০৮ জুলাই ২০২১, ১০:৫৬

রাজধানীর সড়কে বেড়েছে মানুষ ও যানবাহনের চলাচল

রাজধানীতে বেড়ে যানবাহনের চাপ  © টিডিসি ফটো

মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনের প্রথম দফার সাতদিন শেষ হয়েছে গতকাল। আজ থেকে শুরু হয়েছে আরও সাত দিনের কঠোর লকডাউন। সারাদেশে চলমান এই লকডাউনে মানুষের সার্বিক কার্যাবলী এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ঘরে বসে নেই মানুষ। বিধিনিষেধের মাঝেও জীবন-জীবিকার তাগিদে এবং কর্মের খোঁজে সড়কে বের হচ্ছেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর আসাদগেট, শুক্রাবাদ, কলাবাগান ও পান্থপথসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অলিগলি থেকে ফুটপাত সবজায়গাতেই বেড়েছে মানুষের উপস্থিতি। মূল সড়কগুলোতে বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, স্টাফ বাস, মোটরসাইকেল ও রিকশার চলাচল। দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনের তাগিদে এবং বিভিন্ন অজুহাতে ঘর থেকে বের হওয়া এসব মানুষদের কেউ বেরিয়েছেন অফিসের কাজে, কেউ আবার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে। তবে ব্যক্তিগত গাড়ি নেই এমন মানুষ যারাই ঘর থেকে বের হচ্ছেন স্বল্প কিংবা দীর্ঘ দূরত্বের গন্তব্যস্থলে পৌঁছোতে তাঁদের নির্ভর করতে হচ্ছে রিকশার উপর। আবার স্বল্প দূরত্বের যাত্রায় পায়ে হেঁটেও পথ পাড়ি দিতে দেখা যায় অনেককে।

ডাক্তার দেখাতে শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে যাওয়ার জন্য কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে রিকশার অপেক্ষা করছিলেন হাসিব বিল্লাহ নামের মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। বললেন, জরুরী প্রয়োজনে তো ঘর থেকে বের হতেই হয়। অসুস্থ শরীর নিয়ে কি ঘরে বসে থাকা যায়? এখন কোন গণপরিবহণ নেই, সিএনজি নেই তাই বাধ্য হয়েই রিকশা নিয়ে যেতে হচ্ছে।

তবে প্রথম দফার লকডাউনে হোম অফিস করলেও এখন সশরীরেই অফিসে যেতে হচ্ছে বলেও জানান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত অনেকেই।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শরিফুল ইসলাম সুমন নামের এক ব্যক্তি বলেন, প্রথম কয়েকদিন হোম অফিস করলেও এখন আর সেটি সম্ভব হচ্ছে না। বেসরকারি অফিসে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ নেই। এমনিতেই চাকরির বাজারে মন্দা। তার উপর যদি এই মুহুর্তে আবার চাকরি চলে যায় তবে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টের মধ্যে পড়তে হবে। তাই লকডাউন থাকলেও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অফিসে যেতে হচ্ছে।

তবে লকডাউন কার্যকরে আগের মতোই মাঠে রয়েছে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি র‍্যাব সদস্যরা।সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গার স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোষ্ট গুলোতে তল্লাশি চালাতে দেখা যায় তাঁদের। সংশ্লিষ্টরা জানান, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হচ্ছেন কিনা সেটি নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছেন তাঁরা। অবশ্য জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিতরা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে এবং তল্লাশির সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের যথোপযুক্ত কারণ জানিয়ে কর্মস্থলে যেতে পারছেন। কিন্তু সড়কে বের হয়ে চেকপোষ্টে যারা জরুরী প্রয়োজন দেখাতে পারছেন না তাদেরকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে জরিমানার।

অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সম্মিলিত তৎপরতা চলছে জানিয়ে ট্রাফিক পুলিশের ধানমন্ডি জোনের উপ-কমিশনার জাহিদুল ইসলাম বলেন, সম্মিলিতভাবে ট্রাফিক বিভাগ, সংশ্লিষ্ট থানা এবং অন্যান্য বাহিনীর টহল চলছে। কেউ যেন জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইরে ঘোরাফেরা না করে সেটি চেকপোস্টে নিশ্চিত করছি। এখনও অনেকেই অকারণে বাহিরে বের হচ্ছেন। যথোপযুক্ত কোন যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারছেন না। তাদেরকে আমরা জরিমানার মুখোমুখি করছি।

গতকাল বুধবার (৭ জুলাই) লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্য করায় রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ৫২৩ জনকে। যাদের প্রত্যেককে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঈনুল ইসলামের আদালত ১০০ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে এক ঘন্টা করে কারাদণ্ড প্রদান করে। এর আগে গত মঙ্গলবার ৭৫৮ জনকে ও সোমবার ৬৮৭ জনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নির্দিষ্ট পরিমাণে জরিমানা করেন। এর আগে একই অপরাধে ৪ জুলাই ৬৩৬ জনকে, ৩ জুলাই ৬০৭ জনকে এবং ২ জুলাই ৬২৯ জনকেও জরিমানা করা হয়।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে রেকর্ড ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫৯৩ জনে। এদিন আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ১৬২ জন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৮  জনে।