হবিগঞ্জে ২৫ জনের মধ্যে ১৬ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলার চারটি আসনে মোট ২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৬ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মোট কাস্টিং ভোটের এক-অষ্টমাংশ (৮ ভাগের ১ ভাগ) ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জের চারটি আসনে প্রধান দুটি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় ভোট পেতে ব্যর্থ হন। ফলে চারটি আসনে মোট ১৬ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল)এই আসনে জামানত হারান বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ বদরুর রেজা (ভোট ৫,২৭২) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কাজী তোফায়েল আহমেদ (ভোট ৬৪৪)।
হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) এই আসনে তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী আফছার আহমেদ রূপক (১,৮৪৩ ভোট), জাতীয় পার্টির আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী অপু (৯৪১ ভোট) ও বাসদের লুকমান আহমদে তালুকদার (৪৪৮ ভোট)।
হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর-লাখাই) এই আসনে চার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল (৫,৪৪৩ ভোট), জাতীয় পার্টির আব্দুল মুমিন চৌধুরী (১,২৫৯ ভোট), ইসলামী ফ্রন্টের এসএম সরওয়ার (১৪,১৩৩ ভোট) ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের শাহিনুর রহমান (১৩২ ভোট) প্রয়োজনীয় ভোট অর্জনে ব্যর্থ হন।
হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) সবচেয়ে বেশি সাত প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে এই আসনে। তারা হলেন ১১ দলের মনোনীত খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের (২৬,৪৬৬ ভোট), স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী (৬৫২ ভোট), ইঞ্জিনিয়ার এস এ সাজন (৬১৯ ভোট), মুসলিম লীগের শাহ মো. আল আমিন (৫৩৬ ভোট), বাসদের মুজিবুর রহমান (৩২৯ ভোট), সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের রাশেদুল ইসলাম খোকন (৪৮৪ ভোট) ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রেজাউল মোস্তাফা (৪৮৪ ভোট)।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রচারণা চালালেও ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে হবিগঞ্জের চারটি আসনেই বড় দুই দলের বাইরে থাকা অধিকাংশ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।