বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী শক্তি দুর্ভাগ্যজনক অধ্যায় পার করছে: অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম

বিএনপি
অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম  © টিডিসি ফটো

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগে প্রায় চার দশক ধরে অধ্যাপনা করছেন আবদুল লতিফ মাসুম। বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার পুরোধা ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মাসুম। তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর আলোচিত কাজের মধ্যে সমকালীন রাজনীতির ভাষা, জাতীয় ঐকমত্য ও উন্নয়ন সংকট, অসমাপ্ত রাজনৈতিক সংস্কার, বাংলাদেশ সমাজ ও রাজনীতি এবং পাশ্চাত্য রাষ্ট্রদর্শন অন্যতম। তিনি জিয়াউর রহমান শাসনামলের নিয়ে একমাত্র পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী গবেষক। অধ্যাপক মাসুম সুশাসন, নিরাপত্তা, সামরিক-বেসামরিক সম্পর্কের ওপর গবেষণায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন।

প্রবীণ এ অধ্যাপকের সাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশের নানাবিধ সংকট নিয়ে কথা বলেছেন বেলাল হোসেন

বেলাল হোসেন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।

বেলাল হোসেন: দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম:  রাজনৈতিক দল সম্পর্কে আমরা সাদামাটা ভাষায় যা বুঝি তা হলো, একটি রাজনৈতিক দলের যদি গণভিত্তি থাকে, দলটি যদি জনগণ কর্তৃক গৃহীত হয়ে থাকে এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সে রাজনৈতিক দলকে শেষ করে দেওয়া যায় না।

আমরা সবাই বুঝি যে, গত এক যুগ ধরে আওয়ামি লীগ যেভাবে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আছে সে কারণেই বিএনপি আগাতে পারছে না। প্রকৃতপক্ষে বিএনপির গণভিত্তি গভীরে প্রোথিত এবং ক্রমশ জনগণের মধ্যে তার আবেদন প্রবল থেকে প্রবলতর হচ্ছে। এর প্রমাণ হিসেবে আমরা বলতে পারি বাংলাদেশে যত নির্বাচন হয়েছে তার মধ্যে অধিকাংশ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করেছে।

আমার মনে পড়ে, ২০১৩ সালে পাঁচটি সিটি নির্বাচনে যখন বিএনপি জয়লাভ করে তখন আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সুতরাং সেই সিদ্ধান্তক্রমে এখন তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একথা মনে করার কোনো কারণ নেই যে বিএনপি অজনপ্রিয় হয়ে গেছে, বরং তার বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। আপনি এইটুকু বিশ্বাস করেন যে যদি ঘোষণা দেওয়া হয়, মিছিলে গুলি করবে না, তাহলে দেখবেন কীভাবে মানুষের ঢল নেমে আসবে!

বেলাল হোসেন: তাহলে গত নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত ছিল?

অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম: বিষয়টি বিএনপির জন্য উভয় সংকটের ব্যাপার। বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ না নিতো তাহলে মানুষই তখন বলতো- হয়তো একটা সম্ভবনা ছিলো, আওয়ামিলীগ হয়তো ফেয়ার নির্বাচন দিতো! কেন তারা অংশগ্রহণ করলো না? আবার এখন অংশগ্রহণ করার পরে যখন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক একটি কুচক্রের কারণে পরাজিত হয়েছে তখন আমরা বলছি কেনো তারা অংশগ্রহণ করলো! এটা যারা নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করে বা যারা রাজনৈতিক দল বুঝে তারা অবশ্যই এপ্রিসিয়েট করবে।

আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র বা কারসাজি মানুষ দেখেছে চোখের সামনে। মানুষকে এখন বক্তৃতা দিয়ে উত্তেজিত করে বা কোনো কথা বলে বোঝানোর দরকার নাই যে কি হয়েছে। আওয়ামী লীগ দৃশ্যত জয়লাভ করেছে কিন্তু অদৃশ্যভাবে তারা অসম্ভব রকমের পরাজয়ের দিকে ধাবিত হয়েছে।

বেলাল হোসেন: বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের কী হবে? নেতৃত্বের জেনারেশন গ্যাপকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম: আপনি ঠিকই বলেছেন। এটা জেনারেশন গ্যাপ তৈরি হয়েছে। তবে তাতে ভয়ের কারণ নেই। সরকারি সব প্রচারণাতে এখন বঙ্গবন্ধু থাকছে। গদ্যে, পদ্যে, ভূগোলে, ইতিহাসে, ভবনে, রাস্তায়, ব্রীজে- সব জায়গায় বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধু করতে করতে জিনিসটা বিলিয়েছে বটে, কিন্তু ভিতরে ভিতরে এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া বা অগ্রহণযোগ্যতাও কাজ করছে। এটা হিসেব করতে হবে গ্রহণযোগ্যতা এবং অগ্রহণযোগ্যতা দিয়ে। কিন্তু অবশেষে যদি চেঞ্জ হয়, চেঞ্জ তো হবেই আজ বা কাল, সে ক্ষেত্রে কোনো রকমের সমস্যা হবে না। বিশেষ করে বাংলাদেশে বিএনপির যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে সে কারণে বড় কোন সমস্যা হবে না।

তাছাড়া বিএনপি প্রচারণায় পিছিয়ে থাকলেও জনমনের ভিতরে এবং পারিবারিকভাবে এখনো শক্তি হয়ে আছে। আপনি জানেন যে বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা পারিবারিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। একটা লোক যদি বিএনপি করে তবে ওই পরিবারের সকলেই বিএনপি করে। সেই ধারায় তার চিন্তা ভাবনা গড়ে উঠে। এ হিসাবও যদি আমরা করি, ইট উইল নট বি অ্যা বিগ প্রব্লেম ফর দি কামিং বিএনপি গভার্নমেন্ট টু মিনিমাইজ দ্য গ্যাপ।

বেলাল হোসেন: ২১ আগস্ট বোমা হামলার বিচার না করার দায় কতটুকু এড়াতে পারে দলটি?

অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম: নীতিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি যে, সম্পূর্ণ দায়টি বিএনপি সরকারের ঘাড়ে। বিএনপি দল হিসেবে নয় বরং ক্ষমতাসীন হওয়ায় সে সরকার দায়ী। কারণ তাদের ক্ষমতা বিরোধীদলকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তা সে ঘটনাটি ভুল অথবা সঠিক যাই হোক না কেনো। শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেত্রী। তার জীবন, তার সম্মান, তার ইজ্জতের নিশ্চয়তা প্রদান করা বিএনপি সরকারের অবশ্যই কর্তব্য ছিল। ইটস অ্যা গ্রেট ফেইলিউর।

আমরা এখন যতটা বুঝি, বাহিরের কোন শক্তি এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে বিএনপি সরকারকে দায়ী করছে বটে, একটা সাধারণ মানুষও বোঝে এটা ভারতের যে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলো রয়েছে সেগুলো এটা করেছে। কারণ হলো তারা মনে করে যে আওয়ামি লীগ ক্ষমতায় আসলে তারা বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে পারবে না, বা কোনো লিনায়েন্সি তারা পাবে না। সেই কারণেই তারা এটা করেছে। এটি স্পষ্ট যে বিএনপি কখনো এটা করেনি। আবার সরকারের ব্যর্থতা এটাও ঠিক।

বেলাল হোসেন: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী বিএনপির সাংসদদের শপথ গ্রহণ নিয়ে দ্বিমুখী সিন্ধান্তের বিষয়টি কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম: আমি এটা সহজভাবে গ্রহণ করি না। ফেইলিউর অন দি পার্ট অব দি গেইম। এই যে  ক’জন, সাত আটজন, এমপি নির্বাচিত হয়েছিল। তারা জাতীয় সংসদে অংশগ্রহণ করবে কি করবে না এটা দরকষাকষির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে। তার কারণ, বিএনপি থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছে, দিস পিপল আর নট অরিজিনালি বিএনপি। এই কারণে লক্ষ্য করেছেন শপথটা বিএনপি করাতে বাধ্য হয়েছে। যেটা মন্দের ভালো। এছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। যদি তখন তাদের শপথ গ্রহণ না করায় তাহলে ওই আদলে বিএনপি না হয়ে আরেকটি সংগঠন করে বা আরেকটি সংসদীয় গ্রুপ করে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়ে যায়। আর যদি করায় তাহলে একটা নতজানু নিজেরই সিদ্ধান্ত নিজেই ভঙ্গ করা হয়ে যায়। অবশেষে পরিবেশের কারণে কিংবা উভয় সংকটের কারণে তাদের শপথ গ্রহণ করাতে বাধ্য হয়েছে বিএনপি।

বেলাল হোসেন: সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এ ধরনের দোলাচল বিএনপির সাথে কতটা ভারসম্যপূর্ণ?

অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম: অবশ্যই। মানে বিএনপি একটা দুর্ভাগ্যজনক অধ্যায় অতিক্রম করছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব কারাগারে রয়েছে। নতুন নেতৃত্ব দূরদেশে রয়েছে। সুতরাং, বিএনপির জন্য একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে এতে কোনো সন্দেহ নাই। তবে আমি এপ্রিসিয়েট করবো যে বিএনপি দল হিসেবে এখনো যে এক ও অভিন্ন থাকতে পেরেছে সেটি বিএনপির বড় অবদান। লোভীরা, যারা লোভ দেখাতে অভ্যস্ত, যারা ভয় দেখাতে অভ্যস্ত, তারা বিভিন্নভাবে বিএনপিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু, ইটস এ প্লেজার পার্ট ফর দ্যা বিএনপি। এইসব কিছুকে অতিক্রম করে বিএনপি এক ও অভিন্ন থাকতে পেরেছে।

আমি মনে করি বিএনপি একটি চূড়ান্ত রাজনৈতিক বিচারে কালেক্টিভ লিডারশীপের নমুনা প্রদর্শন করেছে। বিএনপি সম্মিলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের দূরদর্শীতার প্রমাণ দিয়েছে। এটি ছাড়া বিএনপির সামনে কোনো উপায় ছিল না। হ্যাঁ! অনেক লোক থাকলে সু-নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে অনেক অসুবিধা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছে বা একটু কন্ট্রাডিকটরি হয়েছে ক্ষেত্র বিশেষে। কিন্তু অবশেষে আমি মনে করি যে বিএনপি সফল। বিএনপি তাদের ঐক্য, সংহতি এবং সংগঠনকে শক্তভাবেই ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বেলাল হোসেন: বাংলাদেশের রাজনীতিতে রক্তের উত্তরাধিকার এবং আদর্শের উত্তরাধিকার ধারণাকে কীভাবে দেখেন?

অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম: একজন রাজনৈতিক নেতা তৎকালীন স্বরাষ্টমন্ত্রী মনসুর আলীকে বলেছিলেন যে, মনসুর! সারা বাংলা তো সোনার বাংলা করে ফেলবা! তো আমাকে মাটি দেওয়ার জন্য অন্তত একটু মাটি রাইখো। তো এটা সেই সোনার বাংলা হবে যদি আওয়ামী লীগ বৃহত্তর দল বিএনপিকে উচ্ছেদ করে সোনার বাংলা করতে চায়। বাংলাদেশে যে ট্রাডিশনাল লিডারশীপ চলে আসছে তাতে ক্যারিশমাটিক লিডারশিপ, যাকে আমরা সম্ভাবনীয় নেতৃত্ব বলি, সেই নেতৃত্ব বা বংশীয় নেতৃত্ব বা পারিবারিক নেতৃত্ব। এখানে সাধারণত জনগণ তাই গ্রহণ করেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং এই উত্তরাধিকারের বিষয়টি নিয়েই আমাদের চলতে হবে। এটিই বাংলাদেশের প্রিয় বা অপ্রিয় বাস্তবতা যে, শেখ সাহেব এবং জিয়াউর রহমানকে সামনে রেখে রাজনীতি করতে হবে। যারাই এই মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হবে তারাই জিরো হয়ে যাবে। ড. কামাল হোসেন, ওবায়দুর রহমান, শাহ আজিজুর রহমান এর মত অনেক বড় বড় নেতা জিরো হয়ে গেছে। সেই নেতৃত্ব সফল হবে যেখানে রক্তের উত্তরাধিকার এবং আদর্শের উত্তরাধিকার যেটা তারেক রহমানের নেতৃত্বের মাধ্যমেই বিএনপি সফল হবে।

বেলাল হোসেন: ভারতীয় উপমহাদেশে উত্তরাধিকারের রাজনীতি থেকে বের হওয়ার সুযোগ আছে কি?

অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম: অবশ্যই সুযোগ আছে। একেকটা দেশের রাজনীতি একেকভাবে নির্ধারিত হয়। পাকিস্তান, ভারতে উত্তরাধিকার এর রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে। পাকিস্তান নওয়াজ শরিফ বা বেনেজির ভুট্টোর উত্তরাধিকার রাজনীতি চায়না বলেই আজ ইমরান খান ক্ষমতায়। ভারতে উত্তরাধিকার দুর্বলতার কারণে কংগ্রেস ক্ষমতাসীন হতে পারেনি। মাঝখান থেকে মোদি নানা কায়দায় জনপ্রিয়তা অর্জন করে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না ভারতেও এই নেতৃত্ব বেশি দিন বজায় থাকবে। সেখানে উত্তরাধিকার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে তাতেই ফিরে আসবে। কংগ্রেস নেতৃত্ব সোনিয়া গান্ধীর বাহিরে চিন্তাই করা যায়নি। রাহুল গান্ধী পদত্যাগ করেছেন কিন্তু তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী স্বরূপে ফিরেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতি করতে হলে জিয়াউর রহমান বা বঙ্গবন্ধু ছাড়া বিকল্প নেই। এর পরে যদি সময় অতিক্রান্ত হয় তাহলে তৃতীয় শক্তির অভ্যূদয় হতে হবে। কিন্তু সেটা হওয়াটাও কঠিন হবে। যদি জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় যেতে চায় তাহলে এই দুইটার যেকোন একটিকে ভর করেই যেতে হবে। কারণ, বিএনপি থেকে পৃথক হয়ে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন করে দেখেছে যে তারা দুই থেকে তিনটা সিট পায়। তাই তারাও মনে করে একটা পপুলার দলকে সমর্থন করে ভালো কিছু করা যেতে পারে।

বেলাল হোসেন: খালেদা জিয়া মুক্তির আন্দোলনে বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম: আমি মনে করি না বিএনপি যথার্থ ভূমিকা পালন করছে। আমার মনে হয় তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করা উচিত ছিলো। আল্লাহ না করুন যদি খালেদা জিয়া বেঁচে না থাকে- কারণ, আমি মনে করি সরকারের পরিকল্পনা তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া- তাহলে জাতির জন্য তা হবে দুর্ভাগ্যজনক। খালেদা জিয়া রাজনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আমি রাজনৈতিক সমর্থক হয়ে বলছি না। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। সবাই বিশ্বাস করে যে বাংলাদেশকে যদি স্বাধীন থাকতে হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের বিকল্পও থাকতে হবে।


মন্তব্য

x