৩৫ বছরের পেশায় থাকতে চান না আজিজুল পণ্ডিত
‘জানেন আমার পাঁচটা মেয়ে, তিনটা বিয়া দিয়া দিছি এহনো দুইটা মেয়ে আছে তাদের বিয়া দিমু কেমনে তা আল্লাহই জানে, যেই অবস্থা দেশের সব মালের দাম বেশি বউ-বেডি লইয়া তিনবেলা ভাতই খাইতে পারিনা। এই জন্যই ত কই এই ব্যবসা ছাইররা দিমু।’ কথা গুলো বলেছেন আজিজুল হক পণ্ডিত (৫৫) নামের একজন চিঁড়া-নারিকেল বিক্রেতা। তিনি ৩৫ বছর ধরে চিঁড়া ভাজা বিক্রি করেন চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন হাটে-বাজারে।
প্রায় ৩৫ বছর ধরে চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন বাজারে চিঁড়া ভাজা বিক্রি করে আসছিলেন আজিজুল হক পণ্ডিত। চিঁড়াভাজা থালিতে ভরে মাথায় করে হেঁটে হেঁটে বিক্রি করেন তিনি। সেই চিঁড়া ভাজা বেচা-বিক্রির আয়ে স্ত্রী ও পাঁচ মেয়ে নিয়ে কোনো রকমে খেয়েপরে দিন কাটছিল তার। এরই মধ্যে তিন মেয়ের বিবাহ দিয়েছেন তিনি এখনো অবিবাহিত রয়েছে দুই মেয়ে।
আরও পড়ুন: বশেমুরবিপ্রবির ভর্তি শুরু, শেষ ১২ নভেম্বর
আজিজুল হক পণ্ডিত উপজেলার জিন্নাগর ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ডের মৃত হেমায়েত হোসেন পণ্ডিতের ছেলে। আজিজুল হকের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ৩৫ বছর ধরে চিঁড়া ভাজা বিক্রি করেন তিনি। আর এসব তৈরিতে তার স্ত্রী সাহায্য করেন তাকে। তিনি বলেন চিঁড়া ভাজা তৈরি করতে তেমন কোনো ঝামেলা হয়না। তার বাসায় স্ত্রীসহ নিজেই সহজে তৈরি করেন চিঁড়া ভাজা। এসব তৈরিতে চিঁড়া, চিনি, লবণ মিশিয়ে মাটির চুলায় লাকড়ি দিয়ে ভাজা করে বড় থালিতে নিয়ে অতিরিক্ত নারিকেলসহ মাথায় করে হেঁটে-হেঁটে বিক্রি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সকাল ১০টায় ভাজা চিঁড়ার থালি মাথায় নিয়ে বাজারে যাই আর বিক্রি শেষে রাত ১০টায় বাড়ি ফিরে যাই। প্রায় ১২ ঘণ্টা বাজারে হেঁটে-হেঁটে চিঁড়া ভাজা বিক্রি করি। দৈনিক ছয়শত-সাতশত টাকার বিক্রি হয়। ভালো বিক্রি হলে এক হাজার টাকাও হয়ে যায় অনেক সময়। তবে সবসময় ভালো বিক্রি হয়না। এক হাজার টাকা বিক্রি হলে চারশত টাকার মত লাভ হয়। কিন্তু সবসময় এক হাজার টাকার বিক্রি করা যায় না। আর এখন সব মালের দাম বেশি হওয়ায় এখন লাভ হয় কম। চিঁড়া, চিনি, নারিকেলের যেই দাম এখন বেশি লাভ করা যায় না। অনেক সময় লোকসানও হয়।
আজিজুল বলেন, এজন্যই আর এই ব্যবসা করতে চাইনা। আগে যে টাকা দিয়ে চিঁড়া নারিকেল চিনি কিনে পুরো থালা ভরে যেত এখন একই পরিমাণ টাকায় থালার অর্ধেক ও হয় না। সকল খাদ্য সামগ্রীসহ সব ধরণের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই স্বল্প আয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের দিন চলে অর্ধাহার-অনাহারে। আজিজুল হক বলেন, আমি এখন কি করবো, কোথায় যাবো নিরুপায়।