০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৭

লিমনকে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, হাইকোর্টের রুল

হাইকোর্ট  © সংগৃহীত

ঝালকাঠির রাজাপুরে ১৫ বছর আগে র‍্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমন হোসেনকে ২ কোটি ৬০ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত র‍্যাব-৮-এর তৎকালীন সাত সদস্যের বর্তমান অবস্থান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্ণয় করে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লিমন হোসেনের দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালতের এই রুল ও নির্দেশনা জারির ক্ষেত্রে জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, আইনসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং র‍্যাব-৮-এর কমান্ডার ইন চার্জসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামে গরু আনতে গিয়ে র‍্যাবের নৃশংসতার শিকার হন তৎকালীন ১৬ বছর বয়সী কিশোর লিমন হোসেন। র‍্যাব তাকে ‘সন্ত্রাসী’ সন্দেহে আটক করে পায়ে গুলি করে এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে লিমনের বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন প্রেক্ষাপটে গত বছর লিমন হোসেন হাইকোর্টে এই রিট আবেদনটি করেন। রিটে লিমনের ওপর বেআইনি বলপ্রয়োগ, অবৈধ আটক, অমানবিক নির্যাতন, পায়ে গুলি করা এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে চরম ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে এই অপূরণীয় ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চাওয়া হয়। এর আগে ২০১৩ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে লিমনকে র‍্যাবের দায়ের করা দুটি হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ বিকালে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার জমাদ্দারহাটে র‌্যাবের অভিযানের সময় লিমন হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। এর কয়েক দিন পর ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার বাঁ পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার মাত্র ১২ দিন আগে এ ঘটনা ঘটে। তখন লিমনের বয়স ছিল ১৬ বছর। সেই বছর তার আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পড়াশোনা করে পরের বছর পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কাঁঠালিয়া পিজিএস বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৪ পান তিনি। এরপর ভর্তি হন সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করছেন।