‘যারা সাম্প্রদায়িক হীনমন্যতায় ভোগেন তাদের ঈমান খুব দুর্বল’

দুর্বল
মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল  © ফাইল ফটো

সাম্প্রদায়িক হীনমন্যতায় ভোগেন যারা তাদের ঈমানী জোড় খুব দূর্বল বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি তার ফেসবুক বুধবার রাতে এই বিষয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো,

'আমাদের সমাজে যারা সাম্প্রদায়িক হীনমন্যতা, সংকীর্ণতায় ভোগা, তাদের ঈমানী জোড় আসলেই খুব দূর্বল। এরা বাঙালি বা সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতির আদলে, রুপক অর্থে বা শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমি কিছু লিখলে, বললে, পড়লে, উঠে পরে লাগে ঈমান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আক্রমণ করার জন্য।

ঈমান যদি এতই ঠুনকো বিষয় হতো, বিসমিল্লাহ, ঈদ মোবারক, আসসালামু আলাইকুম, আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ বললেই, বা ইসলামি কায়দায় শ্রদ্ধা সম্মান দেখালেই যে-কেউ অটো মুসলমান হয়ে যেতো! অটো মুসলিম যেমন হওয়া যায়না, অটো হিন্দু, খ্রিস্টান বৌদ্ধও হওয়া যায়না। সনাতনী শ্লোকবাক্য, সম্ভাষন, পংক্তিমালা, আমাদের চিরায়ত সংস্কৃতির শক্তিশালী অংশ। কিন্ত আমাদের নিজেদের মধ্যেই লুকিয়ে থাকা এই সব অন্ধকারের কীটগুলো সবসময় প্রস্তুত থাকে, কেউ কিছু বললেই, বা এই ভাষা, সম্ভাষনে কোনো উক্তি করলেই, এরা আওয়াজ তোলে!!
এই সাম্প্রদায়িক নোংরা মানসিকতার লোকগুলোর পূর্ব পুরুষরা বাঙালি সংস্কৃতিকে অমুসলিম আখ্যায়িত করে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করেছিলো এবং তাদের ধারাবাহিকতায় এরা সবসময়ই সমাজে ছিলো। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এদের মানসিকতা প্রকাশিত হয় তাই চোখে লাগে বেশি। আগে এরা মুখে বলতো, প্রচারের সুযোগ ছিলোনা। এখন এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে এদের বিষাক্ততা ছড়ানোর সুযোগ বেড়েছে। এরা মানবতার নিরব শত্রু, এদের বিষবাষ্প ছড়ানো বন্ধ করা প্রয়োজন। এদের অনেকেই এই প্রজন্মের ক্ষতি করছে, এবং একটি সংকীর্ণ মানসিকতা নিয়ে এই প্রজন্মকে বেড়ে উঠতে বাধ্য করছে।
শুধুই বিদ্যালয়ের কিতাবি শিক্ষা দিয়ে এই মানসিকতা ধারনকারীদের পরিবর্তন হবেনা। দূর্ভাগা আমরা, এরা আমাদের দেশে বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতেও পরিণত হয়েছে, আবার অন্যান্য বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তির সাথে হয়তো আপোষে আছে, নয়তো জোটে আছে। আরো শংকাজনক কথা হলো, কিছু পশ্চিমা রাষ্ট্রের কূটনীতিকেরা, বাক স্বাধীনতার নাম করে, এই বিষবাস্প নিয়মিত ছড়ানোর কাজটি চালু রাখতেও বিশেষ ভাবে আগ্রহী। এই সাম্প্রদায়িক মানসিকতার লোকগুলোকে সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে পরাজিত করতে হবে, নয়তো ভবিষ্যতে এই নিরব তালিবানি শক্তিকে মোকাবেলা করা আরো কঠিন হবে, যা দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্যে একটি ঝুঁকি!'

 


x

সর্বশেষ সংবাদ