বড় ২ বোন ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, ছোট আদ্রীকা যোগ দেবেন গুগলে

আদ্রীকা খান
আদ্রীকা খান  © সংগৃহীত

গুগলের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন বাংলাদেশের আদ্রীকা খান। বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জের আলী আকবর খান ও মুনিরা সুলতানার কনিষ্ঠ কন্যা আদ্রীকা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রেই হেডস্টর্ম নামে একটি প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন। গত ৩ মে তিনি গুগল থেকে চাকরির প্রস্তাব পান। নিজের সাফল্যের বিষয়ে সম্প্রতি তিনি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার কথাগুলো শুনেছেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শাহাদাত বিপ্লব

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বাল্যকাল কেমন ছিল, আপনার বেড়ে উঠা-পড়াশোনা সম্পর্কে জানতে চাই
আদ্রীকা খান: আমার জন্ম সাভারে। তবে খুব ছোট বয়সেই ঢাকায় শিফট করি। মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলেই লেখাপড়া করেছি প্রাইমারি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত। একদম কিন্ডারগার্টেন থেকে এ লেভেল কমপ্লিট করেছি মানারাত থেকেই।   

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: পরিবারে কে কে আছেন?
আদ্রীকা খান: পরিবারে আছে আমার মা-বাবা এবং আমার দুই বোন। তিন বোনের মধ্যে আমিই সবার ছোট। বড় আপু তৃনা তুজ্জহুরা এমবিবিএস শেষ করে বর্তমানে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন। আর মেজো বোন আনিকা তাসনিম প্রিয়তি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছেন। বর্তমানে তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে কাজ করছেন। আপু এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য সম্প্রতি ফিনল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বৃত্তি পেয়েছেন।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ছোটোবেলায় সবার স্বপ্ন থাকে। তখন কি স্বপ্ন দেখেছিলেন?
আদ্রীকা খান: অনেক স্বপ্নই দেখেছি। কিন্তু সব সময় নিজেকে অনেক শক্তিহীন মনে হত। মনে হতো এই ছোট্ট ঘরের ছোট্ট মেয়ে কিভাবে পৃথিবীতে পরিবর্তন আনবে? স্বপ্ন দেখতাম যে একদিন অনেক বড় হবো, পৃথিবীতে পরিবর্তন আনব। সেই স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি; তবে আশা করি একদিন পূরণ হবে।  

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বাবা-মায়ের স্বপ্ন কি ছিলো?
আদ্রীকা খান: বাবার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হব। আম্মু বলতো নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: অ্যাডিশনাল ম্যাথে আপনি রেকর্ড মার্ক পেয়েছিলেন, বিষয়টি কেমন উপভোগ করেছেন
আদ্রীকা খান: যখন ফার্স্ট টাইম রেজাল্টা দেখি, বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। চোখে পানি চলে এসেছিলো। সেইদিন প্রথম বুঝেছি ‘খুশির কান্না’ কাকে বলে।

274703965_1347614508996086_515353771661315062_n

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: চলার পথে কেমন প্রতিবন্ধকতা পেয়েছেন? 
আদ্রীকা খান: অনেক। মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন বাঙ্গালী হিজাবি মুসলিম মেয়ে আমি। পরিচয় এর  প্রতিটি অংশই কোনো না কোনো সময় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমার সামনে।

আরও পড়ুন: গুগলে ডাক পেলেন বাংলাদেশি আদ্রীকা

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: অনুপ্রেরণা পেয়েছেন কাদের কাছ থেকে?
আদ্রীকা খান: আমার পরিবার সব সময়ই আমার পাশে ছিল। বিশেষ করে আমার মা ও মেঝো বোন প্রতিটা মুহূর্তেই আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। বাবা ও বড়ো বোনও পাশে ছিল। এছাড়া আমার বন্ধুরা, স্কুলের টিচার, সিনিয়র আপু/ভাইয়া এবং জুনিয়রদের থেকেও অনেক সময় অনুপ্রাণিত হয়েছি। যখনই কাউকে কোনো বড় কিছু অর্জন করতে দেখতাম, সেটা দেখেই অনুপ্রাণিত হতাম।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: কতদূর যেতে চান?
আদ্রীকা খান: কোনো লিমিটেশনে নিজেকে সীমাবদ্ধ করতে চাই না। এতো দূর এসেছি, আরো বহুদূর যেতে চাই। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বাংলাদেশী শিক্ষাব্যাবস্থা নিয়ে আপনার মন্তব্য?
আদ্রীকা খান: আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে যে বাংলাদেশী শিক্ষাব্যবস্থা অনেকই উন্নত। আমাদের দেশে অনেক প্রতিভাবান মানুষ রয়েছে; যারা নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলছে।

কিন্তু আমাদের দেশে সুযোগ-সুবিধার অনেক অভাব। মডার্ন ল্যাব, একুইপমেন্টস থেকে শুরু করে পাওয়ারফুল কম্পিউটার অথবা হ্যান্ডস-অন শিক্ষার জন্য যাবতীয় যা একটা স্টুডেন্টে প্রয়োজন- দেশে সেটার অভাব রয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট কাঠামোর বাইরে যদি কেউ চিন্তা করে, তাদের জন্য এই দেশে তেমন জায়গা নেই। যেইটা খুবই দুঃখজনক। 

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: দেশের জন্য কি করতে চান?
আদ্রীকা খান: আগামী প্রজন্মের জন্য কিছু দিয়ে যেতে চাই।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: অনেকেরই গুগল, মাইক্রোসফটসহ জায়ান্ট কোম্পানিগুলোতে যাওয়ার স্বপ্ন থাকে। তাদের জন্য আপনার কি পরামর্শ থাকবে?
আদ্রীকা খান: ভালো করে পড়াশোনা করতে হবে। কিন্তু তার সাথে ক্রিয়েটিভ-থিংকিং পাওয়ার এবং ক্রিটিকাল-প্রব্লেম-সলভিং স্কিল অর্জন করতে হবে। যদি প্রোগ্রামার হওয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে কোডিং ছোট বয়স থেকে শুরু করলে অনেক কাজে দেবে। লিটকোডিং অথবা নানা প্রোগ্রামিং কনটেস্টে অংশ গ্রহণ করলে সেটা ভবিষ্যতে অনেক কাজে দেবে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ের জন্য ধন্যবাদ।
আদ্রীকা খান: দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের জন্যেও শুভকামনা রইলো।


x