১৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:১২

এনবিআরের আন্দোলনে বহিষ্কৃতদের বিষয়ে ইতিবাচক সমাধানের ইঙ্গিত অর্থ উপদেষ্টার

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ  © সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন হয়, সেই সময় কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন—আন্দোলনের সময় বহিষ্কৃত হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক সমাধানের পথ খুঁজছে।

শনিবার আগারগাঁওয়ের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান, সদস্য জি এম আবুল কালাম কায়কোবাদ এবং সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এনবিআর সদস্য মোতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “আন্দোলনের সময় সরকার দুই মাস ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। তখন অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলেও তা নেতিবাচকভাবে দেখা হয়নি। কারণ, তাদের জীবিকা এই চাকরির ওপর নির্ভরশীল। তা সত্ত্বেও যা ঘটেছে—সেটি নিয়ে ইতিবাচকভাবে ভাবা হচ্ছে। কাজের পরিবেশ ভালো না হলে কর্মীরা উদ্যম হারিয়ে ফেলবে।”

এনবিআরকে দ্বিখণ্ডিত করার সিদ্ধান্তের পর গত মে-জুনে ধারাবাহিক কলম বিরতি, শাটডাউনসহ বিভিন্ন আন্দোলনকারী কর্মসূচি পালিত হয়। এর প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এনবিআরের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, যারা আন্দোলনে সরাসরি সক্রিয় ছিলেন না কিন্তু তবুও বহিষ্কৃত হয়েছেন—তাদের সাধারণ ক্ষমার বিষয়ে কিছু কর্মকর্তা উদ্যোগ নিচ্ছেন।

অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, এনবিআর আন্দোলনের ঘটনায় তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছে বলে শোনা গেলেও তিনি এসব দেখেন না। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই। তবে বিদেশে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে এসব সমালোচনার কথা তিনি জানতে পারেন। তিনি বলেন, “এনবিআরের কর্মকর্তাদের প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় যা লেখা হয়—তা পড়লে হয়তো মাথা নষ্ট হয়ে যেত।”

কর ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, করদাতারা যেন বৈষম্যের শিকার না হন সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কর আদায়ের ক্ষেত্রে নম্রতা, দক্ষতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সততা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দেন তিনি। “ব্যবসায়ীরা তো কর ফাঁকি দেওয়ার পথ খুঁজবে—কিন্তু তা প্রতিহত করতে হবে পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার মাধ্যমে,” মন্তব্য করেন তিনি।