‘দেখা হবে আবার’— বন্ধুদের সঙ্গে শেষ আড্ডায় দুর্জয়

রামপুরা ব্রিজ
মাইনুদ্দিন ইসলাম দুর্জয়  © ফাইল ছবি

‘ছোট বেলা থেকেই দুর্জয়ের সাথে মিসেছি। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে সে ছিল ডায়মন্ড। পড়ালেখাতেও ছিল খুব মনোযোগী। গত পরশু তার সাথে শেষ দেখা হয়েছিল। চা খেয়েছিলাম একসঙ্গে। যাওয়ার সময় সে বলেছিল, আবার দেখা হবে। দেখা হলো, তবে তার লাশের সঙ্গে।’

আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মাইনুদ্দিন ইসলাম দুর্জয়ের ছোট বেলার বন্ধু আতিকুল ইসলাম। আতিকুল রাজধানীর একরামুন্নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহফুজুল ইসলাম আপন বলেন, দুর্জয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় দেড় বছর আগে। করোনার বিধিনিষেধ শেষে আমরা সীতাকুণ্ডে ট্যুরে গিয়েছিলাম। গত পরশু ওর সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলেছি। অথচ আজ আমাদের মাঝে ও নেই। আমি ওর এক ব্যাচ সিনিয়র হলেও আমরা বন্ধুর মতোই ছিলাম। কেউ কোনো ঝামেলায় জড়ালে ও তাদের মীমাংসা করিয়ে দিত। এমন কেউ নেই এটা ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।

এদিকে দুর্জয়ে মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে রাস্তায় নেমেছে তার বন্ধুরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রামপুরা ব্রিজের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন তারা। এ সময় আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসে তাতে যোগদেন। বিকেলে আজকের মতো কর্মসূচি স্থগিত করে আগামীকাল বেলা ১১টায় ফের রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর রামপুরায় দুই বাসের প্রতিযোগিতার বলি হন এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী দুর্জয় । সোমবার রাত ১০টায় রামপুরা টিভি রোডের পলাশবাগ এলাকায় অনাবিল বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হয় সে।


মন্তব্য

x