১৪ নভেম্বর ২০২৩, ১০:৫৭

৫৭ সেকেন্ডে ৪৩ ব্যালটে সিল মারার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

নৌকায় ছিল মারেন ছাত্রলীগ নেতা আজাদ হোসেন  © ফাইল ছবি

লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনে ৫৭ সেকেন্ডে ব্যালট বইয়ে নৌকা প্রতীকে ৪৩টি সিল মারার ঘটনা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) সকালে উপ-নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি), জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও উপ-নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পৃথকভাবে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

নির্ধারিত সময় শেষে সোমবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. জাহাংগীর আলম গণমাধ্যমকে জানান, উপনির্বাচনের কমিশন তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তারা লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার প্রমাণ পেয়েছে। সেখানে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। 

তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এর দুটি কেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। সেখানেও ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ওই কেন্দ্র দুটির ফল বাতিল করে, সংশোধিত ফলের ওপর গেজেট প্রকাশ করা হবে।

এদিকে শনিবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ব্যালট বইয়ে সিল মারা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজাদ হোসেনকে আদালতে সোপর্দ করে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চন্দ্রগঞ্জ আদালতের বিচারক বেলায়েত হোসেন তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতের জিআরও মো. শরীফ উল্যাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে ব্যালট বইয়ে অনবরত নৌকায় সিল মারার ঘটনাটি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়। তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন ইসিতে জমা দেয়া হয়েছে। পৃথকভাবে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারকেও তদন্তের নির্দেশ দেয় ইসি। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে জানান তিনি।