স্কুল বন্ধ রেখে হবে আ. লীগের সম্মেলন

স্কুল বন্ধ
স্কুল বন্ধ রেখে হবে আ. লীগের সম্মেলন  © সংগৃহীত

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর বুধবার ঈশ্বরদী উপজেলা আ. লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। এ জন্য বন্ধ রাখতে হবে আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস উচ্চ বিদ্যালয়। এই নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিরুপায় হয়ে প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব ক্ষমতায়নের থাকা ঐচ্ছিক ছুটি থেকে একদিনের এই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সাত বছর পর ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ সম্মেলন। এতে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. আব্দুর রহমান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নায়েব আলী বিশ্বাস এতে সভাপতিত্ব করবেন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলের দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দিন ধরে দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও মহড়া চলছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সম্মেলনের উত্তেজনাকে ঘিরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ইতোমধ্যে জনশূন্য হয়ে গেছে। ভয়ে কেউ কার্যালয়ে আসছেন না।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, ঈশ্বরদীতে সম্মেলন করার অনেক জায়গা রয়েছে। কিন্তু সেসব জায়গায় না করে বিদ্যালয় বন্ধ করে সম্মেলন করাটা খুবই অবিবেচক। তারপরও যদি সম্মেলনটি বিদ্যালয় বন্ধের বা ছুটির দিনে করা হতো তাও কথা ছিল। কোভিডের কারণে শিক্ষার বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। সামনে এসএসসি সহ অন্যান্য পরীক্ষা রয়েছে।

তারা আরও জানান, এই অবস্থায় সম্মেলন মাঠ প্রস্তুতের জন্য বেশ কয়েক দিন ধরে বিদ্যালয়ের গেট দিয়ে বালির ড্রাম ট্রাক, ডেকোরেশনের আসবাবপত্র নিয়ে ভারী যানবাহনগুলোর চলাফেরা শিক্ষক –শিক্ষার্থীদের বেশ শঙ্কিত করেছে।

উপজেলা আ. লীগের বেশ কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২৯ সেপ্টেম্বর দলীয় সম্মেলনটি ঈমান কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজন করা হয়। পোস্টারও ছাপানো হয়। কিন্তু সেই স্থান বাদ দিয়ে পরে আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সম্মেলন স্থানান্তর করা হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার মুঠোফোনে জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরকারি ছুটির বিধিমোতাবেক এই ছুটি দিতে পারেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মকলেছুর রহমান মিন্টু জানান, এমপি নুরুজ্জামান বিশ্বাস প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এমপি একক সিদ্ধান্তে যাচ্ছেতাই করে চলেছেন। এতে দলীয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু সম্মেলনের স্বার্থে এসববিষয়ে দলীয় নীতিনির্ধারকগণ হস্তক্ষেপ করবেন বলেও আশাবাদী মিন্টু।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ