২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৩:২২

১ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে আহতদের আজও অবস্থান

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে আহত ব্যক্তিরা  © সংগৃহীত

এক দফা দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে টানা ২৬ ঘণ্টা ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা। গতকাল বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে এখানে অবস্থান শুরু করেন তারা।

বৃহস্পতিবারও (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে প্রধান উপদেষ্টার প্রধান ফটকের সামনে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন আন্দোলনকারী অবস্থান করতে দেখা গেছে গেটের সামনে।

এ সময় পুলিশ ও কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নসহ (এপিবিএন) বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা তাদের ঘিরে আছেন।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, রাতে এখানে তারা খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান করেছেন। সকালে অনেকে আশপাশে কোথাও গিয়েছেন। ফলে এখন মানুষের সংখ্যা কম। তবে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জুলাই আহতরা রওনা হয়েছেন। দাবি আদায়ে তারাও দুপুর-বিকাল নাগাদ যোগ দেবেন।

আন্দোলনের শুরুতে আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবিতে এলেও পরে গতকাল থেকে তারা এক দফা দাবিতে অনড় থাকেন।

গতকাল রাতে আহত এক শিক্ষার্থী মো. আরমান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আমাদের তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সরকার বৈষম্য তৈরি করছে। অনেক গুলিবিদ্ধ যারা আছেন, তাদের সি ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে, যা স্পষ্ট আমরা বৈষম্য দেখছি। তাই আমরা দুটি ক্যাটাগরি চাই। আমাদের এ দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাব। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত আমরা একই জায়গায় অবস্থান করব।

এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর প্রথম ‘উন্নত চিকিৎসার’ দাবিতে পঙ্গু হাসপাতালে সামনে বিক্ষোভ করেন জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের আহত কয়েক শ ব্যক্তি। সেদিন রাত ৩টার দিকে সরকারের চার উপদেষ্টার আশ্বাসে প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর তারা সড়ক ছেড়ে হাসপাতালে ফিরে যান।

গত ১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার থেকে আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতালে সামনে আবারও বিক্ষোভে নামেন আহতরা। সে সময় তারা সুচিকিৎসার পাশাপাশি ‘পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি’র দাবি তোলেন। সেদিন সেখানে সারা রাত আন্দোলন করার পর ২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে আগারগাঁও ও শ্যামলী মিরপুর রোড সড়ক অবরোধ করে দিনভর বিক্ষোভ করেন। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিরপুর সড়ক ছেড়ে বিক্ষোভরত আহত ব্যক্তিরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে যাত্রা করেন।

পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহর আশ্বাসে রাত পৌনে ২টার দিকে তারা যমুনার সামনে থেকে বিক্ষোভ ছেড়ে হাসপাতালে ফিরে যান আন্দোলনে আহতরা।