০২ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:৪৯

একটা ছেলের মৃতদেহের উপর আপনারা কনসার্ট চালিয়ে গেলেন

  © ফাইল ফটো

ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের এক ছাত্র আজ মারা গেছে। আমি নিজে এই কলেজের ছাত্র ছিলাম। ছেলেটা মারা গিয়েছে প্রথম আলো আয়োজিত একটা অনুষ্ঠানে গিয়ে।

একটা ছাত্র এভাবে মরে গেল; আর আপনারা মহা আনন্দে অনুষ্ঠান করে গেলেন! আর ছেলেটা যে মারা গিয়েছে, সেই খবর কেন আপনারা এতো লম্বা সময় পর্যন্ত গোপন রেখেছেন?

একটা ছেলের মৃতদেহের উপর আপনারা অনুষ্ঠান করলেন, কনসার্ট চালিয়ে গেলেন! আপনারা হয়ত দেশ সেরা পত্রিকা হতে পারেন। তবে আপনারা এখনও মানুষ হতে পারেননি।

একটা ছেলে মারা গেছে, অথচ আপনারা জানতেনই না? ছেলেটা আপনাদের অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যুতায়িত হয়েছে। সে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়নি। বেঁচে ছিল। আপনারা তাকে মোহম্মদপুর থেকে এ্যাম্বুলেন্সে করে মহাখালীতে কেন নিয়ে গেলেন? সেখানে তো দেশের নামকরা একটা মেডিকেল আছে। এছাড়াও আরও নানান সব মেডিকেল আছে। সেখানে না নিয়ে গিয়ে আপনারা তাকে মহাখালীতে কেন নিয়ে গেলেন?

ছেলেটা কিন্তু এ্যাম্বুলেন্সেও কথা বলছিল। মহাখালীতে নিতে নিতে তার প্রাণটাই চলে গেল। সে মারা গেছে গতকাল দুপুর দুইটার দিকে। তখনও আপনাদের অনুষ্ঠান চলছিল। একটা ছেলে এভাবে মরে গেল, এই খবর গোপন রেখে কি করে আপনারা অনুষ্ঠান চালিয়ে গেলেন? এখন আবার দেখছি আপনারা আপনাদের ফেসবুক পেইজে নানান সব যুক্তি উপস্থান করছেন। এই সব যুক্তি'র কোথাও পেলাম না- কেন আপনারা তাকে মহাখালীতে নিয়ে গেলেন? এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে?

এছাড়া আরও কিছু প্রশ্ন আছে--

আপনারা বলছেন, ছেলেটা যে মারা গেছে এই খবর আপনারা জানতেন না; জানলে অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতেন না।রিয়েলি? একটা ছেলে আপনাদের অনুষ্ঠানে এসে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেল; আপনারা জানতেনও না? আপনাদের খোঁজ নেবারও প্রয়োজন পড়লো না? নাকি জেনেও এখন না জানার ভান করছেন? দুটোই তোঁ অপরাধ।

আরেকটা প্রশ্ন-

ছেলেটা তো গতকাল দুপুর দু 'টার দিকে মারা গেছে। এই মৃত্যুর ঘটনা তো এমনিতেই পত্রিকায় আসার কথা। গতকাল পুরো দিন পুরো রাত চলে গেল, আপনাদের পত্রিকার কোথাও এই খবর পেলাম না কেন? আপনাদের তো অনলাইন ভার্সন আছে। সেখানে তো কোনো খবর দেখলাম না এই নিয়ে?

আজ কেন এ নিয়ে খবর করেছেন? এখন আমরা লিখছি বলে? নইলে দিব্যি চেপে যেতেন, তাই না? যাও আবার লিখছেন, পড়ে মনে হচ্ছে খুব স্বাভাবিক ঘটনা! এখানে আপনাদের কোন দায় ছিল না! কি অবাক কাণ্ড! দেখুন আপনারা তিনটা অন্যায় করেছেন। ছেলেটা বিদ্যুতায়িত হবার পর তাকে পাশের মেডিকেলে না নিয়ে গিয়ে আপনারা অন্যায় করেছেন। ছেলেটা মারা গেছে এই খবর গোপন করে আপনারা অন্যায় করেছেন। মারা যাবার পর অনুষ্ঠান চালিয়ে গিয়ে আপনারা অন্যায় করেছেন।

আপনারা ভুল করেছেন কিংবা অন্যায় করেছেন; এখন এটার হয়ে সাফাই গাইছেন কেন? বাংলাদেশের ব্যাপারটাই এমন। ভুল বা অন্যায় করে স্বীকার করে না, ক্ষমা চায় না; উল্টো সাফাই গায়। ভাবখানা এমন, স্বীকার করা, ক্ষমা চাওয়াটাই বরং অন্যায়।

এজন্যই এ দেশে অন্যায়গুলো জমে পাহাড় হয়ে যায়। আপনারা ভুল করেছেন, অন্যায় করেছেন। এর সাফাই না গেয়ে বরং ভুল স্বীকার করে বলুন- আমাদের ভুল হয়েছে, আমরা ক্ষমা প্রার্থী।