বাবা দিবস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

বিশ্ববিদ্যালয়
আরাফাত, স্বর্ণা, মনির ও নুসরাত  © টিডিসি ফটো

বাবা খুব সহজেই বলা যায় কিন্তু এর মর্ম বুঝতে গেলে খুঁজে পাওয়া যায় প্রকৃত বাস্তবতা। হাজার অসাধ্যকে সাধন করে যে হাসিমুখে তৃপ্তির ভাব দেখায় সেই বাবাকে নিয়ে লিখেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। আর শিক্ষার্থীদের সেই সব কথা তুলে ধরছেন তানভীর আহম্মেদ।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, ‘বাবা’ কতভাবে অবদান রেখে যান তা চুলচেরা বিশ্লেষণ করেও কেউ বের করতে পারবেনা।

‘পৃথিবীতে অসংখ্য খারাপ মানুষ আছে কিন্তু একজনও খারাপ বাবা নেই।’ হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত উক্তিটি উল্লেখ করে মনির বলেন, এই একটি কথাই প্রমাণ করে বাবার মহত্ত্ব ঠিক কতটুকু। বাবা কেবল একজন মানুষ কিংবা স্রেফ একটি সম্পর্কের নাম নয়, বাবার মাঝে জড়িয়ে আছে বিশালত্বের এক অদ্ভুত মায়াবী প্রকাশ। সন্তানের মাথার উপর ছায়ার মতো বাবারা প্রতিটা সময় অবস্থান করে। এজন্যই তো বাবা নামটা উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেকোনো বয়সী সন্তানের হৃদয়ে শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার এক অনুভব জাগে।

মানুষটি কত ভাবে অবদান রেখে যান সন্তানের জন্য যার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে কেউ বের করতে পারবেনা। বাবার কাঁধ টা কি অন্য সবার চেয়ে বেশি চওড়া? তা না হলে কি করে সমাজ-সংসারের এত দায়ভার অবলীলায় বয়ে বেড়ান বাবা। বাবার পা কি অন্য সবার চেয়ে বেশি দ্রুত চলে? নইলে এতটা পথ এত অল্প সময়ে কি করে এত শক্ত করে সবকিছু আগলে রাখেন বাবা, আর বাবার ছায়া। আজ বাবা দিবসে বিশ্বের সকল বাবাদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা, পৃথিবীর সকল বাবা ভালো থাকুক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত সাদ বলেন, “বাবাকে স্মরণের জন্য শুধু একটি দিন কেন” বা “বাবা দিবস পাশ্চাত্য সংস্কৃতি”- ইত্যাদি তীক্ষ্ণ অভিযোগের মাঝে বাবা দিবস পালন করা অনেকের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠে। কিন্তু যারা বাবা দিবস পালন করে তারা শুধু একদিনই স্মরণ করে বাকী সময় ভুলে থাকে, বাস্তবতা এমন নয়। একদিন বিশেষভাবে স্মরণ করার মানে কখনোই ৩৬৪ দিন ভুলে থাকা নয়। আর নিজের বাবার প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ যদি পাশ্চাত্য সংস্কৃতি হয়ে থাকে তাহলে কি আমাদের দেশের সংস্কৃতি হল বাবাকে ভুলে যাওয়া বা কম ভালোবাসা? তাই যারা বাবা দিবসে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আলাপ তুলেন তাদের সবার আগে নিজের সংস্কৃতির ভুল গুলো পর্যবেক্ষণ ও সংশোধন করা উচিত।

তিনি আরো বলেন, অনেকক্ষেত্রে বাবাকে শুধুমাত্র খাবার যোগারকারী হিসেবে দেখা হয়। এক্ষেত্রে যে বাবারা অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল, তারা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের শিকার হয়। বর্তমান একচেটিয়া পুঁজিবাদের যুগে সকল সামাজিক সম্পর্কই অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হচ্ছে। ফলে মূল্যবোধের অবক্ষয় কিংবা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটছে। এতে দেখা যাচ্ছে বাবা বৃদ্ধ হলে সন্তানরা তাদের দেখভাল করে না, অবহেলা করে। বাবারা যেভাবে দিনরাত পরিশ্রম করে সন্তানের ভরন-পোষণের চেষ্টা করছে, সেটাই শ্রদ্ধার যোগ্য। বাকী আর কিছু লাগে না। তাই আশা রাখছি বাবা দিবস হয়ে উঠবে বাবার প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্ব প্রকাশ করার উপযুক্ত মাধ্যম এবং বাবাদেরকে কষ্ট দেওয়া এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদের কণ্ঠ।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পপপুলেশন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, বাবার প্রতি ভালোবাসার কথা কখনো বলে শেষ করা যাবে না। সন্তানের বিশ্বাস, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, ভরসা সবগুলোর মাঝে যিনি বিদ্যমান থাকেন তিনি বাবা। অথচ তার প্রতি ভালোবাসা কখনো প্রকাশ করা হয়ে উঠে না। প্রতিটা বাবা তার সন্তানের জন্য প্রতিটা মুহূর্ত, প্রতিটা সেকেন্ডে ভাবতে থাকেন। কোন কিছু চাওয়ার সাথে সাথে পূরণ করার চেষ্টা করেন। মাথার উপর ছাদ হয়ে আগলে রাখেন আমাদের। নিজের সমস্ত সুখ-আরাম বিসর্জন দিয়ে আমাদের মানুষ করার চেষ্টা করেন। আমরা ভুল পথে গেলে সঠিক পথটি দেখান। একদম ছায়ার মত সব সময় পাশে থাকেন।

বাবার প্রতি ভালোবাসা এক পৃথিবী সমান লিখলেও শেষ হবার নয়। অথচ আমরা বড় হলে এই মহান চালিকাশক্তির কথা ভুলে যাই। এই বাবা দিবসে পৃথিবীর সকল বাবাকে জানাই শ্রদ্ধা, রইলো ভালোবাসা। আসলে শুধু একটা বিশেষ দিনে নয়, প্রতিটা দিনেই বাবার প্রতি ভালোবাসা-শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হবে। বৃদ্ধ বয়সে তাদেরকে আগলে রাখতে হবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী স্বর্ণা সূত্রধর বলেন, বাবা! খুব ছোট একটা শব্দ কিন্তু এর ব্যাপ্তি বিশাল। সন্তানের কাছে বাবারা হলো বটবৃক্ষের ছায়ার মতো। কখনো শাসন, কখনো আবার আদর, কখনো না প্রকাশ করা গভীর ভালোবাসায় যিনি নিজেকে উজাড় করে দেন তিনি সম্পর্কে বাবা হলেও তার মহত্ব কখনো পরিমাপযোগ্য নয়। বাবাদের ভালোবাসায় শ্রম, ঘাম আর চিন্তার গভীরতা লুকিয়ে থাকে সচরাচর সেটা আমরা দেখিনা। তাইতো, এই মানুষটির আড়ালে খুঁজে পাওয়া যায় একজন সত্যিকারের হিরোর প্রতিচ্ছবি।

তাই আজকের এই বাবা দিবসে বাবার উদ্দেশ্যে না বলা কিছু কথা, বাবা তুমি আমার সাথে কথা কম বলো, কিছু কিছু বিষয়ে মাঝে মাঝে খুব অভিমান হয়। কিন্তু বাবা তোমার দায়িত্ববোধ, আগলে রাখা, খেয়াল রাখার বিষয়টা আমি ভুলেই যায়। তোমার ঘামে ভিজে থাকা শার্ট ভুলে যায় আমি। তোমাকে হয়তো বুঝতে পারিনা আমি এজন্যই আমার রাগ-অভিমানের কারণে পরিণত হও। কিন্তু সত্যি বলতে কি তোমার ভালোবাসার ঋণ কখনো শোধ হওয়ায় নয়। বাবাকে কতটা ভালোবাসি তা বলতে পারিনা। কিন্তু বাবার স্নেহের পরশে থাকতে চাই সারাজীবন। বাবা দিবস যেন প্রতিবার আমি বাবাকে সাথে নিয়েই পালন করতে পারি। ভালো থাকুক পৃথিবীর প্রতিটি বাবা। ভালোবাসি বাবা তোমায়।


মন্তব্য