বিএনপি কার্যালয়ে হামলা করে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে কুপিয়ে জখম, অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন সাতাইশ এলাকায় বিএনপির একটি পার্টি অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত মো. মোজাম্মেল লস্কর (৪৯) টঙ্গী পশ্চিম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোজাম্মেল লস্কর সাতাইশ এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী। গত কয়েক মাস ধরে মোঃ বেলাল খান (৩৫) ও আশরাফুল ইসলাম (৩২)-এর সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। স্থানীয়রা জানান, বেলাল খান নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এদিন রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে সাতাইশ স্কুলের পশ্চিম পাশে অবস্থিত বিএনপির পার্টি অফিসে বসা অবস্থায় বেলাল খান ও আশরাফুল ইসলাম ১৫–২০ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগীসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অফিসে প্রবেশ করে। তারা অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে মোজাম্মেল লস্করকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে বেলাল খান চাপাতি দিয়ে তার মাথায় কোপ দিলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। আশরাফুল ইসলাম লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করে এবং তার পকেটে থাকা ব্যবসার নগদ ৫২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীরা এসএস পাইপ ও লোহার রড দিয়েও আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে।
পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশী রনি খান, মামুনুর রশিদ ও তার বড় ভাই তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মাথায় আটটি সেলাই দেন।
এ ঘটনায় মোজাম্মেল লস্কর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীন টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত বেলাল খানকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহবায়ক প্রভাষক বশির উদ্দিনকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন খান বিষয়টি নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় যাতে কোনো ধরনের উত্তেজনা ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।