ইলিয়াস আলী গুম ইস্যুতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন মির্জা আব্বাস

মৃত্যু
ইলিয়াস আলী ও মির্জা আব্বাস  © ফাইল ফটো

বিএনপির সাবেক সাংসদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। রোববার বেলা ৩ টায় দক্ষিণ শাহজাহানপুরে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী ‘গুম’ হওয়ার বিষয়ে শনিবার এক ভার্চুয়াল সভায় মির্জা আব্বাসের বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে মির্জা আব্বাস যে বক্তব্য দিয়েছেন তার কিছু অংশ গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি কি বলতে চেয়েছেন বা কি বুঝাতে চেয়েছেন তা আজকের সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা করবেন।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকাস্থ সিলেট বিভাগ জাতীয়তাবাদী সংহতি সম্মেলনীর উদ্যোগে নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে এক ভার্চুয়াল সভা হয়।

ইলিয়াস গুম হওয়ার ইস্যুতে বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে শনিবারের আলোচনা সভায় মির্জা আব্বাস বলেন, ইলিয়াস গুম হওয়ার আগের রাতে দলীয় অফিসে কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বাকবিতন্ডা হয় মারাত্মক রকমের। ইলিয়াস তাদের খুব গালিগালাজ করেছিল। সেই যে পেছন থেকে দংশন করা সাপগুলো আমাদের দলে এখনও রয়ে গেছে।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীন-সার্বভৌমত্ব যে ভুলন্ঠিত হতে যাচ্ছে এটার জ্বলন্ত প্রমাণ হলো ইলিয়াস আলীর গুম। আমি জানি, বাংলাদেশ সরকার বা আওয়ামী লীগ সরকার ইলিয়াসকে গুম করে নাই। কিন্তু গুমটা করল কে? এই সরকারের কাছে আমি এটা জানতে চাই।’

বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা বলেন, ধরে নিলাম এই সরকার গুম করেনি; করল কে? যারা করল তাদের জিজ্ঞাসা করা যায় না? যারা এই গুম করেছে তারা এই দেশের স্বাধীনতা চাইনি, তারা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব থাকতে দেবে না। বেঁচে থাকি কি না জানি না, দেখবেন সামনে আরও ঘটনা ঘটবে। গণমাধ্যমে খবরে দেখলাম প্রত্যেক থানার সামনে মেশিনগান ফিট করেছে, বালু বস্তা দিয়ে বাঙ্কার করা- এসব কীসের আলামত? কাকে মারার জন্য এসব লাগবে? ব্রিটিশ সরকার একটি লাঠি দেওয়ার আগে চিন্তা করে, সেখানে বাংলাদেশে আধুনিক অস্ত্র দিয়ে সশস্ত্রবাহিনীর আদলে পুলিশ বাহিনী তৈরি করা হচ্ছে। একটু হিসেব করার ব্যাপার বুঝি চলে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের একটি প্লাটুনে মাত্র একটি এলএমজি ছিল। আজকে প্রত্যেক থানার সামনে এসব মেশিনগান। এটা নাকি পুলিশকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। যেখানে পুলিশ জনগণকে সুরক্ষা দেবে, সেখানে পুলিশের সুরক্ষা এটা আমার কাছে আশ্চর্য লাগে। পুলিশকে কে আক্রমণ করতে যাবে। যেখানে পুলিশের অত্যাচারে আমরা পাগল হয়ে গেলাম। এটা পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এখন যে অত্যাচার হচ্ছে সেটা ইলিয়াস আলী গুমের সূত্র ধরে।

ভার্চুয়াল সভায় উপস্থিত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ্যে করে তিনি আরও বলেন, যদি এদেরকে দল থেকে বিতাড়িত না করেন, তাহলে কোনো পরিস্থিতিতেই দল সামনে এগুতে পারবেন না।

প্রসঙ্গত, বিএনপির সাবেক সাংসদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হন ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল। রাজধানীর বনানী থেকে গাড়িচালকসহ নিখোঁজ হন তিনি। বিএনপির অভিযোগ তাকে সরকারই ‘গুম’করেছে। তবে সরকার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ

x