নতুন শিক্ষাক্রমের বই বাজেট অনুমোদন হয়নি

এনসিটিবি
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড  © টিডিসি ফটো

নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে অনেক বেশি স্বপ্নের কথা বলা হলেও এখন তৈরী হয়েছে বিশৃঙ্খলা। কথা যত হয়েছে বাস্তাবায়নের সময় আসল কাজটিই হচ্ছে কম। নুতন কারিকুলাম নিয়ে শুরু থেকেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতায় তৈরী হয়েছে জটিলতা। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাক্রম প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত এনসিটিবির কর্মকর্তা ও বাইরের বিশেষজ্ঞরাও এখন বিরক্ত।

প্রাথমিকের বই তৈরিসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য এনসিটিবি এক মাস আগে গত ১৫ ডিসেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বাজেট প্রস্তাব পাঠালেও এখনো তা অনুমোদন দেয়নি মন্ত্রণালয়। তাই প্রাথমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালুর করার সময় আবার পিছাবে। কারণ নতুন কারিকুলামের জন্য এখনো বই-ই প্রণয়ন করতে পারেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রাথমিক শাখা।

আরও পড়ুন: সাড়ে ৪ বছরের ক্ষোভের বিস্ফোরণেই শাবিপ্রবিতে আন্দোলন-অনশন

ফেব্রুয়ারিতেও প্রাথমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর সম্ভাবনা নেই। তুলনামূলকভাবে মাধ্যমিকের কাজ এগিয়ে থাকলেও সেখানে আংশিক বই দিয়ে চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জন কোর কমিটির সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরের অধ্যাপক এম তারিক আহসান।

মূল্যায়ন ও শিখনব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন এনে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ কয়েক বছর ধরেই শুরু করেছিল এনসিটিবি। প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত নতুন শিক্ষাক্রম ২০২২ সাল থেকে সরাসরি চালু করার ছিলো। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত বদলে চলতি মাসের শুরু থেকে নির্ধারিতসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে আগামী বছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে। কিন্তু তা-ও করা যায়নি। নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমিয়ে আগামী মাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে।

আরও পড়ুন: বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় বাংলাদেশের

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষা উপকরণ তৈরির কাজ একসঙ্গে করতে পারলে শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় প্রস্তাবিত যোগ্যতার ধারাবাহিক ক্রম বজায় রেখে কনটেন্ট বণ্টন ও বিষয়ের আন্তশ্রেণি সম্পর্ক বজায় রাখা সহজ হতো। একসঙ্গে কাজটি করা গেলে একটি স্তর থেকে আরেকটি স্তরে উন্নয়নের যেতে অভিজ্ঞতা অর্জন করা যেতো।

নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য ২০২২ সাল থেকে প্রাথমিকে ১০০টি এবং মাধ্যমিকে ১০০টি প্রতিষ্ঠানে পাইলটিং শুরু হচ্ছে। এ জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে ও টিচার্স গাইড তৈরি হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষাক্রমের রূপরেখাটি এনসিসিসিতেও হয়তো অনুমোদন হবে। এরপর বিস্তারিত শিক্ষাক্রম প্রণয়ণ শেষে পাঠ্যবই লিখতে হবে। পরে বই ছাপতে হবে। এসব কাজ করে ২০২২ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলেও দুই শ্রেণিতে মানসম্মত বই লেখা যাবে কি না, তা নিয়ে তিনিও সন্দিহান।

ফেব্রুয়ারিতে প্রাথমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা যাবে কি না, জানতে চাইলে এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, এখনো তো পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করার জন্য বাজেট পাওয়া যায়নি। পাঠ্যপুস্তক না লিখে তো আর পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা যাচ্ছে না। তবে পরীক্ষামূলক চালুর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঠিক করা আছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন আদালতে প্রথম নারী বিচারক বাংলাদেশি নুসরাত

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন শিক্ষা কার্যক্রম ঠিকমতো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষায় পরীক্ষার চাপ কমে যেত। কারণ, পরীক্ষার চেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যায়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন শিক্ষাক্রমে। আরও অনেক ভালো দিক রয়েছে নতুন শিক্ষাক্রমে। কিন্তু প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের নতুন এই শিক্ষাক্রমের বাস্তবায়নের কাজটি সমন্বিতভাবে না হওয়ায় সমস্যা রয়েই যাচ্ছে।

নতুন শিক্ষাক্রমে নবম থেকে দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক কোনো গ্রুপ থাকছে না। এ ছাড়া পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) এবং অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষাও থাকবে না।


x