১০ মে ২০২৩, ১২:১৬

সবার নজর কাড়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ঋতুর ভিন্ন ভিন্ন ফুল

বরিশালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য  © সংগৃহীত

খোপায় জারুল ফুল
কানে সোনালুর দুল,
ঠোঁটে মিঠে হাসি,
তোমার গলার সূর
ভেসে যায় সুমধুর।

দক্ষিণের বাতিঘর নামে খ্যাত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। বরিশাল শহরের কোলঘেসে কীর্তনখোলা ও খায়রাবাদ নদীর মোহনায়, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ।বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর-দক্ষিণ, দুইপাশেই রয়েছে নজর কাড়া দুইটি সেতু।

প্রাচ্যের ভেনিস নামে পরিচিত, সবুজ-শ্যামল বরিশালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা সকলেরই জানা।বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাদামি রঙের ভবন আর সবুজ ক্যাম্পাসও যেন সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি। কখনো কাশফুল, কখনো ছাতিম, কখনোবা কৃষ্ণচূড়া, সোনালু আর জারুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের। প্রত্যেক ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন ফুল সকলের নজর কেরে নেয়।

আরও পড়ুন: ঢাবিতে কৃষ্ণচূড়ার লালগালিচা দেখতে সৌন্দর্য পিপাসুদের ভীড়

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপে যখন মানুষ অতিষ্ঠ, তখন ছায়া দিচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বুক চিরে বেরিয়ে আসা গাছগুলো। সবুজ গাছগুলো ছায়া দিয়েই হাল ছেড়ে দেয়নি,বাহারি রংয়ের ফুল এবং ফলও উপহার দিচ্ছে। 

ক্লাস, এসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, পরীক্ষা দিয়ে ব্যাস্ত, ক্লান্ত পথিক কৃষ্ণচূড়া বিছানো রাস্তায় হেটে প্রশান্তির ছোয়া পায়। কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্যে বিমোহিত সৌম্যকান্তি চক্রবর্তী এই জন্যই হয়তোবা বলেছেন-
কৃষ্ণচূড়ার রং লেগেছে 
মনের গহীন কোণে-
তাইতো ভাবি তোমায় 
এতো পড়ছে কেন মনে?

সোনাঝরা ফুল সোনালুর ফাঁকা দিয়ে সকালে রোদ বেরিয়ে আসে, দেখে মনে হয় যেন গাছ থেকে সোনা ঝরছে। কিশোরীর কানের দুলের মতো বৈশাখী হাওয়ায় দুলতে থাকে হলুদ-সোনালি রঙের থোকা থোকা ফুল। আবার ফুলের ফাঁকে দেখা যায় লম্বা ফল। হলুদে বরণ সৌন্দর্যে মাতোয়ারা করে রাখে চারপাশ।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যে বিমোহিত বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী এস এম সাজিদ বলেন, বসন্তের দিন শেষে তীব্র গরমেও আমরা ফুলের বাহারে স্বস্তির বাতাস অনুভব করছি। ঈদের ছুটি শেষ করে ক্যাম্পাসে ফিরে আশা মাত্রই ক্যাম্পাস আমাদের হলুদ সোনালু, বেগুনি রঙের জারুল এবং লাল কৃষ্ণচূড়া দিয়ে বরণ করে নিয়েছে। সবুজ পাতার ফাঁকে মাথা দোলানো জারুলের বেগুনি পাপড়ি, রক্তলাল বর্ণের কৃষ্ণচূড়া, হলুদ বর্ণের সোনালু বিমোহিত করেছে। প্রতিটি ঋতুতেই কিছু না কিছু ফুল আমাদের মুগ্ধ করে, নিয়ে যায় প্রকৃতির কাছে। কিন্তু পূর্বের সকল সৌন্দর্যকে ছাপিয়ে গ্রীষ্মের এ তিন ধরনের আলাদা আলাদা রঙের ফুলের সমাহার, ফুলের স্নিগ্ধ-কোমল ঘ্রাণ বেশিই মন কেড়েছে। যাকে বলে চোখ ধাঁধানো সুন্দর। মন খারাপ থাকতেই দেয় না।

আরও পড়ুন: ফুলে ফুলে সজ্জিত ভোলার বেগম রহিমা ইসলাম কলেজ, ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বর্ষের ছাত্রী মরিয়ম সাবিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোডের দুই পাশে সবুজ গাছের সারি পিচঢালা রাস্তাকে ছায়া দ্বারা আচ্ছাদিত করে রেখেছে। সবুজে ঘেরা এ মহাসড়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যকে আরও নান্দনিকতা দান করেছে। নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর এ সড়কের দুপাশের টংয়ের দোকানের রং চায়ে চুমুক দিয়ে শিক্ষার্থীরা হারিয়ে যায় কল্পনার জগতে। মহাসড়কটিতে এবং ক্যাম্পাসের ভিতর হাঁটতে হাঁটতে কানে ভেসে আসবে পাখির কিচির- মিচির মৃদু শব্দ। যা বরাবরই এই তপ্ত দুপুরে ক্লাস শেষ এক স্বস্তি নিয়ে আসে।প্রাকৃতিক বাতাসে, পড়ন্ত বিকেলে, গিটার হাতে জমজমাট করে তুলে বন্ধুদের আড্ডার আসর।

পঞ্চাশ একরের এই ক্যাম্পাসে  গ্রীষ্মের গন্ধহীন কৃষ্ণচূড়া, জারুল,এবং সোনালু এ তিন বাহারি রঙের ফুলের সমারোহ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।

মার্কেটিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী জিহাদ খলিফা বলেন, ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা পুরো ক্যাম্পাস, যা অনন্য এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। প্রাকৃতিক শোভা যেন হাত বাড়িয়ে টেনে আনছে ক্যাম্পাসের সকলকে। ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেও প্রতিদিন দর্শনার্থীরা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করার টানে বারবার ছুটে আসেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রতি বছরই আমাদের ক্যাম্পাসে এই সময়টায় বাহারি ফুলে ছেয়ে যায়। ক্যাম্পাসকে এখন আরও বেশি চমৎকার লাগে। বিকেল থেকে সন্ধ্যা, এই সময়টা খুব ভালো লাগে ফুলের স্বর্গে নিজেকে হারিয়ে ফেলি।

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী বৃষ্টি ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার, রাস্তাগুলো, চত্বরগুলো এখন লোকের ভিড়ে কানায় কানায় পরিপূর্ণ থাকে। কেউ ছবি তোলায় ব্যস্ত, কারো হাতে গিটার, কোথাও বসে বন্ধুরা আড্ডা দেয়, কেউবা প্রেমিকের কানে গুঁজে দেয় ফুল। শহরের অনেক দর্শনার্থী এসে টিকটক করে ভাইরাল হওয়ার চেষ্টায় বিভোর। ক্যাম্পাস যেন দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। অনেকেই আবার ছবি তোলার জন্য শাড়ি, পাঞ্জাবি পরে এসেছেন। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে বন্ধুদের সাথে অবসর সময় কাটানোর জন্য ক্যাম্পাসে এসে কখন যে নিজেকে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে হারিয়ে ফেলেছি  বুঝতে পারিনি।