শেষ হলো এনডিএফ মেডিকেল ডিবেট ফেস্টিভ্যাল
বর্ণীল আয়োজনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হলো বিতর্ক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠন ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এনডিএফ বিডি) আয়োজিত ‘৭ম এনডিএফ-কেইউএমসি ন্যাশনাল মেডিকেল ডিবেট ফেস্টিভ্যাল’। লালনের পুণ্যভূমি কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত এ বিতর্ক উৎসবে প্রতিদ্বন্দ্বী ৩৭টি দলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ এবং রানারআপ হয়েছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের বিতার্কিক দল। শনিবার রাত ৯টার দিকে টানা দুই দিনের এই বিতর্ক উৎসব শেষে ফল ঘোষণা করেন বিচারক প্যানেল।
শনিবার রাতে কুষ্টিয়া শহরের দিশা টাওয়ারের অডিটোরিয়ামে এই বিতর্ক উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ ও এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিতর্কের বিষয়বস্তু ছিল ‘এই সংসদ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের বিদেশে চিকিৎসা নেওয়া আইন করে বন্ধ করবে’। প্রায় এক ঘন্টার বিতর্ক শেষে বিজয়ী হয় সরকারি দলে থাকা বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ। আর সেরা বিতার্কিক হয় বিজয়ী দলের জান্নাতুল মাওয়া।
শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে এই বিতর্ক উৎসব শুরু হয়। দুইদিন ব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি হয় শনিবার রাতে। বিতর্ক প্রতিযোগিতা উৎসবে রূপ নিয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজসহ নগরীজুরে লাগে বিতর্কের ছোঁয়া। বিতর্ক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠন ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এনডিএফ বিডি) আয়োজিত ৭ম এই বিতর্ক উৎসবের এবারের স্লোগান ছিল ‘হৃদয়ে আমার যুক্তির হাওয়া, মুক্তি চিরদিন’।
মেডিকেল বিতার্কিকদের এই মিলন মেলায় চলতি বছরের জন্য আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এস এম মোস্তানজীদকে। তিনি বলেন, আমি সম্মাননা পাওয়ার মতো কিছু করতে পারিনি। তারপরও আপনারা আমাকে সম্মান দিয়েছেন। আমি আমার সমস্ত রোগীকে এই সম্মাননা উৎসর্গ করছি।
এনডিএফ বিডির চেয়ারম্যান এ কে এম শোয়েবের নেতৃত্ব গুণে মুগ্ধ হয়ে অধ্যক্ষ আরও বলেন, তার কাছ থেকে সংগঠিত হওয়া বা সংগঠিত করার বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে আমি আরও গভীরভাবে শিখতে পেরেছি।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, বিআরবি গ্রুপের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান, এনডিএফ বিডির মহাসচিব সোহানূর রহমান সোহানসহ অন্যরা।
বিতর্কের এই মহা উৎসবে বিতর্ক ছাড়াও ছিল বৈচিত্র্যময় সব আয়োজন। এর মধ্যে কুইজে প্রথম হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ। দলটির নেতৃত্বে ছিল অনিক দত্ত ও সাদাত ফাহিম। আর কুইজে রানারআপ হয়েছে কুষ্টিয়া মেডিকেলের সজিব ও আবদুল্লাহর দল। পোস্টার প্রেজেন্টেশনে প্রথম হয়েছেন ঢাকা মেডিকেলের আমরিন হোসেন, দ্বিতীয় হলি ফ্যামিলির জান্নাতুল ফেরদৌস লিসা ও তৃতীয় ডিএমসির জেরিন সিকদার। ইংরেজি পাবলিক স্পিকিংয়ে প্রথম হয়েছেন আফরিনা তাসমিম, দ্বিতীয় এনাম মেডিকেলের আল আবির হোসেন ও তৃতীয় পাবনা মেডিকেলের মাহফুজা মুনির। বাংলা বারোয়ারি বিতর্কে প্রথম হয়েছেন পার্ক ভিউ মেডিকেলের রেদওয়ানা তাবাসসুম, দ্বিতীয় কুষ্টিয়া মেডিকেলের আশরাফুল ও তৃতীয় হয়েছে রাজশাহী মেডিকেলের ফারহানা তাসমিম রাকা।
এর আগে, শুক্রবার (৮ মার্চ) দিনভর অনুষ্ঠিত হয় বিতর্ক, কুইজ, পাবলিক স্পিকিং ও পোস্টার প্রেজেন্টেশনের প্রতিযোগিতা। রাতে অনুষ্ঠিত হয় জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছিল ফায়ার ক্যাম্পের আয়োজনও। রাতের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার সকালে শুরু হয় এক বর্ণাঢ্য র্যালি। পরে শনিবারও দিনভর চলে বিভিন্ন পর্বের প্রতিযোগিতা। রাত সাড়ে ৭টারও কিছু পরে শুরু হয় বিতর্কের চূড়ান্ত পর্ব। পরে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে পুরস্কার ও ক্রেস্ট প্রদান। ফেস্টিভ্যালের ইতি টানতে রাত ১১টার কিছু পর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন এস আই টুটুল ও তার দল।