কঠোর লকডাউন

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চিকিৎসককে গুনতে হল জরিমানা!

লকডাউন
মামলার কপি ও প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

চলমান কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এক চিকিৎসককে জরিমানা গুনতে হয়েছে। ফরহাদ কবির নামে ওই চিকিৎসক শুক্রবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় রোগী দেখার জন্য মোটরসাইকেল যোগে সাতকানিয়া পৌর এলাকায় চেম্বারে যাওয়ার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নজরুল ইসলাম তাঁকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। এতে চিকিৎসক নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে ইউএনওর শাস্তি দাবী করেছেন।

সাতকানিয়ার মির্জারখীল এলাকার বাসিন্দা ডা. ফরহাদ কবির জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় পৌরসভার একটি ফার্মেসীতে রোগী দেখতে যাওয়ার পথে কলেজ রোডের মুখে ইউএনও সাহেবের সাথে দেখা হয়। এসময় ইউএনও’র সাথে থাকা লোকজন সিগন্যাল দিলে আমি মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আমার পরিচয় দিই।

“চিকিৎসক পরিচয় পাওয়ার পর ইউএনও কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে বললেন, আপনারা লকডাউন দেয়ার জন্য সুপারিশ করেন। আমরা লকডাউন সফল করতে পারিনা বলে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। আর এখন আপনারা লকডাউন মানছেন না। এরপর ইউএনওর সাথে থাকা এক লোক আমার কাছ থেকে মোটর সাইকেলের চাবিটি নিয়ে ফেলে।”

তিনি আরও বলেন, এক পর্যায়ে ইউএনও আরও জানান, আমাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, লকডাউনে বের হয়েছেন এজন্য। তখন আমি উনাকে চিকিৎসকদের চেম্বারে যাওয়া আসায় বিধি নিষেধ না থাকার বিষয়ে বলি। এতে ইউএনও আরো বেশি রাগান্বিত হয়ে যান । ওই সময় তিনি (ইউএনও) বলেন, আমি চাইলে আপনাকে জেল দিতে পারি। তা করলাম না, এক হাজার টাকা জরিমানা দেন।

চিকিৎসক ফরহাদ কবির আরও জানান, অনেক লোকের সামনে তিনি চিকিৎসকদের সম্পর্কে অনেক কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। এক পর্যায়ে মামলা লিখে আমার হাতে দিয়ে এক হাজার টাকা দিতে বলেন। তখন আমি টাকা দিয়ে দিই। এরপর ইউএনও বলেন, সাংবাদিকরা ছবি উঠান, চিকিৎসককে জরিমানা করছি এটা পত্রিকায় দিতে হবে। পরে অনেক মুঠোফোনে আমার ছবি তুলেছেন। এরকম অপমান আমি জীবনে পায়নি। আমি বুঝতে পারছিনা একজন ইউএনও কিভাবে এমন খারাপ আচারণ করত পারেন?

এ ঘটনার বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা ইউএনও মো. নজরুল ইসলাম জানান, উনি যে চিকিৎসক সেটাতো আমি বুঝতে পারিনি। উনার সাথে আইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং হেলমেট ছিল না। তিনি যে অন্যায় করেছেন সেটা নিজে বুঝতে পেরেছন। তিনি নিজেই বলেছেন, আমার অন্যায় হয়েছে। আমাকে শাস্তি দেন। পরে আমি এক হাজার টাকা জরিমানা করেছি।

তিনি আরও বলেন, আইন সবার জন্য সমান। সরকার আইন করছে আমরা বাস্তবায়ন করছি। তিনি চাইলে আপীল করতে পারেন। মূলত সন্ধ্যা ৭টার পর পাওয়াতে, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট না থাকাতে জরিমানা করা হয়েছে।

ইউএনও চিকিৎসকের সাথে পরিচয়পত্র না থাকার কথা বললেও মামলায় ডাক্তার ফরহাদ কবির লেখা হয়েছে। মটরযান আইন মামলা দেয়ার কথা বললেও মামলায় অপরাধ হিসেবে দন্ডবিধি ২৭০ ও ২৭১ উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ধারায় বিদ্বেষপূর্ণ কর্ম, যা দ্বারা জীবন বিপনকারী রোগের সংক্রমণ বিস্তার লাভের সম্ভাবনা রয়েছে এবং সঙ্গরোধ সংক্রান্ত নিয়ম অমান্য করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয় বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। ভুক্তভোগী চিকিৎসক আমাকে জানাননি। স্বাচিপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে আমি বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলেছি। উনারা বলছেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চলমান লকডাউনে চিকিৎসকদের চলাচলের ক্ষেত্রে বিধি নিষেধ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশ্নই উঠে না।

ঘটনার বিষয়ে স্বাচিপে’র কেদ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান জানান, লকডাউনে চিকিৎসকদের চলাচলে সরকারি ভাবে কোন ধরনের বাধা নাই। এরপরও একজন চিকিৎসক রোগী দেখার জন্য চেম্বারে যাওয়ার সময় ইউএনও’র এমন আচারণ অত্যান্ত দুঃখজনক। চিকিৎসকরা করোনা মহামারীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ইউএনও’র এমন আচারণ চিকিৎসকদের হতাশ করে ফেলবে। যে চিকিৎসককে জরিমানা করেছে তার গাড়ির কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট না থাকলে মটর যান আইনে মামলা দিতে পারতো। কি তিনি মামলার কাগজে ডাক্তার উল্লেখ করে সংক্রমণ আইনে মামলা দিয়েছেন। এটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এছাড়া ইউএনও লোকজনের সামনে চিকিৎসকদের নিয়ে অনেক কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে। এজন্য ইউএনও’র বিরুদ্ধ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ