করোনায় সঞ্চয় কমেছে অস্বাভাবিক হারে, ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছে

দারিদ্র্য
করোনার প্রভাবে দরিদ্র মানুষ  © ফাইল ছবি

দেশের দারিদ্র সীমার সামান্য উপরে থাকা বহু মানুষ করোনার প্রভাবে দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে এসেছে। এরা মূলত শহরের মধ্যবিত্ত, চাকরিজীবি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। গতবছর করোনার প্রকোপ শুরুর পর দেশের ২২ শতাংশ মানুষ নতুন করে এই দারিদ্র সীমার নিচে চলে এসেছিল। এদের অর্ধেকের বেশি এখনও পোভার্টি ট্রাপ বা দারিদ্রের ফাঁদে আটকে গেছে। গত মার্চ পর্যন্ত দরিদ্র্য মানুষের সংখ্যা জনসংখ্যার ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ করোনার প্রভাবে দরিদ্র হয়েছে। সাধারণ মানুষের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা দ্বিগুণ হয়েছে। সঞ্চয় কমেছে অস্বাভাবিক হারে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ‘পভার্টি ডায়নামিকস অ্যান্ড হাউসহোল্ড রিয়েলিটিস’ শীর্ষক এই জরিপের (প্রথম পর্ব) ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান এবং বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন। অনুষ্ঠানে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, গতবছরের মার্চে দেশে করোনার প্রকোপ শুরুর পর এ বছরের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে দেশে দারিদ্র পরিস্থিতির কী পরিবর্তন হয়েছে সেটি ধারাবাহিকভাবে জরিপের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। কোভিডের কারণে দেশের দারিদ্র পরিস্থিতি নিয়ে তৃতীয় রাউন্ডের প্রথম পর্বের ফলাফল গতকাল উপস্থাপন করা হয়। গত মার্চের তথ্য নিয়ে এ জরিপটি করা হয়েছে। জরিপের ফল অনুযায়ী, যারা নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন তাদের ৫৯ শতাংশ শহরাঞ্চলের অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে ৪৪ শতাংশ। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের হার সামগ্রিকভাবে ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।


অনুষ্ঠানে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, প্রতিবছর গড়ে ১ শতাংশ হারে দেশে দরিদ্র্য মানুষের সংখ্যা কমতো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে করোনার প্রভাবে ৪ শতাংশ হতদরিদ্র সংখ্যা বেড়েছে। গতবছরের তুলনায় অর্থনীতি ঘুড়ে দাড়াচ্ছে কিন্তু খুবই দুর্বল ভাবে। কোভিডের আঘাত সব জায়গায় একইভাবে অনুভূত হয়নি। শহরের তুলনায় গ্রামে তার প্রভাব কমই দেখা গেছে। সে কারণে শহরের বস্তিবাসীর জীবন গ্রামের শ্রমজীবীদের তুলনায় অনেক বেশি অরক্ষিত। জরিপের তথ্য উল্লেখ করে হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, করোনার প্রভাবে গত বছর ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ বস্তিবাসী শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গিয়েছিল, যাদের ৯ দশমিক ৮ শতাংশ এখনো ফেরেনি। প্রাক-কোভিড সময়ের তুলনায় শহরের বস্তিবাসীর আয় কমলেও খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় গত জুনের তুলনায় এ বছরের মার্চে দ্বিগুণ হয়েছে। তিনি মনে করেন, ভাড়া বাড়িতে থাকা অধিকাংশ শহুরে দরিদ্রের জন্য এটি নির্মম বাস্তবতা। সবার সঞ্চয় কমেছে আশ্চর্যজনকভাবে। অরক্ষিত অদরিদ্র এবং দরিদ্র নয় এমন শ্রেণির মানুষের সঞ্চয়ের পরিমাণ কোভিড-পূর্ববর্তী অবস্থার চেয়ে নিচে নেমে গেছে। একই সঙ্গে সব শ্রেণিতেই ঋণ গ্রহণের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। দেশে ৯৮ শতাংশ মানুষের দৈনন্দিক খরচ বেড়েছে।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, কেবল কৃষক ছাড়া জরিপে অংশগ্রহণকারী বাকি সব পেশার মানুষের আয় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় কমেছে। কিন্তু পুনরূদ্ধারের কথা যখন বলা হয়, তখন মূলত সামষ্টিক অর্থনীতির বড় বড় খাত, যেমন তৈরি পোশাক খাতের কথাই উল্লেখ করা হয়। জাতীয় পরিসরে কৃষির কথা সেভাবে উচ্চারিত হয় না। কোভিডের সময়ে যাতায়াত খরচ বেড়েছে, স্বাস্থ্য সেবার খরচ বেড়েছে, এটা নীতি নির্ধারকদের ব্যর্থতা বলে তিনি মনে করেন। করোনার প্রভাবে প্রথম ধাক্কায় অনেক ক্ষতি হয়েছিল। দ্বিতীয় ধাক্কা মোকাবিলা অনেক কঠিন হবে। কারণ সাধারণ মানুষের ঋণের বোঝা দ্বিগুণ হয়েগেছে। মানুষের আয় কমেগেছে।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ