০৮ অক্টোবর ২০২০, ১৮:০৪

রিকশা পেলেন ‘নন-ভাইরাল’ প্রতিবন্ধী সুমনও

আহসান ভূঁইয়ার মাধ্যমে পাওয়া রিকশায় লাল জামা পরে বসে আছেন সুমন  © সংগৃহীত

সম্প্রতি রাজধানীর জিগাতলায় রিকশা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। সেখানে ফজলুর রহমান নামে একজন চালকের রিকশা তুলে নেয়া হয়। রিকশা হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। যার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে ২৪ ঘন্টার আগেই নতুন রিকশার ব্যবস্থা হয়ে যায়। কিন্তু তার সঙ্গে থাকা বাকি দুজন চালকদের কান্নার ভিডিও ভাইরাল না হওয়ায় তাদের ব্যথা জানতে পারেননি কেউই।

আহসান ভূঁইয়া নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের খোঁজ রেখেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি ফেসবুকে লিখেন, ভাইরাল রিকশাচালকের সাথে আরও দুইজন রিকশাচালক ছিলেন। যাদের বুক ফাটা কান্না ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়েনি আর তাই তাদের সাহায্যে কেউ আসেনি।

আহসান লিখেছেন, পরশু রাতে তিনটি রিকশা অর্ডার দিয়েছিলাম। ভাইরালের সাথে নন-ভাইরাল চালক দুজনের জন্য। সুমনকে খুঁজে পেয়েছি। তার পায়ে সমস্যা তাই ব্যটারি রিকশা চালাত। এই প্যাডেল রিকশা সে ভাড়া দিবে। অপরজনকে এখনও খুঁজে পাইনি। দেশে ও দেশের বাইরে থাকা বন্ধু ও অপরিচিত মানুষের পাঠানো অর্থে রিকশাগুলো কেনা হল। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোন অবদান নেই।

ভালো কাজের উৎসাহ দিয়ে তিনি আরও লিখেন, আশা করি যেসকল প্রতিষ্ঠান ভাইরাল রিকশাচালকের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা ওই দিন সম্বল হারানো বাকি শত রিকশাচালকের জন্যও একইভাবে এগিয়ে আসবেন। ছবি ভিডিও দিয়ে প্রমোশন করলেও আপত্তি নেই, তাও কাজের কাজটা হোক। চারিদিকে এত খারাপের মাঝে কিছু ভাল দিক ভাইরাল হলে তাতে যদি দশের উপকার হয় ক্ষতি কি! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ছবি দেখার অপেক্ষায় থাকলাম।

ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। তার এমন উদ্যোগের জন্য ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছেন তিনি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অফিসার সুমন আজহার তার কাজকে সাধুবাদ জানিয়ে লিখেছেন, ‘‘আমি দেখেছি, মানুষের জন্য কাজ করলে নানান ভাবে মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায়। ভাই আপনি মানুষের ভালোবাসা নিয়ে সামনে এগিয়ে যান৷ আল্লাহ পাক আপনার সহায় হন’’।

দেলওয়ার হোসাইন তাকে ধন্যবাদ দিয়ে লিখেছেন, ‘‘ভাই আপনাদের মত লোক আছে বলেই হয়তোবা পৃথিবীটা এখনো আছে। দোয়া করি এভাবে সবাইকে সাহায্য করতে পারেন আল্লাহ আপনার সাহায্য কবুল করুক আমিন।

এর আগে কান্নার ভিডিও ভাইরাল হওয়া ফজলুর রহমানেরও নতুন রিকশার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন আহসান। সে সময়েও তিনি তার কাজের জন্য অনেক প্রশংসা পেয়েছেন।

জান্নাত হাসান নামে একজন লিখেছেন, উনার কান্নার ভিডিওটা যতবার চোখের সামনে পড়েছে সহ্য হচ্ছিলো না। হাসিমুখ দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। একজনের মুখে হাসি ফোটানোটাই অনেক অনেক কিছু। উনার মত আরো অনেক রিক্সাচালকদের রিক্সাগুলো উচ্ছেদ করেছে। একজন দুজন করে এভাবে সাহায্য করলে হয়তো তারাও বাচঁবে।