বিজয়ফুল প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব শুরু
বর্তমান প্রজন্মের কাছ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতীয় পর্যায়ে বিজয় ফুল প্রতিযোগিতা ২০১৮ এর চুড়ান্ত পর্ব শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সাতটি বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিযোগিতার বিষয় বিজয়ফুল (শাপলা) তৈরি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প রচনা, কবিতা রচনা, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, একক অভিনয় ও চলচ্চিত্র নির্মাণ। প্রতিযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ, কাপড়, প্লাস্টিক সিট ও অন্যান্য উপকরণ আয়োজকদের পক্ষ হতে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এসডিজিবিষয়ক) মো. মোকাম্মেল হোসেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. আব্দুল মান্নান ইলিয়াস এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক আনজির লিটন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এন এম জিয়াউল আলম বলেন, ‘স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পর্যায়ে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্তঃশ্রেণি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শুরু হয়ে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে যারা বিজয়ী হয়ে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে, তাদের আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। একইসঙ্গে যারা জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হবে, তাদেরও অগ্রিম অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।'
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিজয়ফুল প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো, শিশু-কিশোর ও নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরও ভালোভাবে ধারণ, লালন ও বিকাশ এবং উদ্বুদ্ধকরণে সহায়তা করা। জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে সনদপত্র প্রদান করা হবে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বর্তমান সরকার যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, এটি তার মধ্যে অন্যতম। এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।