বঙ্গবন্ধু দেশে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চেয়েছিলেন: দীপু মনি

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি  © ফাইল ছবি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের পর সামরিক শাসনামলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার পাকিস্তানীকরণ শুরু হয় বলে মন্তব্য করেছে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।।

বৃহস্পতিবার (৮ জুন) বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার কক্ষে ‘সকল মাদ্রাসার শিক্ষা যুগোপযোগী করা প্রয়োজন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করতে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের পর সামরিক শাসনামলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার পাকিস্তানীকরণ শুরু হয়। ২০০৯ সালে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করার পর আমরা সেটি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছি। যুগোপযোগী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থা আমরা প্রণয়ন করার চেষ্টা করছি। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য একটি বিজ্ঞানমুখী-যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে। সেই সাথে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের চেষ্টাও করা হচ্ছে।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট লেখক মাওলানা হাসান রফিক। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, শিক্ষাবিদ শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, মাওলানা এয়াকুব বাদশা এবং ফরহাদ হোসেন ফাহাদ।

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, রাষ্ট্র চাইলেই শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। মাদ্রাসা বোর্ডের সবাইকে নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও কীভাবে দেশের জনশক্তি, সম্পদ হয়ে উঠতে পারে এ ব্যাপারে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভায় অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন,  একটি ছেলের বিজ্ঞানী হওয়ার শখ। কিন্তু সে কওমি মাদ্রাসায় পড়ে বলে বিজ্ঞানী হতে পারবে না। এমন হতাশামাখা অনেক মেইল আমার কাছে এসেছে। মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা একটি জীবনব্যবস্থা যাতে পিষ্ট হচ্ছে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী। তাই মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা যুগোপযোগী করা দরকার।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, ‘মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা থেকে দূরে রাখা হয়। তারা অফিস, আদালতে কিংবা বড় কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারে না কেন? তাদেরও তো অধিকার আছে সেখানে কাজ করার। তাই মাদ্রাসার এই শিক্ষাকে যুগোপযোগী করে তাদের দেশের দক্ষ সন্তান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।


সর্বশেষ সংবাদ