০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:০৯

পিটিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকের হাত-পা ভাঙলো সহপাঠীরা

আহত ইন্টার্ন চিকিৎসক জাকির হোসেন  © টিডিসি ফটো

যশোর মেডিকেল কলেজের এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে পিটিয়ে দুই পা এবং এক হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই সহপাঠীদের বিরুদ্ধে। আহত ইন্টার্ন চিকিৎসক জাকির হোসেন বর্তমানে যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত চিকিৎসকের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার মেডিকেল কলেজ ছাত্রবাসের ১০৫ নং।কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে ছাত্রবাস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন করতে চাইলে আহতের বড়ো ভাই জাহাঙ্গীর আলম যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 

আহত জাকির হোসেন বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসক মেহেদী হাসান লিয়ন, শামীম হাসান, আকাশ, আব্দুর রহমান তানিমসহ তিন-চারজন নিয়মিত ১০৪ নং কক্ষে মাদকের আড্ডা বসাতেন এবং মাদকাসক্ত অবস্থায় চিৎকার-চেঁচামেচি করতেন। এতে তার পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটায় তিনি প্রতিবাদ করেন। এর জেরে গত মঙ্গলবার রাতে লিয়ন এবং অন্যরা তার রুমে এসে হকিস্টিক এবং জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে তাকে আহত করেন।

জাকির হোসেন আরও জানান, হামলাকারীরা তাকে মারধরের পর তার রুমে থাকা নগদ অর্থ এবং তার মোটরসাইকেলও নিয়ে গিয়েছেন।

এ বিষয়ে আহতের বড় ভাই জাকির হোসেন বলেন, ‘ভাইকে পড়ালেখা করার জন্য মেডিকেল কলেজে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু এখন সে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই এবং আমার ভাইয়ের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রবাসের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, হামলাকারীদের অধিকাংশই ইন্টার্ন চিকিৎসক। তাদের পড়ালেখা শেষ হয়েছে দুই বছর আগেই। তারপরও ছাত্রলীগের পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে সিট দখল করে থাকছেন।

এদিকে এ ঘটনায় যশোর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এন কে আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী রোববারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। 

এ বিষয়ে এন কে আলম বলেন, ‘আমি তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। তার হাত ও পা ভেঙেছে। এছাড়া বুকের হাড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আহতের বড় ভাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রূপন হালদার বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।