রেজিস্ট্রেশন ও টিকা প্রাপ্তির জটিলতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

করোনা টিকা
রেজিস্ট্রেশন ও টিকা প্রাপ্তির জটিলতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা  © প্রতীকী ছবি

দেশের পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেও পাচ্ছেন না করোনাভাইরাসের টিকার। আবার অনেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার কারণে টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারছেন না।

দেশে টিকার জন্য এখনো পর্যন্ত নিবন্ধন হয়েছে চার কোটি পনের লাখ। আর দুই ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে এক কোটি একচল্লিশ লাখ মানুষকে। এখনো পৌনে তিন কোটি মানুষ টিকার জন্য অপেক্ষা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের হিসেব মতে, বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখন প্রায় ১২ লাখ।

সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শতভাগ টিকার জন্য নিবন্ধন করবে, তারা চাইলে ২৭ সেপ্টেম্বরের পরে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে পারবে।

কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তারা টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করলেও এখন পর্যন্ত টিকা নিতে পারেননি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথী সাদিয়া আফরোজ জানান, অনেকদিন আগে রেজিস্ট্রেশন করলেও এখনো টিকা নিতে পারেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিভাগের অনেক শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশনই করতে পারছেন না আর যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তারা কবে টিকা পাবেন সেটিরও কোনো ঠিক নেই।

তিনি আরও বলেন, আমি রেজিস্ট্রেশন করেছি এক মাসেরও বেশি হয়েছে। কিন্তু এখনো টিকা পাইনি, আমার কাছে কোনো মেসেজও আসেনি। আমার ব্যাচমেট অনেকে এখনো রেজিস্ট্রেশনও করতে পারে নাই, কারণ তাদের ন্যাশনাল আইডি কার্ড নেই।

দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ টিকা নিতে পেরেছে বলে কর্তৃপক্ষের ধারণা।

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের অনেকের এনআইডি কার্ড না থাকায় টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারছেন না। টিকা নেয়া এবং টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেবার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের টিকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কী অবস্থা?
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশে বর্তমানে ৯৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। টিকার জন্য নিবন্ধন করা এবং টিকা নেয়া ছাড়াও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আরো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে টিকা দেবার হার গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশের মতো।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলছেন, সবগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। দীর্ঘ শ্রেণি কক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকায় অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কার্যক্রম সীমিত করেছে। এখন তাদের আবার প্রস্তুতি নিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী যে জাতীয় পরিচয় না থাকায় টিকার রেজিস্ট্রেশন করতে পারছেন না সেটি তারা অবগত আছেন। তবে জন্ম-নিবন্ধন কিংবা অন্যকোন উপায়ে তারা রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন কি না সেটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ