শুধু হাদি নয়, নির্বাচন বানচালে ৫০ প্রার্থীকে টার্গেট আওয়ামী লীগের: রাশেদ খাঁন
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনায় দুর্বৃত্তদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন। অন্যথায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে পদত্যাগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শুধু হাদিই নয়, নির্বাচন বানচালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অন্তত ৫০ জন প্রার্থীকে টার্গেট করে ‘ক্লিন করার পরিকল্পনা’ নিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
আজ শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ঝিনাইদহে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রাশেদ। এর আগে দুপুরে ঢাকার পল্টনে বিজয়নগর পানির ট্যাংকির কাছে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহন হন ওসমান হাদি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অস্ত্রোপচার শেষে পোস্ট অপারেটিভ কেয়ারের জন্য ইতোমধ্যেই তাকে এভারকেয়ারের হাসপাতালের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ওসমান হাদিকে টার্গেট করে তার মাথায় গুলি চালানো হয়েছে। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এই মুহূর্তে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আছেন। আমি শুনেছি তিনি কোমায় আছেন, অর্থাৎ তার অবস্থা ভাল নয়। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, ওসমান হাদি যাতে সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তিনি কিভাবে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। আমার কাছে মনে হয় এই কারণেই তাকে টার্গেট করে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আপনারা জানেন, এই ঝিনাইদহ জেলাতে দাঁড়িয়ে আমি বলেছিলাম, আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা জানেন যে আওয়ামী লীগের এবং ভারতের একটি চক্রান্ত রয়েছে নির্বাচন বানচাল করার। আর এই লক্ষ্যে ৫০ জন প্রার্থীকে টার্গেট করে ক্লিন করা হবে। এ ধরনের ঘটনা ঘটা শুরু হয়ে গেছে না?
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, তার মানে যদি আপনারা ফ্যাসিবাদ মুক্ত নির্বাচন না করতে পারেন, ওই ফ্যাসিবাদের দোসরদের নির্বাচনের সুযোগ দেন, এই ধরনের অসংখ্য ঘটনা ঘটবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়ে তারা কিন্তু মূলত নির্বাচন করবে না, বরং নির্বাচনকে বানচাল করবে।
তিনি বলেন, আজকে ওসমান হাদিকে যেভাবে গুলি করা হয়েছে, আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, আমাকেও তো টার্গেট করে গুলি করা হতে পারে। হতে পারে না? সুতরাং আমরা যারা নির্বাচন করতে চাই, তারা কোনভাবেই নিরাপদ নই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আপনারা কি করলেন? এই ১৬ মাসে কেন নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে পারলেন না? আজকে আমার ভাই রক্তাক্ত, বাঁচবে কি মরবে আমরা কেউ জানি না। আগামীকাল তো আমিও মারা যেতে পারি। আগামীকাল তো আমিও গুলিবিদ্ধ হতে পারি।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বলব, এর আগে নুরুল হক নুরসহ আমাদের ওপরে হামলা করা হয়েছিল, আপনি বিচার করতে পেরেছেন? বিভিন্ন সময় আমরা আক্রান্ত হয়েছি। চট্টগ্রামের একজন প্রার্থী, তার গণসংযোগেও গুলি করে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় দুর্বৃত্তরা গণসংযোগে হামলা চালাচ্ছে। আজকেও ঢাকাতে একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি, তাকে টার্গেট করে গুলি করা হয়েছে। সুতরাং আপনারা শুধুমাত্র তাফসিল ঘোষণা করে যদি মনে করেন সেরা নির্বাচন করবেন, সেরা নির্বাচন করার জন্য সেরা নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সেটি কতটুকু করতে পারবেন আমি জানি না। আমি অত্যন্ত ব্যথিত, আমার ভাই, যার সাথে আমরা একসাথে মিছিল করেছি, একসাথে লড়াই করেছি, একসাথে আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, সেই ভাই আজকে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে। আমরা কি করে ভালো থাকি?
তিনি আরও বলেন, আমি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বলব, ২৪ ঘন্টার মধ্যে যদি এই দুর্বৃত্তদেরকে গ্রেপ্তার করতে না পারেন, আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে। আপনার মত ব্যক্তি আমাদের দরকার নাই। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন না। আজকে আমি কষ্ট পাচ্ছি, আমি ব্যথিত, আমার কথা বলারও অবস্থা নাই। তারপরে আপনাদের উদ্দেশ্যে বলছি যে এই নির্বাচন তখনই সুষ্ঠ হবে যখন প্রার্থীদের নিরাপত্তা এই সরকার নিশ্চিত করতে পারবে।