মাদ্রাসা বন্ধ, চামড়া ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কর্তৃপক্ষ

১৯ জুলাই ২০২১, ০১:৩৮ PM
কুরবানির চামড়া

কুরবানির চামড়া © ফাইল ছবি

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে বন্ধ মাদ্রাসা। এর মধ্যে চলে এসেছে কোরবানির মৌসুম। চামড়া সংগ্রহ আর ব্যবস্থাপনা কারা করবে, এ নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় কর্তৃপক্ষ। মাদ্রাসায় কোরবানির সময় দান করা চামড়াই একটি বড় উৎস। সেটি যদি সংগ্রহ করা না যায়, তাহলে পড়তে হতে পারে অর্থকষ্টে।

মাদ্রাসা পরিচালকরা বলছেন, মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় রোজা ও ঈদুল ফিতর ঘিরে যে আয়, সেটিও হয়নি। এই অবস্থায় ঈদুল আজহায় যদি আয় না হয়, তাহলে শিক্ষকদের বেতন দেয়া কঠিন হয়ে যাবে। অর্থকষ্টে ঈদের আগে বোনাস তো দূরের কথা, বেতনও ঠিকঠাক মতো দেয়া যায়নি।

সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠকে মাদ্রাসাগুলো খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে শাটডাউনে থাকা দেশে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করাকে ঝুঁকি হিসেবেই দেখছে সরকার।

গত ৬ এপ্রিল থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনে কওমি মাদ্রাসাসহ দেশের সব ধরনের মাদ্রাসা (এতিমখানা ছাড়া) বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় সরকার। মাদ্রাসা আর্থিক সংকটে গত রোজায় দেশের সবচেয়ে বড় মাদ্রাসা হাটহাজারীর কর্তৃপক্ষের ফেসবুকে এসে সহযোগিতা চাইতে দেখা গেছে।

রাজধানীর আদাবরের হোসেইনিয়া নূরানীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপাল হাফেজ দবির উদ্দিন  বলেন, ‘মহল্লার সঙ্গে যাদের আন্তরিকতা আছে তাদের অনেকে বলেছেন, কোরবানি যদি দিতে পারি, চামড়ার দাম যাই থাকুন আপনি গিয়ে নিয়ে আসবেন। কিন্তু মাদ্রাসা তো বন্ধ আমাদেরও সে পরিমাণ লোকের অভাব।’

তিনি বলেন, ‘কেবল চামড়া সংগ্রহ না। এলাকার কোরবানির বড় অংশই তো মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরাই দিয়ে থাকে। আমরা যদি মানুষের পাশে না দাঁড়াই তাহলে একসময় মানুষই বলবে যে আপনারা তো আসেননি, এখন আর আমাদের প্রয়োজন নেই। এ জন্যই আমাদের মানুষের পাশে থাকতে হবে।’

মাদ্রাসার আর্থিক পরিস্থিতি কেমন এমন প্রশ্নে দবির উদ্দিন বলেন, ‘মাদ্রাসা চলে অর্থশালীদের দানে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় একটি দীর্ঘমেয়াদি সংকটে আমরা পড়েছি। শিক্ষকদের মধ্যে যাদের বেতন ১২ হাজার ছিল এখন তাদের ৫ হাজার টাকা দিয়ে বলেছি, স্বাভাবিক অবস্থা হলে আবার আগের অবস্থায় চলে যাব। এভাবে আমরা সমন্বয় করে নিয়েছি। শিক্ষকরাও সংকটটা বুঝতে পারছেন। তবে সাংসারিক সংকট তো থেকেই যাচ্ছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।’

রংপুরের জুম্মাপাড়ার আল জামিয়াতুল করীমিয়া নূরুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম ইদরিস আলীও বলেন একই কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এবার চামড়া সংগ্রহ করার চেষ্টা করব। স্বাভাবিক সময়ে যেমন হয় তেমন হবে না।’

ছাত্র না থাকায় চামড়া এবার সংরক্ষণ করা যাবে না বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘চাড়মায় লবণ দেব না, সরাসরি বিক্রি করে দেব। এবার আমরা ছাত্র জোগাড় করতে পারতেছি না। এ কারণে যতটুকু পারা যায় সেভাবেই কাজ করব।’

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ফতেপুর মাদ্রাসার আলেম মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এখন তো চামড়ার দাম নেই। এ জন্য আমরা চামড়া সংগ্রহ করে আর লবণ দিই না। লবণ দিতে গেলে যে খরচের টাকাই উঠবে না। গত বছর আমরা চামড়া ২৩০ টাকায় বিক্রি করছি।’

পাবনার চাটমোহরের আয়শা সিদ্দীকা বালিকা কওমি মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি মাহমুদুল হাসনান বলেন, ‘লকডাউনে মাদ্রসাগুলো বন্ধ থাকার কারণে আমরা ছাত্রীদের কাছ থেকে বেতন পাইনি। সে কারণে আমরা শিক্ষকদের বেতন দিতে পারি না।‘

বিএনপি নেতার ফিলিং স্টেশন থেকে ৫০ হাজার লিটার তেল গায়েব, ম্…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ছাত্রদলের মিছিল
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
স্বরাষ্ট্রসহ ৪ মন্ত্রী-উপদেষ্টাকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, যুবক…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
চাঁদপুরে বিয়ের দাবিতে তরুণীর অনশন, পরিবারসহ পলাতক প্রেমিক
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাল সিল তৈরি চেষ্টার অভিযোগে একজন আ…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
একক নাকি জোটগতভাবে লড়বে—দ্বিধাদ্বন্দ্বে এনসিপি
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
close