০৮ মার্চ ২০২৪, ২০:৫২

নারীর অধিকার সুরক্ষার প্রতিজ্ঞাই হোক আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মূলমন্ত্র

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

আজ ৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিনটিকে নিয়ে আপনি হয়ত অনেক আলোচনা শুনে থাকবেন অথবা এ নিয়ে নানান খবরাখবরও দেখে থাকবেন খবরের পাতায় কিংবা টেলিভিশনের স্ক্রিনে। কিন্তু এই দিনটা আসলে কী জন্য? এর গুরুত্ব আসলে কোথায়? এটা কীভাবে শুরু হয়? এনিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের হাবিপ্রবি প্রতিনিধি রিয়া মোদক

ইতিহাসের পাতায় চোখ বোলালে আমরা জানতে পারি ১৯০৮ সালের সেই দিনটির কথা। যখন এক সাথে প্রায় ১৫ হাজার নারী নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমে আসে কর্মঘণ্টা কমানো, বেতন বৃদ্ধি ও ভোটের অধিকারের দাবিতে। এর এক বছর পর সোশ্যালিস্ট পার্টি অফ আমেরিকা প্রথম জাতীয় নারী দিবসের ঘোষণা দেয়।

এই দিবসকে আন্তর্জাতিকভাবে পালনের চিন্তাটা মাথায় আসে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবী ও সমাজতান্ত্রিক কর্মী ক্লারা জেটকিনের। তিনি তার এই চিন্তাটা জানান ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে নারী শ্রমিকদের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে। সেখানে ১৭টি দেশের ১০০ জন নারী উপস্থিত ছিলেন এবং তারা সর্বসম্মতিক্রমে তার এই প্রস্তাব মেনে নেন।

তবে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয় অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি এবং সুইজারল্যান্ডে। আর এই দিবসের শতবর্ষ উদ্‌যাপিত হয় ২০১১ সালে।

এই দিবসের সব কিছু আনুষ্ঠানিক রূপ পায় ১৯৭৫ সালে, যখন জাতিসংঘ এটা উদ্‌যাপন করতে শুরু করে। আর প্রথমবার এই দিবসের একটা প্রতিপাদ্য ঠিক হয় ১৯৯৬ সালে। জাতিসংঘ সেবার দিবসটি পালন করে “অতীতের উদ্‌যাপন, ভবিষ্যৎ ঘিরে পরিকল্পনা” এই স্লোগান নিয়ে।

প্রতি বছর এখন এই দিবসে উঠে আসে নারীরা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে কতটা এগিয়েছে সেই বিষয়টা। একই সাথে লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে রাজনৈতিকভাবে নানা আন্দোলন ও প্রতিবাদের আয়োজন করা হয় এ দিনটি ঘিরে।

বর্তমানে নারীরা অনেক অগ্রসর। কারণ মানুষ বুঝতে শিখেছে—তার মোট জনপদের অর্ধেক অংশকে বঞ্চিত রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয় বরং আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকালেও আমরা দেখতে পাই নারীদের সরব উপস্থিতি। একদিকে যেমন তারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে অপরদিকে নিজেকে তৈরি করছে পরবর্তী বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়।

একসময় দেখা যেতো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য চলমান ক্লাব বা সংগঠনে পুরুষদের আধিপত্য। কিন্তু এই ধারায় পরিবর্তন এসেছে। নারীরাও তাদের প্রতিভা ও নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে অবিরত। উদাহরণ হিসেবে আমরা দেশের উত্তরবঙ্গের একটি বিশ্ববিদ্যালয় দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলতে পারি। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জন্য অন্যতম সংগঠন রিসার্চ সোসাইটির প্রতিষ্ঠা এক নারীর হাত ধরে। বর্তমানেও একজন নারী সেটির সভাপতি।

বাসাবাড়ি কিংবা রাস্তাঘাটে সাপ দেখে লাঠি হাতে নেয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে সর্পকণ্যা কণা। যিনি সাপ থেকে শুরু করে অন্যান্য বন্য প্রাণী উদ্ধার করে উপযুক্ত পরিবেশে অবমুক্ত করে থাকেন এবং নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমনই এক সংগঠনের সর্বোচ্চ পদে থেকে।

শুধু পড়াশোনা বা জ্ঞানার্জনই নয়। সর্বোচ্চ পদক পেয়ে সেরা নারী অ্যাথলেট নির্বাচিত হওয়া, ডিবেটের মঞ্চ কাঁপানো থেকে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপহার দেওয়া অর্ক কিংবা সেঁজুতি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে সফলতার মুখ দেখে সেখানেও নারীদের দীপ্ত পদচারণা।

ক্যাম্পাসে নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। বিভিন্ন দিবসে তাদের পুরুষদের ন্যায় সমান অংশগ্রহণ তাই তাদের অবস্থানকে আলাদাভাবে জানান দেয়। এমনই হাজারো গল্প আছে নারীদের নিয়ে। আবার সেসব গল্পগুলো খবরের পাতায় তুলে আনেন যেসব সাংবাদিক তাদের মধ্যে অন্যতম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি রিয়া মোদক। তার মতো আরও দুজন বর্তমানে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সদস্য।

এটি তো গেলো শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র। এরকম হাজারো ফিরিস্তি তুলে ধরা যাবে নারীদের অবদান এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ নিয়ে মূলধারার প্রতিটি ক্ষেত্রে। প্রয়োজন তাদের অধিকার ও সম্মানের প্রতি লক্ষ্য রাখা, যাতে করুণা নয় নিজ মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর তারা রাখতে পারে প্রতিটি ক্ষেত্রে। তবেই জানানো হবে নারীকে তার প্রাপ্ত সম্মান। সার্থক হবে নারী দিবস।