ধর্মীয় কারণ, ১০ মাদ্রাসা শিক্ষককে রাখল না কলকাতার গেস্ট হাউস

ধর্মীয় কারণ, ১০ মাদ্রাসা শিক্ষককে রাখল না কলকাতার গেস্ট হাউস
  © সংগৃহীত

ধর্মীয় পরিচয়ের জন্য কলকাতার সল্টলেকের একটি গেস্ট হাউস থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনই অভিযোগ তুললেন ১০ জন মাদ্রাসা শিক্ষক। এরা সবাই মালদহের বাসিন্দা। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর থানার পুলিশ।

শিক্ষকদের অভিযোগ, বুকিং থাকা সত্ত্বেও তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের দোহাই দিয়ে একপ্রকার জোর করে গেস্ট হাউস থেকে বের দেওয়া হয়েছে। অচেনা শহরে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে কার্যত অসহায় অবস্থায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিজতে হয়েছে। তারপর শিক্ষকদের একটি সংগঠনের সহযোগিতায় ধরে প্রাণ ফিরে পান তাঁরা। 

ওই শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সোমবার মালদহ থেকে কলকাতা আসেন ১০ মাদ্রাসা শিক্ষক। তাঁদের বিকাশ ভবনে ডাইরেক্টর অফ মাদ্রাসা এডুকেশন বিভাগে কাজ ছিল। সেই সূত্রেই এদিন ভোরে কলকাতায় আসা। 

সেজন্য আগেভাগেই সল্টলেকের ডি এল ব্লকের ওই গেস্ট হাউসের রুম বুক করে রেখেছিলেন। সেইমতো সোমবার সকালে তাঁরা গেস্ট হাউসে পৌঁছান। কিন্তু গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনও রুম ফাঁকা নেই। তাঁদের সি এল ব্লকের একটি গেস্ট হাউসে পাঠানো হয়। তিন ঘণ্টা পর সেই গেস্ট হাউসও ছেড়ে দিতে বলা হয় বলে অভিযোগ শিক্ষকদের।

সল্টলেকের মতো এলাকায় এরকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়ায় অবাক হয়েছেন শিক্ষকরা। কৃষ্ণপুর মাদ্রাসা এডুকেশন সেন্টারের প্রধান শিক্ষক সাদেক আলী জানান, দীর্ঘ শিক্ষক জীবনে তিনি কখনও এরকম অপমানের মুখে পড়েননি। একইরকম ভাবে হতচকিত হয়ে পড়েছেন জাহাঙ্গীর আলী। তাঁর কথায়, ‘কলকাতায় এরকম অপমানিত হতে হবে, তা আমরা কখনও ভাবতেও পারেননি।’

নাম গোপন রাখার শর্তে গেস্ট হাউসের এক কর্মী জানান, মুর্শিদাবাদে ছয় আল কায়দা জঙ্গির গ্রেফতারির পর শিক্ষকদের দেখে আপত্তি জানান স্থানীয়রা। সেজন্য তাঁদের অপর একটি গেস্ট হাউসে যেতে বলা হয়।

দ্বিতীয় গেস্ট হাউসের ম্যানেজার গৌতম বসু বলেন, ‘অপর একটি গেস্ট হাউসের তরফে তাঁদের পাঠানো হয়েছিল। আমরা জানিয়েছিলাম, সকাল নয়টার মধ্যে তাঁদের রুম খালি করে দিতে হবে। কারণ আমাদের অন্য অতিথি আসার কথা ছিল। তাঁরা সকাল নয়টায় গেস্ট হাউস ছেড়ে দেন।

শিক্ষা সংগঠনের নেতা মইদুল ইসলাম বলেন, বুকিং এর সময় অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছে। তারপর এদিন সকালে গেস্ট হাউসে পৌঁছনোর পর বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে বোর্ডিং করেন ওই ১০ জন। তার কিছুক্ষণ পর গেস্ট হাউসের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের বেরিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রবল বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বিকাশ ভবন আসেন ১০ শিক্ষক। তারপর মেট্রো ওভারব্রিজের নিচে গিয়ে আশ্রয় নেন তাঁরা। এরপর পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের সহযোগিতায় বিধাননগর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। বিকেলে মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে বিষয়টি জানান। পরে ডি এল ব্লকের গেস্ট হাউসের পাঁচ কর্মীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। 

তবে সেই ঘটনায় স্তম্ভিত বুদ্ধিজীবী মহল। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন কবি জয় গোস্বামী এবং অভিনেতা কৌশিক সেন। তাঁদের বক্তব্য, আল কায়দা জঙ্গিদের গ্রেফতারি কখনও কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষকে দূরে ঠেলে দেওয়ার অজুহাত হতে পারে।

সিপিএম নেতা মুহাম্মদ সেলিম আবার সল্টলেকের ওই গেস্ট হাউসের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়ার দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের জন্য সর্বদা পরিচিত বাংলা। এটা বরদাস্ত করা হবে না। ওই গেস্ট হাউসের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া উচিত সরকারের।’

সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস্ বাংলা


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ