১৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:২৯

‘সন্তানদের প্রাইভেট ভার্সিটিতে দিয়ে সস্তিতে আছি, স্যালুট আবরার’

বাবা আসিফ আকবরের সাথে দুই ছেলে- রণ ও রুদ্র  © টিডিসি ফটো

আমার দুই ছেলে এক্স ক্যাডেট, রণ’র ইচ্ছে এবং চেষ্টা ছিল আর্মিতে যাওয়ার। নিজেকে প্রস্তুত করেও সুযোগ পায়নি, মেনে নিয়ে ভর্তি হয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে।

রুদ্র আরেকটু হিসেবি, ক্যাডেট থাকাকালীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নর্থ সাউথেই সেটেল হবে। আমি চাচ্ছিলাম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়ুক। কারো কোন ইন্টারেস্ট দেখলাম না। তাদের অতীত ব্যাখ্যা নিয়ে প্রথমে মাথা ঘামাইনি, আমার ভরসা আছে ছেলেরা সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে।

আবরারের মৃত্যু আমাকে প্রশ্নের সুযোগ করে দিয়েছে। আমি ভাবতাম প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টরা একধরনের স্বার্থপর হিসেবেই নিজেদের ভাবে। রুদ্র তার ক্যাডেট লাইফের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছে আজ, এই প্রথম চির বৈরী দুই ভাই আমাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে তাদের লক্ষ্য কি এবং কেনো।

তারা আবরার সম্বন্ধে সব জানে, আমি ভেবেছিলাম এরা নির্লিপ্ত হাইব্রিড জেনারেশন। বাপের বেতন দেয়ার ক্ষমতা আছে তাই প্রাইভেট ভার্সিটিতে শান্তি খুঁজছে। আমার ধারণা তারা ভুল প্রমাণ করেছে।

খরচ পেরেশানি আর চাকরির নিশ্চয়তা কাম সেলারি প্রশ্নে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আমি মুগ্ধ হয়েছি। তারা বাঘের মুখ থেকে বেঁচে ফিরে সিংহ কিংবা কুমীরের মুখে নিজেদের সঁপে দিতে চায়নি। নিজেদের ভবিষ্যতকে সুসংহত করার লক্ষ্যেই সমস্ত প্ল্যান করেছে।

প্রায়শই ওদের সাথে ডিসকাস করে সময়ের পালস বোঝার চেষ্টা করি। ওদের ভিশন ক্লিয়ার, খেলবে আর পড়বে, তাই করছে, সঙ্গে পরিবার থাকতেই হবে। আরো অনেক ডিটেইল ব্যাপার আছে। আমি জটিল লোক, তবুও মুগ্ধ তাদের যুক্তিতে।

জেনারেশন এখন অনেক স্মার্ট, আসুন সন্তানদের মনের ভাব বোঝার চেস্টা করি, জোর করে কোন কিছু চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা না করি। ইনোসেন্ট ছেলেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকেই পৈশাচিক টর্চারের মুখে যেন না পড়ে, আসুন এই সংস্কৃতি থেকে বের হই।

সন্তানদের খবর রাখবো, গুপ্তচর হিসেবে নয়, বন্ধু কিংবা অস্তিত্ব হিসেবে। ঘুমাও শহীদ আবরার, ক্রিমিনাল হয় সাময়িক হিরো, আর তোমরা জাতির জাগরণ হয়ে অনন্তকাল বেঁচে থাকবে অমুল্য প্রাণের বিনিময়ে।

স্যালুট বাবা আবরার...

স্যালুট...

 

(ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া)