মেয়েরা প্রমাণ করেছে তারাও সব পারে

মেয়েরা প্রমাণ করেছে তারাও সব পারে
  © টিডিসি ফটো

আজ ৮ মার্চ। বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। মজুরি বৈষম্য, কর্মঘন্টা নির্ধারণ ও কর্মক্ষেত্রে বৈরি পরিবেশের প্রতিবাদ জানিয়ে ১৮৫৭ সালের এইদিনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সুতা কারখানার একদল শ্রমজীবী নারী আন্দোলন শুরু করে। তাদের ওপর দমন-পীড়ন চালায় মালিক পক্ষ। নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮০ সালে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ও রাজনীতিবিদ ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে প্রথম নারী সম্মেলন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ দিনটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করছে। এ দিবসটি নিয়ে দেশে রাষ্ট্রীয় ও সাংগঠনিকভাবে অনেক আয়োজন থাকে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে নারী অধিকারসহ নানান অভিজ্ঞতা নিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্সেসের সহকারী অধ্যাপক ঊম্মে হাবিবার সাথে একান্তে কথা বলেছেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসে’র প্রতিনিধি আবদুর রহমান-

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করছেন। এই অবস্থানে আসার শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?
ঊম্মে হাবিবা: আসলে শিক্ষকতা পেশাটাই আমার প্রধান টার্গেট ছিল এবং আমি সেভাবেই আমার প্রিপারেশন নিয়েছিলাম। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি দুইবার শিক্ষকতার জন্য আবেদন করেছিলাম। আমি ব্যর্থ হয়েছিলাম নানা জটিলতার কারণে, কিন্তু  থেমে থাকিনি। একটা কথা আছে না? চেষ্টা করলে আল্লাহ তাকে সফল করবেনই। আমি সেই সফলতার অপেক্ষা করছিলাম এবং একদিন সেই সুখবর পেলাম। সত্যি কথা বলতে কি আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে অনেক কৃতজ্ঞ, তিনি আমাকে যে প্লাটফর্ম দিয়েছেন সেটা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। আমাকে তেমন কোন কষ্টই করতে হয়নি, আল্লাহ আমার মেধার মূল্য দিয়েছিলেন। আমি বিশ্বাস করি চেষ্টা মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত সাফল্যে আনবেই।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: এই পথ পাড়ি দিতে কোনো বাধার সম্মুখীন কি হয়েছেন?
ঊম্মে হাবিবা: এই পথ আসলেই এত সহজ না কারো কারো জন্য। বাস্তবিক পক্ষেই মেয়েদের ক্ষেত্রে আমি বলবো একটু বাধার সম্মুখীন হতে হয়। আমার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছিল সেটা পারিবারিক সমস্যা ছিল, যেমন আমি একা কিভাবে সেখানে থাকবো এই রিলেটেড, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে আরো হয়তো কিছু পারিপার্শ্বিক সমস্যা থাকতে পারে। সব থেকে বড় কথা, মানুষ যখন তার কাঙ্ক্ষিত সফলতা পেয়ে যায় তখন আর কোন বাধা তাকে আটকাতে পারে না সেটা যত বড় বাধাই আসুক।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: নারী দিবস নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
ঊম্মে হাবিবা: এ দিবস নিয়ে ভাবনার অনেক কিছুই তো আছে, একটু কবিতার ভাষায় বলি-
নারী তুমি আজ সকাল থেকে, কাজকে ফাঁকি দিও,
নারী তুমি আজ কাজের মাঝে, নিজেকে সময় দিও
… নারী তুমি আজ স্বাধীন হয়ো,
নারী দিবসের দিনে, নারী তুমি বুঝিয়ে দিও মা শব্দের মানে
- নীলাঞ্জনা ঘোষ

একটু একান্তে নিজের সময়টা পার করতে চাই, পড়াশুনা, অফিসের কাজ, সংসারের কাজ থেকে ছুটি নিতে চাই, হা হা হা। একজন নারী আসলে এসব কাজ থেকে কখনও কী ছুটি নিতে পারে? কাজ করতেই হয়। তাই আমার ভাবনা এ দিবস নিয়ে “নারী তুমি এগিয়ে যাও আপন গতিতে, সব বাধা কে পেরিয়ে”।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার দৃষ্টিতে দেশে নারীদের অগ্রগতি কতটা হয়েছে?
ঊম্মে হাবিবা: আমার দৃষ্টিতে আমি বলবো এ দেশে নারীরা কোন কিছুতেই পিছিয়ে নেই। উদহারণ স্বরূপ, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তিনি একজন নারী, পুরো দেশ এর দায়িত্ব তিনি তাঁর অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি তিনি অনান্য নারীদের অধিকার আদায়ে অসাধারণ ভূমিকা পালন করছেন। যেখানে আমাদের দেশরত্ন শেখ হাসিনা নারীদের পাশে আছেন, সেখানে নারীরাতো এগিয়ে যাবেনই।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: কাজের ক্ষেত্রে নারীরা এখন কেমন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে?
ঊম্মে হাবিবা: আসলে কর্মক্ষেত্রে নারীরা ছেলেদের মতই সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে বলে আমি মনে করি। একসময় ছিল যখন ভাবা হত মেয়েরা শুধু সংসার সামলাবে, কিন্তু আজ মেয়েরা প্রমাণ করেছে তারাও সব পারে। তারা কারও মা, কারও স্ত্রী, কারও বোন এরকম কত সম্পর্কে আবদ্ধ থেকেও কাজ করে যাচ্ছে দেশের জন্য, মানুষের জন্য। আরও একটি কথা আমি বলতে চাই, আমার কাছে মনে হয় মেয়েরা ছেলেদের থেকেও অনেক বেশি কাজ করে এবং আমাদের দেশে মেয়েরা কর্মক্ষেত্রেও কোন অংশে ছেলেদের থেকে পিছিয়ে নেই।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: নারী নির্যাতনের প্রভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর জন্য আপনি কাকে দায়ী করবেন?
ঊম্মে হাবিবা: নারী নির্যাতন আসলে অনেক রকমের হয়, শারিরীক, মানসিক, আর্থিক ইত্যাদি। আসলে এর পেছনে আমি বলবো শিক্ষার অভাব দায়ী, কুসংস্কার দায়ী, সামাজিক অবক্ষয় দায়ী, আবার অনেক শিক্ষিত লোকও তার সুদৃষ্টিভঙ্গির অভাবে নারী নির্যাতন করেন।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: একজন নারীর সফলতার মূলে কোন অনুষঙ্গগুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সে ক্ষেত্রে পরিবারের সহযোগিতা কতোখানি দরকার বলে আপনি মনে করেন?
ঊম্মে হাবিবা: আমার কাছে মনে হয়, নারীর সফলতার মূলে যেসব অনুষঙ্গগুলো সহায়ক হিসেবে কাজ করে সে বিষয়গুলোর মধ্যে সব থেকে জরুরি হলো তার পরিবারের সাপোর্ট। একজন নারী কখনও এগিয়ে যেতে পারে না তার পরিবারের সাপোর্ট ছাড়া। উদাহরণস্বরূপ, আমি আমার এই অবস্থানে কখনও আসতে পারতাম না আমার মা-বাবা এবং স্বামীর সাপোর্ট ছাড়া। এছাড়াও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে ইচ্ছেশক্তি, এটা যদি না থাকে তাহলে সফলতা কখনই আসতে পারে না।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার আজকের সফলতার পেছনে অবশ্যই বাবা-মায়ের ভূমিকা রয়েছে। তাদের সম্পর্কে যদি কিছু বলেন?
ঊম্মে হাবিবা: বাবা-মা কেমন একটা বেহেশতি সম্পর্ক আমি মনে করি। জীবন চলবেই না তাদের ভালোবাসা ছাড়া। সেই হাটতে শেখানো থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি পাতায় যেন তাদের অবদান সীমাহীন। আমার সফলতার পিছনে তাদের অবদান ভুলার নয়। সব সন্তানদের বেড়ে উঠার পেছনেই তাদের বাবা-মায়ের অবদান থাকে।

আমার ব্যাপারে একটি ঘটনা বলতে চাই, যখন আমি এসএসসি পরীক্ষা দেই আমি আমার মায়ের মুখ থেকে একটা কথা শুনেছিলাম যে, সে বলছিল, “আমার ছেলেমেয়ের পড়ালেখাই আমার কাছে সেরা, সেখানে যদি আমরা না খেয়ে থাকি তাতেও সমস্যা নেই, সেখানে যদি আমার কোন কিছুর শখ ও থাকে আমি তা পূরণ করবো না।”

এইতো কদিন আগে আমার মা আমার বাসায় এসেছিলেন আমি তাকে বলেছিলাম, “মা সারাজীবন শুধু আমাদের জন্য নিজের কোন শখই পূরণ করতে পারোনি, চলো আজ তুমি যা চাও তোমাকে তাই কিনে দিব” তখন আমার মায়ের চোখে আনন্দ অশ্রু দেখতে পাই। এটাই আমার শান্তনা যে তারা তাদের জীবনের সমস্ত শখগুলোকে বিসর্জন দিয়েছেন শুধু আমাদের জন্য। এখন আমাদের সময় তাদের খেয়াল রাখা।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার অবসর কীভাবে কাটে, আপনার শখ ইত্যাদি সম্পর্কে যদি বলেন?
ঊম্মে হাবিবা: আমি আমার অবসর সময়টা আমার বাচ্চাকে সময় দেই। আমি ক্রাফটের কাজ করতে খুব ভালোবাসি, সেটাও করি। আবার মাঝে মাঝে পরিবারের সাথে বেড়াতে যাই। আর আসলে মেয়েদের অবসর বলতে কিছু নেই, কারণ মেয়েদের পরিবার এর জন্য রান্না করতেই হবে। আমি রান্না করতেও ভালোবাসি, মাঝে মাঝে নতুন কিছু রান্না করার চেষ্টা করি পরিবারের জন্য। আরেকটি কথা না বললেই না, আমি খুব ভালোবাসি ছেলের সাথে তার প্রিয় কার্টুন গুলো দেখি, আমিও খুব এনজয় করি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ঊম্মে হাবিবা: দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকেও ধন্যবাদ।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ