১৭ মে ২০২৪, ১৮:৪০

রোকনকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে কেউ হাসছেন, কারো চোখে পানি ঝরছে

রোকন উদ্দিনকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান এলাকাবাসী  © টিডিসি ফটো

বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে আসায় নাবিক রোকনের বাড়িতে বইছে ঈদের আমেজ। নাবিক রোকনের মা লুৎফুর নাহার ছেলেকে পেয়ে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে শুরু করেন। আর কৃষক বাবা মিরাজ আলী ছেলের চেহারার দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। ছেলে ঘরে ফিরায় বাড়িতে চলছে আনন্দ উৎসব। এ যেন ঈদ আনন্দকেও হার মানিয়েছে। এমনই এক অবস্থা বিরাজ করছে সোমালিয়া জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া এমডি আব্দুল্লাহ নাবিক রোকন উদ্দিনের বাড়ি নেত্রকোণায়। 

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) রাতে সদর উপজেলার বাঘরোয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছেছেন তিনি। এর আগে গত মঙ্গলবার এমভি আব্দুল্লাহ চট্টগ্রামের মহেশখালি বন্দরে পৌঁছায়। পরবর্তীতে কোম্পানির সকল নিয়ম কানুন মেনে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন রোকন।

রোকন উদ্দিন সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের বাঘরোয়া গ্রামের কৃষক মিরাজ আলী ও লুৎফুর নাহার দম্পতি ছেলে। গত ১২ মার্চ সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি জাহাজে বন্দি হওয়া ২৩ নাবিকের একজন নেত্রকোণার রোকন উদ্দিন। তিনি বাড়িতে পৌঁছার খবর পেয়ে এলাকার লোকজন তার বাড়িতে ছুটে এসেছে একনজর দেখার জন্য। অনেকেই আবার আসার খবর শুনে ২-৩ ঘণ্টা আগে থেকে বাড়িতে অপেক্ষা করেন।

রোকনের বাড়ির ভাবি ভাতিজা সকলেই আনন্দে আত্মহারা। প্রত্যেকে সন্ধ্যার আগে থেকে পথ চেয়ে বসে ছিল কখন রোকন বাড়িতে আসবে। তার বাড়িতে আসার খবর শুনে এলাকার বন্ধুমহল ও পরিচিতজনরা ফুলের শুভেচ্ছা জানাতে এসে ভিড় করেন। বাড়ি আসার পর রোকনের স্বজনদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কেউ আনন্দে হাসছে আবার কারো কারো আনন্দে চোখ দিয়ে পানি ঝরছে।

রোকনের ভাবি বলেন, রোকন আমার হাতের যত ধরনের রান্নার করা খাবার খেতে পছন্দ করে সব ধরনের রান্না করে রেখেছি। আজকের দিন টা ঈদ আনন্দের চেয়েও আমাদের কাছে অনেক বড় একটি দিন।

এমডি আব্দুল্লাহর থার্ড ইঞ্জিনিয়ার রোকন উদ্দিন বলেন, বন্দিদশা থাকা অবস্থায় প্রতিটা মুহূর্ত ছিল আতঙ্কের। আমরা মুসলমান হওয়ায় এবং রোজা রাখার কারণে সোমালিয়ান দস্যুরা আমাদের সাথে সহনশীল আচরণ করেছে। তবে এই সময়টা ছিল খুব আতঙ্কের। সপ্তাহে একদিন পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলার সুযোগ দিত এবং ওই সময় পরিবারের সদস্যদের সাথে হাসিমুখে কথা বলতাম। যাতে পরিবারের কেউ দুশ্চিন্তা না করে। সর্বোপরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং রাষ্ট্রের কলা কৌশলী ও গণমাধ্যমের বদৌলতে দ্রুত সময়ের মধ্যে মুক্তি লাভ করেছি।

রোকনের মা লুৎফুন নাহার বলেন, আমার ছেলে অক্ষত অবস্থায় আমার কাছে ফিরে আশায় সরকারকে এবং তার কর্মস্থল কোম্পানির কর্তৃপক্ষদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

উল্লেখ্য, রোকন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার পাস ২০১৫ সালে চাকুরিতে যোগদান করেন। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে বর্তমান শিপ কোম্পানিতে যোগদান করেন। এরপর ১২ মার্চ প্রথম রোজার দিন ভারতীয় মহাসাগরের সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে বন্দী হন।