২৮ জুলাই ২০১৯, ১১:৩০

সেই রাজীবের ভাইদের তিতুমীর কলেজের আর্থিক সহায়তা

  © সংগৃহীত

রাজধানীতে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারিয়ে মারা যাওয়া শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের দুই ভাইকে আর্থিক সহায়তা করেছে সরকারি তিতুমীর কলেজ কর্তৃপক্ষ। তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আশরাফ হোসেন এবং উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোসা. আবেদা সুলতানা শিক্ষকদের পক্ষ থেকে রাজীবের দুই ভাইয়ের হাতে ৭৫ হাজার টাকা তুলে দেন।

শনিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে মাদ্রাসাপড়ুয়া রাজীবের ছোট ভাই মেহেদি ও আব্দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে রাজীবের দুই খালা আসেন তিতুমীর কলেজে। এ কলেজেই পড়তেন রাজীব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের উনিশতম শিক্ষক পরিষদের সদস্যরা।

রাজীবের নির্মম মৃত্যুর কথা স্মরণ করে কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সালমা মুক্তা ফেসবুকে লেখেন- ‘মনে প্রশ্ন জাগে, এভাবে আর কত রাজপথে জীবন বিলিয়ে দেব আমরা? ইচ্ছামত মাতাল চালকরা কেড়ে নিচ্ছে মানব প্রাণ। তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আরেক শিক্ষার্থী সিদ্দিক দু'বছর আগে শাহবাগের শিক্ষা আন্দোলনে হারিয়েছে দু'চোখ। এইতো, ক'দিন আগেই তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানেরই আরেক শিক্ষার্থী তাসলিমা বেগম রেনু ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছে। হয়তো রেনু আমারই সরাসরি শিক্ষার্থী ছিল না। কিন্তু কেন এই নৈরাজ্য? ক্রিমিনালদের তাৎক্ষণিক দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে নষ্টদের হাতেই জিম্মি হবে আমাদের জীবন। যে ত্যাগের বিনিময়ে আমরা লাল-সবুজ পতাকা হাতে নিয়েছি, সে রাষ্ট্রের বাস্তবতা তো এমন হতে পারে না!'

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় সার্ক ফোয়ারার কাছে বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। বাসটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের বিপরীতে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে পৌঁছলে হঠাৎ পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে ঘেঁষে অতিক্রম করে।

এ সময় দুই বাসের প্রবল চাপে গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজীবের ডান হাত কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এতে তার মাথায়ও প্রচণ্ড আঘাত লাগে।

দুর্ঘটনার পর তাকে প্রথমে শমরিতা হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল ভোর পৌনে ৪টায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন রাজীব। এরপর ওই দিন সকাল ৮টায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। একই বছরের ১৭ এপ্রিল মারা যান তিনি। এর আগে ৩ এপ্রিল রাজীব বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় পেনাল কোডের ২৭৯/৩৩৮ এর ক ধারায় মামলা করে যান (মামলা নম্বর ১১(৪)১৮)।

২৭৯ ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছর ও ৩৩৮ ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছরের জেল। মামলার পরই বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ ও স্বজন পরিবহনের বাসের চালক মো. খোরশেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তারা কারাগারে আটক রয়েছেন।

রাজীবের মৃত্যুর পর বেপরোয়া যান চালিয়ে হত্যার অভিযোগের একটি ধারা ওই মামলায় যুক্ত করার আবেদন করে শাহবাগ থানা পুলিশ।

রাজীব মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। রাজীবের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলে। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মা এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান।