তামাক ব্যবসায়ীদের পরোক্ষভাবে সুবিধা দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী: সাবের চৌধুরী
‘অর্থমন্ত্রী বাজেটে সব পণ্যের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স বাড়ান। কিন্তু শুধু একটি পণ্যের দাম সরাসরি বাড়ান। সেটি হলো তামাক ও তামাকজাত পণ্য। এর ফলে পরোক্ষভাবে তামাক ব্যবসায়ীদের সুবিধা পাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। এ বিষয়ে সংসদে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন
সংসদে সাবের চৌধুরী জানান, দেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ মারা যান। কোভিডেও এতো মানুষ মারা যায়নি। কোভিডে তিন বছরে ৩০ হাজার লোক মারা গেছে। এরপরও কেন অর্থমন্ত্রী তামাক পণ্য উৎপাদনকারীদের প্রতি বছর বাজেটে সুবিধা দেন? তিনি বলে থাকেন, বাজেটে কর বাড়ানোর জন্য জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। আর অর্থমন্ত্রী নিজেই তামাক পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। এভাবে দাম বাড়িয়ে তামাক কোম্পানিকে তিনি মুনাফার একটা সুযোগ করে দিচ্ছেন। কর যদি আরোপই করতে হয়, এমনভাবে করেন যেন সরকার শতভাগ কর পায়। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ে।
আরও পড়ুন: বাজেটের ঘোষণার আগে অর্থমন্ত্রীর কালো ব্রিফকেসে কী থাকে?
তিনি আরও বলেন, তামাক পণ্য থেকে আমরা পাই ২২ হাজার কোটি টাকা। ব্যয় হয় ৩০ হাজার কোটি টাকা। একটা সারচার্জ আদায় হয়, এই সারচার্জ ৩০০ কোটি টাকা, এর মধ্য থেকে মাত্র ৯ কোটি টাকা আসে এই তামাককে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য।
সংসদীয় কমিটির সভাপতি বলেন, তামাকের কারণে বর্তমানে আমরা জিডিপির ২ শতাংশ হারাচ্ছি। এইভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালে আমরা ৯ শতাংশ হারাব। সুতরাং আসলে এটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা যদি আমাদের গ্রোথটাকে ধরে রাখতে চাই, তাহলে এক্ষেত্রে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।