নয়াপল্টনে সংঘর্ষের পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

বিএনপি
নয়াপল্টনে সংঘর্ষের পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির  © সংগৃহীত

নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, হত্যা ও গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে। বুধবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে দলটির স্থায়ী কমিটির সভা শেষে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশের গুলিতে নিহত ও বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ আটককৃত নেতা কর্মীদের মুক্তি দাবি করা হয়।

সভায় অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি হামলা, গুলি, দমন-নিপীড়ন গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে পুলিশি হামলা, গুলিতে নিহত ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার প্রতিবাদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

এর আগে, এদিন বেলা সাড়ে চারটা পর্যন্ত নয়াপল্টনের সংঘর্ষে আহত আটজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়। তাদের মধ্যে মকবুল মারা গেছেন। অন্যদের মধ্যে চারজনের নাম পাওয়া গেছে, তারা হলেন রনি, মনির, আনোয়ার ইকবাল ও খোকন। রক্তাক্ত অবস্থায় মকবুলকে এক ব্যক্তি হাসপাতলে নিয়ে আসেন, যিনি নিজের নাম মোস্তাফিজুর রহমান বলে জানিয়েছেন।

ওই ব্যক্তির দাবি, তিনি পথচারী, রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে মকবুলকে তিনি হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

এদিকে, বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর সিনিয়র নেতাসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ৩০০ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া কার্যালয় থেকে ১৬০ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় পুলিশের অন্তত ৫০ সদস্য আহত হয়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বিএনপির কার্যালয়ে অভিযান ও তল্লাশি চালিয়ে বিস্ফোরক ও ককটেল পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পৌনে দুই লাখ পানির বোতল, প্রায় দুই লাখ নগদ টাকা ও ১৬০ বস্তা চাল পাওয়া গেছে। তাঁরা এসব খাদ্যদ্রব্য এনেছিলেন যাতে নেতা-কর্মীরা এখানেই রান্না করে খেয়েদেয়ে থাকতে পারেন।


সর্বশেষ সংবাদ