করোনায় অনলাইন বিজনেস করে লাখপতি রাবি শিক্ষার্থী সজল

উদ্যোক্তা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাঈদ সজল  © টিডিসি ফটো

করোনা মহামারির প্রকোপে ছন্দহীন বিশ্ব। স্থবির হয়ে পড়েছে অর্থনীতির চাকা। ফলে জনজীবনে বেড়েছে হতাশা ও দীর্ঘশ্বাস। একইসাথে অচল হয়ে পড়েছে শিক্ষাকার্যক্রম। করোনার করাল গ্রাসে বাদ যায়নি বাংলাদেশও। দীর্ঘ লকডাউনে একদিকে যেমন থমকে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা; অন্যদিকে শিক্ষাকার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ ছুটিতে অলস সময় পার করতে করতে এক প্রকার হাঁপিয়ে উঠছেন তারা। কিন্তু এই বিরূপ পরিস্থিতিতে থেমে না থেকে ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন দেশের তরুণ কিছু শিক্ষার্থী।

করোনাকালেই তারা নিজেকে গড়ে তুলেছেন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে। ঠিক তেমনি এক তরুণ উদীয়মান উদ্যোক্তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী সাঈদ সজল। যিনি করোনার অলস সময়কে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেই অনলাইন থেকে উপার্জন করছেন লাখ টাকা। করোনায় শিক্ষার্থীরা যখন ঘরবন্দী জীবনযাপন হতাশ, তখন ঘরে বসে কিভাবে নিজের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগাতে সক্ষম হলেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের রাবি প্রতিনিধির সাক্ষাৎকারে তার নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন সাঈদ সজল। সজল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী। 

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: করোনার ছন্দহীন জীবনে শিক্ষার্থীরা যখন হতাশ, তখন আপনার এই সফলতার যাত্রা হলো কিভাবে?

সাঈদ সজল: করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় যখন বন্ধ হয়ে যায় তখন স্বাভাবিকভাবে বাড়ীতে চলে আসি। এভাবেই কয়েকমাস কেটে যায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় আর খোলে না। ফলে এই অবসর সময়েকে কিভাবে কাজে লাগানো যায়, এবিষয়ে ভাবতে থাকি। একদিন হঠাৎ নূর ইসলাম নামের এক ক্লাসফ্রেন্ডের কাছ থেকে অনলাইন বিজনেস সম্পর্কে দিক-নির্দেশনা পাই। পরে হলের এক সিনিয়র ভাই রিং আইডিতে আয়ের পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত করেন। ফলে আমারও ঘরে বসে অনলাইনে আয় করার একটা আগ্রহ সৃষ্টি হয়। সেই ইচ্ছে থেকেই কিছুদিন পরে সামান্য পুজি নিয়ে আমিও রিং আইডিতে কাজ শুরু করি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: অনলাইনে কাজ করতে প্রাথমিক ভাবে কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন?

সাঈদ সজল: শুরুর দিকে কাজগুলো বুঝে উঠতে একটু সময় লেগেছিল। তবে অনলাইনে পূর্বের অভিজ্ঞতা থাকায় তেমন কোন সমস্যা হয় নি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: করোনায় অনেক শিক্ষার্থী অনলাইনে উপার্জন করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এমন কথা মাঝেমধ্যেই শুনা যায়, আপনি কি কখন এমন সমস্যার শিকার হয়েছেন?

সাঈদ সজল: হ্যাঁ, আমিও প্রায় এমন ঘটনার কথা শুনে থাকি। তবে আমি যেগুলোতে কাজ করেছি। সেখানে এখন পর্যন্ত এমন কোন সমস্যার শিকার হয়নি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: শুরুতে কত টাকা পর্যন্ত আয় করতেন?

সাঈদ সজল: প্রাথমিকভাবে এতে দৈনিক ৫০০ টাকা আয় হতো। ফলে মাস শেষে ভালো পরিমান একটা অর্থ আমার হাতে আসত।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: এর পাশাপাশি আপনি অন্য আরও কোন কিছু করতেন?

সাঈদ সজল: হ্যাঁ, আমি উপার্জিত এই অর্থ অযথা খরচ না করে আস্তে আস্তে সেখানে বিনিয়োগ আরো বাড়াতে থাকি। ফলে কয়েকমাসের মধ্যেই আমার মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হতে থাকে। সুতরাং কালবিলম্ব না করে আরো কয়েকটি অনলাইন বিজনেসে পুঁজি খাঁটানো শুরু করি। যার ফলে সেখান থেকেও মাস শেষে ভালো পরিমাণ একটা অর্থ আসতে থাকে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: অনলাইন থেকে এখন আপনার মাসিক আয়ের পরিমাণ কেমন?

সাঈদ সজল: যেহেতু অনেক কয়েকটা অনলাইন সাইটে পুঁজি খাটিয়েছি। তাই সবগুলো থেকে মাস শেষে প্রায় লাখ খানেক টাকা পর্যন্ত আসে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: স্টুডেন্ট থাকা অবস্থাতেই আপনি প্রায় অনেক টাকা আয় করছেন, এ বিষয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

সাঈদ সজল: বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই আমার উদ্যেক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল। আর সেজন্যই অনেক চেষ্টাও অব্যাহত রেখেছি। এখন আমি রিং আইডিতে এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী আমার সাথে যুক্ত হয়ে উপার্জনক্ষম হতে সক্ষম হয়েছেন। সুতরাং পড়াশোনা পাশাপাশি এভাবেই নিজেকে তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি অন্যান্য তরুণ উদীয়মান উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করতে চাই।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার মতো তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু বলতে চান?

সাঈদ সজল: হ্যাঁ অবশ্যই। তরুণ সমাজের উদ্দেশ্যে এটুকুই বলতে চাই, সময় কারো জন্য বসে থাকে না। তাই অবস্থা যেমনি হোক না কেন, নিজের মেধা সৃজনশীলতা ও কর্মপ্রচেষ্টা দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি নির্ভর এই বিশ্বের বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

সাঈদ সজল: দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকেও ধন্যবাদ।


মন্তব্য

x