০৮ মার্চ ২০২৪, ০৯:১৯

সংসার থেকে শুরু করে দেশেরও হাল ধরছেন নারীরা

নাজিফা তাসনিম জিফা, ফারজানা আনোয়ার রিমি, তাহমিনা তানজিল তুলি, আজহারুল হক মিজান ও মোহাম্মদ রাজীব।  © টিডিসি ফটো

নিষ্পেষণ ও শৃঙ্খলতার বেড়ি পরিহিত জাতির অপরনাম যেন নারী। পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থায় নিজেদের অধিকার অর্জনে নারীকে বহুবার ভাঙতে হয়েছে সমাজের প্রচলিত ধারা। শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে বর্তমান বাংলাদেশে নারীর অবস্থান ও উত্তরণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন— হুমায়রা রহমান সেতু। 


নারী অগ্রযাত্রায় বাঁধা পুরুষতান্ত্রিকতা এবং কুসংস্কার  

পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও কুসংস্কার নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কর্মক্ষেত্রে নারীরা আজও পিছিয়ে আছে। পারিবারিক ও সামাজিক বাঁধা, অসুবিধাজনক পরিবেশ এবং লিঙ্গভেদপ্রসূত মনোভাব এর প্রধান কারণ। শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীকে হতে হয় বৈষম্যের শিকার। এছাড়া নিরাপত্তা জনিত ইস্যু ও মানসিক হীনতায় ভোগে অনেকেই। সাথে মুক্তভাবে জীবনযাপনে রয়েছে নানা বাধা ও বিপত্তি, বেড়েছে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা এছাড়াও ঘরে বাহিরে সব জায়গায় হতে হচ্ছে সহিংসতার শিকার। তাই সমাজে নারীদের অবস্থান ও নিরাপত্তা অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে নারীদেরকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে নিজেদের। পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমেই নারী পারবে তার মেধার প্রস্ফুটন ঘটাতে। 

নাজিফা তাসনিম জিফা
শিক্ষার্থী, তড়িৎ ও প্রকৌশল বিভাগ, চুয়েট।

নারী বৈষম্যের শুরু সদ্য জন্ম নেওয়া অবস্থা হতেই 

একটা সময় নারী মানেই ছিল পরিবারের এবং সমাজের বোঝা। বর্তমানে এই ধারণা বা প্রচলন কমে আসলেও বিলুপ্ত হয়নি। নারী পুরুষের বৈষম্য তৈরি হয় তার পরিবার থেকে। বিষয়টা এতটাই উদ্বেগের যে  বৈষম্যের শুরুটা হয় সদ্য জন্ম গ্রহণ করা অবস্থা হতেই। নারীরা আজও পুরুষের হাতের পুতুল, কোন ক্ষেত্রে সর্বত্র কোন ক্ষেত্রে আংশিক। বহুযুগ আগে আমাদের সমাজে নারীদের অবস্থান আরো  ভয়াবহ ছিল। আজ তারা অধিকার সচেতন হচ্ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে তাদের পদচারণা বাড়ছে ফলে তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সর্বক্ষেত্রেই নারীরা আজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সংসার থেকে শুরু করে দেশের হাল ধরছে নারীরা। একমাত্র সুশিক্ষাই পারবে জাতিকে এ বৈষম্যতার শিকল মুক্ত করতে। 

ফারজানা আনোয়ার রিমি
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়।

আরো পড়ুন: আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পেলেও নারীর সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা হয়নি

স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশের নারী ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পেলেও এদেশের নারীরা সর্বক্ষেত্রে আজও নিরাপদ নয়। বিদ্যালয়, কর্মসংস্থান সহ রাস্তাঘাটে চলাচলের ক্ষেত্রেও নারীকে শিকার হতে হয় প্রতিনিয়ত ইভটিজিংয়ের। খুন ধর্ষণ ছিনতাই এগুলো যেন খবরের কাগজের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পরিবারগুলোতেই দেখা যায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে  এসএসসি পাস করার পর পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয় কিংবা অনেকের প্রাথমিকের গণ্ডি পার হলেই পড়াশোনা বন্ধ করা হয়। অপসংস্কৃতি ভয়াল থাবা তো রয়েছেই। অভিভাবকদের উচিত প্রচলিত অন্ধ ধারণা থেকে বেরিয়ে নারীদের শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সমৃদ্ধ দেশ ও জাতি গঠনে নারীর সুঅবস্থান প্রতিষ্ঠান করা জরুরি 

আজহারুল হক মিজান
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

সচেতনতা ও সুশিক্ষাই পারে নারীকে প্রচলিত গণ্ডি হতে বের করে আনতে

অধিকারের জন্য নারীকে সংগ্রাম করতে হয়েছে সেই সৃষ্টির সূচনা থেকেই। পরিবার থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীর সুদক্ষ পদচারণা থাকার পরও নারী পায় না তার যোগ্য সম্মান। গৃহস্থালি কর্মকাণ্ডে সারা জীবন বিনা বেতনে শ্রম দেওয়ার পরও তাদের শ্রমের মূল্য দেয়া হয় না। কর্ম ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নেই। তবে সময় আগাচ্ছে, উন্নতির এবং অগ্রগতির ছোঁয়া যে মানুষের মনকে স্পর্শ করছে না। যেখানে বারবার নারীর অধিকার ও সমতার কথা বলা হয়েছে সেখানে পাত্রী যাচাই-বাছাই করতে গেলেও পাত্রীর বাবাকে হতে হচ্ছে নানান রকম হেনস্তা শিকার। গায়ের রং কালো হলে তো কথাই নেই। পাত্রীর বাবাকে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। এ সকল সমস্যা থেকে উত্তরণের অন্যতম উপায় হচ্ছে নারী জাগরণ ও নারীর সুশিক্ষা। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হলেই একজন নারী পারবে প্রচলিত গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে। 

তাহমিনা তানজিল তুলি
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

আরো পড়ন: সমাজে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই নারীরা

নারীর স্বাধীনচেতা মনোভাবই পারে তার যোগ্য আসন প্রদান করতে

নারীকে আমরা কখনো মা কখনো বোন আবার কখনো প্রেয়সী রূপে পেয়ে থাকি। একজন শিক্ষিত মা পারে শিক্ষিত সমাজ উপহার দিতে। নারী যদি তার অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়। আধুনিকতার ধাঁচে বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে তবে সে তার যোগ্য স্থান প্রাপ্ত হবে।  অতীতে নারীদের চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ রাখা হলেও বর্তমানে নারী চার দেয়াল ভেঙ্গে বাহিরে বের হচ্ছেন। নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে সমর্থ হচ্ছেন তারা । শিক্ষায় নরের তুলনায় কয়েকগুণ অগ্রগতি হয়েছে নারীদের। প্রতিটি পেশায় পুরুষের পাশাপাশি নারীরা তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারছেন।

মোহাম্মদ রাজীব
শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।