আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়

আত্মহত্যা
লেখক ও প্রতীকী ছবি  © টিডিসি ফটো

ইসলামে অপরাধসমূহের মধ্যে একটি জঘন্যতম অপরাধ হচ্ছে আত্মহত্যা করা। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ও আত্মহত্যা নিষিদ্ধ। এই কয়েক মাসে অনেক ছেলে মেয়ে আত্নহত্যা করেছে। কেউ মেবাইলের জন্য কেউ গেমের জন্য কেউ প্রেমিকার জন্য কেউ টাকার জন্য আত্নহত্যা করে। আত্মহত্যা কখনো সমাধান হতে পারে না।

আত্মহত্যা থেকে বিরত থাকতে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন এবং আত্মহত্যার পরিণামে কঠোর শাস্তির বর্ণনা দিয়ে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা নিজেদের হত্যা কোরো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু এবং যে কেউ সীমা লঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে তা (আত্মহত্যা) করবে, তাকে অগ্নিতে দগ্ধ করব; এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯-৩০)

অথচ আজকাল আত্মহত্যার ঘটনা প্রায়ই সংঘটিত হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এমন প্রবণতা বেশি। বখাটেদের উৎপাতের কারণে কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে, আবার মা-বাবার সামান্য বকুনির কারণেও আত্মহননের মতো ঘটনা ঘটছে। পারিবারিক বিপর্যয়। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ইত্যাদি বিষয়ের সঙ্গেও জড়িত আছে আত্মহত্যার মতো ধ্বংসাত্মক ঘটনা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করে, সে-ও জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে নিজ হাতে বিষ পান করতে থাকবে। আর যেকোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করে, তার কাছে জাহান্নামে সেই ধারালো অস্ত্র থাকবে, যা দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেট ফুঁড়তে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

বাবা-মা জীবন বাজি রেখে এত কষ্ট করে আমাদের লালন পালন করছে নিজে না খেয়ে আমাদেরকে খাওয়াইছে,,নিঃসার্থ ভালোবাসা দিয়েছি। সে ভালোবাসার কাছে বিক্রি হয়ে গেছে কয়েক মাস বা কয়েক বছরের প্রেম, ফ্রী ফয়ার-পাবজী গেম বা সামান্য বকনি।

আমি যার জন্য আত্নহত্যা করলাম সে তো কাউকে বিয়ে করে জীবন কাটাবে। কিন্তু হারিয়ে যাবে আমাদের বাবা-মায়ের সেই স্বপ্ন। সারাজীবন কাঁদবে বাবা মা। সুখ কষ্ট মিলিয়ে জীবনটা চলে।সত্যিকারের বীর তো তারা যারা হোঁচট খাওয়ার পর আবার দাড়িয়ে যেতে শিখে। জীবনে বিপর্যয় সবার মাঝে আসে তাই বলে আত্নহত্যা করা কখনো কাম্য নয়।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও তবে তোমরাই জয়ী হবে। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১৩৯)

আজকাল আমরা আমাদের প্রেমিকাকে গিফট দেওয়ার জন্য পাগল হয়ে যাই। গিফট দিলে সে বেশি ভালোবাসবে। গিফট না দিলে সে কষ্ট পাবে। একটু চিন্তা করুন তো আমরা জীবনে কয়টা গিফট বাবা-মা কে দিয়েছি? গিফট না দেওয়ার কারণে বাবা-মা আমাকে আপনাকে ছেড়ে চলে গেছে? কখনো যায় নাই। জীবনের শত দুঃখ-কষ্টে বাবা-মাই পাশে দাঁড়ায়।

আপনাকে কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আপনার বাবা মা এত বড় করছে। আপনার জন্য টাকা খরচ করেছে। অসুস্থ হলে সেবা করেছে। তার কাছে বিক্রি হয়ে গেছে ২ বা ৩ বছরের প্রেম? ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেম?

বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করার চেষ্টা করেন একদিন না একদিন সফল হবেন ইনশাআল্লাহ।মেয়েদের বা গেমের বা মোবাইলের পিছনে না ঘুরে জীবনের পিছনে ঘুরেন। মেয়ে না শুধু মেয়ের বাবা মা ও আপনার পিছনে ঘুরবে। The key to success in trying.

জীবনটা অনেক বড় মূল্যবান। আজকে ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেম খেলার জন্য আমরা আত্নহত্যা করি। সামান্য একটা গেমের মধ্যে জীবন সীমাবদ্ধ? কখনো না। বড় হয়ে সফল হলে সারাক্ষণ গেম খেললেও বাধা দেওয়ার কেউ থাকবে না।

যে গেমের জন্য আমরা আত্নহত্যা করি। বড় হলে গেম একটা না অনেকগুলো খেলতে পারবো। একটা গেমের জন্য আত্নহত্যা করলাম লাভ কী হলো? কিছুদিন আগে দেখলাম ৫০ টাকার জন্য একছেলে আত্নহত্যা করেছে এটা সত্যিই কষ্টদায়ক। ফ্রি ফায়ার-পাবজি বন্ধ রাখা এখন সময়ের দাবি। বিজ্ঞানীরা হাজার বার চেষ্টা করে কোনো কিছু যদি আবিষ্কার করতে পারে তাহলে আমরা কেনো পারবো না।

আমাদের এই বয়সে সতর্ক হয়ে চলা প্রয়োজন,,জীবন অনেক বড় মূল্যবান। আমাদের কে পারিবারিক ভাবে সেই নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। আর না হয় ক্রমেই আত্মহত্যা বাড়তে থাকবে।

পরিশেষে একটা কথা বলবো, জীবন একটা গেম একজন প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না। জীবনে অনেক কিছু করার আছে। আমার অনেক ক্লাসমেট আছে যারা হোঁচট খাবার পর রুখে দাঁড়িয়েছে আজকে তারা অনেকটাই সফল।

ভালোবাসার জন্য আত্নহত্যা করা একদম বোকামি ছাড়া কিছু না। রুখে দাঁড়াও যাকে ভালোবাসো তার থেকে ভালো কিছু পাবে ইনশাআল্লাহ।

আমরা সব সময় একটা দোয়া করবো, হে আল্লাহ মেয়েদের এবং মোবাইল গেম এর ফেৎনা থেকে আমাকে হেফাজত করো। আমিন।

লেখক: শিক্ষার্থী, দারুননজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, ডেমরা, ঢাকা


মন্তব্য