঘোষণা

তামাক পাতায় উপক্ষারীয় উপাদান হিসেবে নিকোটিন থাকে, তাই তামাক পাতা ভেজানো জল কীটপতঙ্গ দমন করতে বিশেষ সাহায্য করে। রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে বিষাক্ত যৌগের অবশেষ থেকে যায় ফসলের মধ্যে, কিন্তু নিকোটিন সালফেট একটি উচ্চ মানের জৈব কীটনাশক যার কোনো ক্ষতিকারক অবশিষ্টাংশ ফসলের সাথে থাকে না এবং স্বাস্থ্যের কোনো রকম ক্ষতি করে না।


x

সর্বশেষ সংবাদ