১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩:১৬

ছাত্রলীগের নির্যাতনে আইসিইউতে থাকা সাকিবের টিউশনির টাকায় চলত পরিবার

ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের দুই শিক্ষার্থী  © সংগৃহীত

ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ছাত্র সাকিব হোসেনের বাবা পেশায় দিনমজুর। তার আয় নেই বললেই চলে। টিউশনি করিয়ে নিজের ও ভাইবোনের পড়াশোনা এবং সংসারের খরচ চালাতেন সাকিব। এখন তার ঠাঁই হাসপাতালের আইসিইউতে। অন্যদিকে ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন বাবা আবদুল কাদের।

ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত এমন অভিযোগে গত বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চমেকের প্রধান ছাত্রাবাসে কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সাকিব হোসেন (২২) ও জাহিদ হোসেন ওয়াকিলকে (২২) মারধর করা হয়। ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী তাদের মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময় আবু রাইয়াত (২১) ও মোবাশ্বির হোসেন (২২) নামের আরও দুই ছাত্রকে নির্যাতন করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাকিব ও ওয়াকিল বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সাকিবের ভাই রাকিব হোসেন বর্তমানে নগরের একটি বেসরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন। তিনি জানান, চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খুদুকখালী গ্রামে তাদের বাড়ি। তারা তিন ভাই ও দুই বোন। সাকিব সবার বড়। পড়াশোনার সব খরচ সাকিবই দেন। রাকিব বর্তমানে নগরের একটি বেসরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন।

সাকিবের পরিবারের অবস্থা তুলে ধরেন তার খালাতো ভাই মিজানুর রহমান বলেন, সাকিব কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন।

“সাকিব মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পাঠাতেন বাবার কাছে। কখনো বেশিও পাঠাতেন। সংসারে টানাপোড়েন লেগেই ছিল। টিউশনি করেই পরিবার চালাতেন। কিছু টাকা বাঁচাতে কলেজের ছাত্রাবাসে উঠেছিলেন। নির্যাতনের ঘটনার পর তার মা-বাবা ভেঙে পড়েছেন।”

চমেক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ওই চার ছাত্রকে ছাত্রাবাসের নিজ নিজ কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাদের অন্য একটি কক্ষে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে তাদের বাড়িতে চলে যেতে বলা হয়। রাইয়াত ও মোবাশ্বির বাড়িতে চলে গেলেও জাহিদ ও সাকিব হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। তখন ঘটনা জানাজানি হয়।

চমেকের অধ্যক্ষ সাহেনা আক্তার বলেন, আইসিইউতে থাকা দুজনের অবস্থা এখন স্থিতিশীল। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদন দিলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চমেকে ছাত্রলীগের দুটি ধারা সক্রিয়। একটি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর ও আরেকটি সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন। ওই ঘটনায় মহিবুল হাসানের অনুসারী চমেক ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত বলে জানা গেছে।

এর আগে ২০২১ সালের ৩০ অক্টোবর শাখা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারির পর চমেক বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তখন মারামারিতে মহিবুলপন্থী মাহাদি জে আকিব নামের একজন ছাত্র গুরুতর আহত হন। তার খুলির হাড় ভেঙে গিয়েছিল। এরপর চমেক ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।