ছাত্র অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে মাদ্রাসা শিক্ষক
মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে রাজধানীর মধুবাগ এলাকা থেকে এক শিশুকে অপহরণে কথা স্বীকার করেছে মাদ্রাসা শিক্ষক মো. মঈনুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে র্যাব-৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপারেশন অফিসার) এএসএম শাখাওয়াত এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর বিমানবন্দর স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সামির (৮) নামের এক শিশুকে উদ্ধার করে র্যাব। এ সময় আটক করা হয় অপহরণকারীকেও। আটক অপহরণকারী হাফেজ মো. মঈনুল ইসলাম (২৪) নোয়াখালী জেলার সোনাপুর সাঈদাতুল আবরার মাদ্রাসার শিক্ষক।
সামির বরিশালের কোতোয়ালি থানার বুখাইনগর গ্রামের মো. কাওসার আহম্মেদ পিন্টুর ছেলে। সামিরের বাবা একজন মাইক্রোবাস চালক। তারা এখন ঢাকার হাতিরঝিল থানা এলাকার মধুবাগ মগবাজারের একটি বাসায় বাস করেন।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, সামিরকে প্রাইভেট পড়াতেন মাইনুল। তাদের পরিবারের সঙ্গে ভাব হয়ে যায় মাইনুলের। পড়ানোর সুবাদে শিশু সামিরও মাইনুলকে পছন্দ করত। পরে চাকরি নিয়ে নোয়াখালীতে চলে যান মাইনুল। কিন্তু ফোনে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। সামিরের বাবা কাওসার আহমদ মাইক্রোবাসচালক।
সামিরকে অপহরণের পরিকল্পনা করে ঈদের পরদিন ঢাকায় আসেন মাইনুল। ওই দিন বিকেলে সামির তাদের বাড়ি মধুবাগের মাঠে খেলছিল। বিকেলে খেলার সময় সামিরকে ফুসলিয়ে খেলা থেকে সরিয়ে আনেন মাইনুল। তারপর তাকে নিয়ে পালিয়ে যান। ঢাকার একটি বাসায় রেখে মাইনুল সামিরের বাবা কাওসারের মাইক্রোবাসে একটি চিরকুট ফেলে যান। চিরকুটে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দুটি মোবাইল ফোন নম্বর লিখে রাখেন মাইনুল। কাওসার পরে র্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মাইনুল ফোন করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি হলে মাইনুল বিমানবন্দর রেলস্টেশনে আসতে বলেন কাওসারকে। সেখানে মাইনুলকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
র্যাব-৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রবিউল ইসলাম জানান, গতকাল শুক্রবার বিকেলে কাওসার টাকা নিয়ে এলে দূর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন মাইনুল। মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে মাইনুলকে শনাক্ত করা হয়।